kalerkantho


বইমাস ২০১৮

তৃতীয় উপন্যাস 'বৃষ্টিমহল' নিয়ে বইমেলায় ওয়াসিকা নুযহাত

ইমরোজ বিন মশিউর   

৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ১২:১৩



তৃতীয় উপন্যাস 'বৃষ্টিমহল' নিয়ে বইমেলায় ওয়াসিকা নুযহাত

সময়ের সাথে সাথে পাল্টে যায় জীবনের গতিপথ। একই গণ্ডিতে বেড়ে ওঠা মানুষগুলোর প্রত্যেকের সামনে খুলে যায় ভিন্ন ভিন্ন একেকটি দরজা। বেছে নিতে হয় বিচিত্র সব গন্তব্য। ধীরে ধীরে প্রিয় মুখগুলো হারিয়ে যেতে থাকে আটপৌরে জীবনের নানা টানাপড়েনের মাঝে। কুড়িয়ে পাওয়া কিছু বাদামি সন্ধ্যেবেলায় হঠাৎ হঠাৎ কেবল মনে পড়ে যায় যৌবনের হারানো বন্ধুদের কথা।

হ্যাঁ, বন্ধুদের আলাদা জায়গা থাকে। কিন্তু ক'জন পারে সেই জায়গাটিকে সারাটি জীবনভর বুকের মাঝে ধারণ করতে? কেউ কেউ পারে। অন্তত পারতে চায়। শেষমেশ হয়তো পারা হয়ে ওঠে না কিন্তু চেষ্টাটা তারা ষোলো আনাই করে।

তেমনই কিছু মানুষকে নিয়ে গড়ে উঠেছে এ উপন্যাস। যারা বন্ধুর জন্য বরাদ্দ জায়গাটিকে আজীবন সুরক্ষিত রাখতে চায়। একজন আরেকজনের হাতে হাত রেখে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাটাতে চায় জীবনের প্রতিটা বসন্ত। যাদের প্রত্যেকের শুধু একটিমাত্র গন্তব্য। সে গন্তব্যের নাম বৃষ্টিমহল।

আরো পড়ুন : বইমেলায় পাওয়া যাচ্ছে মোস্তফা কামালের 'অগ্নিপুরুষ' 

বইটি লেখা এ প্রজন্মের এক ঝাঁক তরুণ-তরুণীকে নিয়ে। তাদের মধ্যকার বন্ধুত্বের সম্পর্ক এবং কিছু টুকরো ঘটনা নিয়ে গড়ে উঠেছে এ উপন্যাস। এর মাঝেই বৃষ্টিমহল দেশের তরুণ পাঠকমহলে প্রশংসিত হয়েছে। বইটি পাওয়া যাচ্ছে একুশে বইমেলার স্টল নম্বর ৬৮, বাংলার কবিতা পত্র, লিটল ম্যাগ চত্বর, বাংলা একাডেমিতে। এটি লেখিকার তৃতীয় প্রকাশিত উপন্যাস।

ওয়াসিকা নুযহাত। আইন বিষয়ে স্নতক স্নাতকোত্তর। মানবাধিকারকর্মী হিসেবে কাজ করেছেন কিছুদিন। বর্তমানে 'সৃষ্টি সুখে' ত্রৈমাসিক সাহিত্য পত্রিকায় নির্বাহী সম্পাদক। লেখালেখির শুরু ছোটবেলা থেকেই। প্রথম লেখা প্রকাশ পায় প্রথম আলোর ছুটির দিনে সংখ্যায়। এ ছাড়া 'কিশোর তারকালোক'সহ বিভিন্ন কিশোর পত্রিকায় নিয়মিত লিখতেন, লেখেন।

২০১৬ সালের একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হয় প্রথম উপন্যাস 'খাঁচার ভিতর অচিন পাখি'। উপন্যাসের মূল উপজীব্য ছিল লালন দর্শন ও জীবন বোধ। দ্বিতীয় বই প্রকাশিত হয় ২০১৭ সালের বইমেলায়। এটিও উপন্যাস, নাম 'মাঝে মাঝে তব'।
তারই ধারাবাহিকতায় এ বছর প্রকাশ পেল 'বৃষ্টিমহল'।

আরো পড়ুন : মেলার প্রথম দিনেই ফারজানা মিতুর দুটি বই

বইটি সম্পর্কে লেখিকা বলেন, এটি আসলে একটি স্বপ্নের নাম। একদল তরুণ-তরুণী দল বেঁধে একটি স্বপ্ন দেখে। স্বপ্ন ভাগাভাগি করে নেওয়ার একটা আলাদা রকমের আনন্দ আছে। ছেলে-মেয়েগুলো সেই আনন্দটি তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করে বেড়ায় সারাটা উপন্যাসজুড়ে। ওদের মধ্যকার ভাব, ভালোবাসা, প্রেম এবং সর্বোপরি বন্ধুত্ব নিয়েই গড়ে উঠেছে এই গল্প। আশা করি প্রতিটা বন্ধুপ্রেমী মানুষের এই উপন্যাসটি ভালো লাগবে। আর এ কারণেই বইটি উৎসর্গ করেছি পৃথিবীর সমস্ত বন্ধুপাগল মানুষদের। 

'আপনার লেখার মূল বিষয় কী'- এমন প্রশ্নের জবাবে ওয়াসিকা বলেন, আমার লেখার কোনো নির্দিষ্ট বিষয় নেই। যখন যা ইচ্ছে করে তাই লিখি। তবে জীবনের গল্প বলতেই আমি বেশি ভালোবাসি। লেখালেখি চালিয়ে যেতে চাই। লিখতে আমার ভালো লাগে। সারা দিনের মাঝে লেখালেখির সময়টা আমার সবচাইতে আরাধ্য। লেখার মাঝে আমি মুক্তির স্বাদ খুঁজে পাই।    


মন্তব্য