kalerkantho


কারা আল্লাহর প্রিয় বান্দা?

মুহাম্মাদ মিনহাজ উদ্দিন   

১৯ ডিসেম্বর, ২০১৭ ২১:৪৮



কারা আল্লাহর প্রিয় বান্দা?

মানুষ সমগ্র সৃষ্টিজগতের সর্বশ্রেষ্ঠ জীব। জ্ঞান-গুণ, বিবেক-বোধ, বুদ্ধিমত্তা-তৎপরতা, কার্যদক্ষতা ও জীবনব্যবস্থা থেকে শুরু করে আনুসাঙ্গিক প্রতিটি ক্ষেত্রে মানুষ অপরাপর অন্যান্য সৃষ্টি থেকে ব্যতিক্রম ও প্রাগ্রসর। জীবন ও জগতের সব কিছুতে মানুষের স্বকীয়তা-অনন্যতা ও বৈশিষ্ট্য দেদীপ্যমান। আল্লাহ তাআলা মানুষকে সমুজ্জ্বল ও প্রকৃষ্ট বহুবিধ গুণাবলি দ্বারা ঋদ্ধ করেছেন, যা মানুষকে সৃষ্টিকুল থেকে সামগ্রিকভাবে আলাদা করে তুলেছে। আল্লাহ তাআলা কোরআনে ইরশাদ করেন, ‘আমি আদম সন্তানদের মর্যাদাশীল করেছি।’ (সুরা বনি ইসরাইল-৭০) 

পবিত্র আল-কোরআনের সুরা বাকারাতেও আল্লাহ তাআলা মানুষের মান-মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং ফিরেশতাদের অনুযোগের কথা উল্লেখ করেছেন। তাতে আল্লাহর পক্ষ থেকে মানুষকে মর্যাদা দানের কারণ ও যথার্থতা বিধৃত হয়েছে সুন্দরভাবে।

মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম মানুষ হলেন ঈমানদাররা। তবে ঈমানদারদের স্তরেরও তারতম্য রয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ আছেন যারা মানবজগতের মধ্যে বিশেষ মর্যাদাবান। তাঁরা কাজকর্ম, ইবাদত-বন্দেগি ও সার্বিক কার্যকলাপর দ্বারা সর্বদা আল্লাহর সন্তুষ্টি ও সান্নিধ্যপরশ কামনায় মগ্ন থাকেন এবং প্রতিনিয়ত নিজেদের প্রভুর সকাশে আত্মসমর্পিত রাখেন। ফলে তাঁরা আল্লাহর সমধিক ভালোবাসা ও করুণা লাভে ধন্য হন। 

তাঁদের অনেক গুণাবলী ও বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যদ্দরুন আল্লাহ তাআলা তাঁদের অত্যধিক ভালোবাসেন এবং তাঁদের প্রতি করুণা ও দয়া-অনুকম্পার হাত প্রসারিত করেন। সুরা ফুরকানে আল্লাহ তাআলা তাঁদের বিভিন্ন গুণাবলী ও বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করেছেন। আমরা সুরা ফুরকানের ৬৩ নাম্বার আয়াত থেকে ৬৯ নাম্বার আয়াত পর্যন্ত আলোচিত তাঁদের বিভিন্ন চরিত্র-বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলিগুলো নিয়ে সংক্ষিপ্তরূপে আলোকপাতের প্রয়াস পাবো।

আল্লাহ তাআলার দাসত্ব : মানুষ যেহেতু আল্লাহর ‘আব্দ’ বা দাস, সে হিসেবে দাসের কাজ হচ্ছে সদা প্রভুর আদেশ-নিষেধের অনুগত থাকা। প্রভুর সামনে দাসের আশা-আকাঙক্ষা কিংবা ইচ্ছা-অনিচ্ছা বলতে কিছু থাকে না। তার সব কিছু আল্লাহর মর্জির ওপর নির্ভরশীল। যে আল্লাহর প্রকৃতপক্ষে বান্দা হওয়ার যোগ্য, সে তার ইচ্ছা-অনিচ্ছা, অভিরুচি সবকিছু আল্লাহর ইচ্ছাধীন সম্পাদন করে থাকে এবং সর্বদা আল্লাহর আদেশ-নিষেধ অবনত মস্তকে পালন করে। এ জন্যেই ইসলাম শব্দের অর্থ হচ্ছে পূর্ণ আত্মসমর্পণ। (Compllete surrender into the almighty allah) অর্থাৎ আল্লাহর সকল হুকুম-আহকাম বিনা দ্বিধা-সংকোচে এবং যুক্তিতর্ক ও প্রশ্নের অবতারণা ব্যতিরেকে নিরঙ্কুশভাবে মেনে নেওয়া। এ জন্যে একজন খাঁটি মুমিনের প্রথম পরিচয় হবে আল্লাহর হুকুম-আহকাম সর্বোতভাবে ও অকুণ্ঠচিত্তে মেনে চলা।

পৃথিবীতে নম্রভাবে চলাফেরা করা : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আল্লাহর বান্দা হলো তারা, যারা জমিনে বিনীতভাবে চলাফেরা করে।’ (সুরা ফুরকান-৬৩) অর্থাৎ তাঁদের চালচলনে বিনয়-স্থিরতা ও নিরহঙ্কার প্রকাশ পায়। আত্মগরিমা, শঠতা ও দাম্ভিকতা দেখা যায় না। তাদের দৃষ্টি নিম্নগামী হয় এবং তারা দৃঢ় পদক্ষপে পথ চলে। আল্লাহভীতির কারণে তাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সদা নমনীয় থাকে এবং যত্রতত্র সেগুলোর ব্যবহার থেকে তারা বেঁচে থাকে। প্রকৃতপক্ষে তাঁরা দুর্বল-ভীরু কিংবা অক্ষম নয়। বরং আল্লাহভীতি ও আখিরাতের চিন্তা তাঁদের সজ্জন, সহনশীল এবং নমনীয় ও স্বল্পভাষী করে রাখে। 

মূর্খজনোচিত আচরণের বিপরীতে শান্তির বার্তা : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘মুর্খেরা যখন তাদের সঙ্গে বাক-বিতণ্ডা করে তখন তারা বলে, তোমাদের ওপর সালাম বা শান্তি বর্ষিত হোক।’ (সুরা ফুরকান-৬৩) 

এখানে সালামের অর্থ মুসলমানেরা পরস্পর দেখা-সাক্ষাতে অভিবাদন জানানের ধর্মীয় মাধ্যম সালাম নয়। বরং ওই অজ্ঞের শান্তি-সুখ ও নিরাপত্তা কামনা করা এবং বুঝিয়ে দেওয়া যে তোমার অজ্ঞতাপ্রসূত আচরণের জবাব আমি মূর্খতা দিয়ে দেব না। তোমার সঙ্গে ঝগড়াও করব না। বরং তোমার শান্তি-সমৃদ্ধি ও মঙ্গল হোক, সেটাই আমি কামনা করি। আল্লাহ তাআলা অন্য জায়গায় বলেছেন, ‘ভালো ও মন্দ কখনো সমান হতে পারে না। মন্দকে ভালো আচরণ দ্বারা প্রতিহত করো। অতএব যার সঙ্গে তোমার শত্রুতা রয়েছে, সে হয়তো তোমার পরমপ্রিয় বন্ধু হয়ে ওঠবে।’ (সুরা ফুসসিলাত- ২৫)

সিজদা ও নামাজরত অবস্থায় রাত্রিজাগরণ করা : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা তাদের রবের ইবাদতে সিজদা ও দণ্ডায়মান অবস্থায় রাত্রিজাগরণ করে।’ (সুরা ফুরকান-৬৪)

যাঁরা ইবাদতের নিমিত্ত নিদ্রা ও শয্যা ত্যাগ করে রাত্রিজাগরণ করে, তাঁরা নিশ্চয় আল্লাহর প্রিয় বান্দা। শেষ রাতের তাহাজ্জুদ নামাজ সকল রাতের নেক বান্দাদের অভ্যাস ছিল। এ নামাজ মুমিনের মান-মর্যাদা বৃদ্ধি করে। সারা দিনমান তারা ইলম অর্জন-বিতরণ, দাওয়াত-তাবলিগ ও আপন কাজকর্মে ব্যস্ত থাকে এবং নৈশপ্রহরে আল্লাহর নৈকট্য ও সান্নিধ্য লাভে ব্রতী হয়। অন্যত্র আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তাদের পার্শ্বদেশ শয্যা থেকে পৃথক থাকে। তারা তাদের পালনকর্তাকে আশা ও আশঙ্কায় ডেকে থাকে।’ (সুরা সিজদা-১৬) 

আল্লাহ তাআলা আরো বলেছেন- ‘তারা রাতের বেলা খুব স্বল্প আরাম গহণ করে এবং শেষপ্রহরে ক্ষমা-মার্জনা কামনা করে।’ (সুরা জারিয়াত ১৭-১৮)

আল্লাহর নিষ্ঠাবান বান্দারা রাতে বিছানা ত্যাগ করে আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগিতে নিমগ্ন হয়। প্রভুর করুণা ও পুণ্য লাভের আশায় তারা নামাজ-জিকির এবং ইস্তেগফারে ব্যাকুল হয় ও আত্মসমাহিত হয়। 

আল্লাহর অপার মেহেরবানি যে যারা এশা ও ফজরের নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করবে তাঁদেরও তিনি ‘ইবাদতের নিমিত্ত রাত্রিজাগরণকারী’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করবেন। হজরত উসমান (রা.) বলেন, ‘যে এশার নামাজ জামাতে পড়ে, সে অর্ধরাত্রি এবং যে ফজরের নামাজ জামাতের সঙ্গে পড়ে, সে বাকি অর্ধরাত্রি ইবাদত করার সওয়াব পায়।’ (আবু দাউদ)

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘যে ব্যক্তি শোয়া ও বসাবস্থায় অথবা পার্শ্বদেশ পরিবর্তন করা অবস্থায় আল্লাহ তাআলার জিকির করে, সেও উপর্যুক্ত আয়াতের আওতায় পড়বে।'

জাহান্নাম থেকে মুক্তির দোয়া করা : আল্লাহর প্রিয় বান্দারা বলে, ‘হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের কাছ থেকে জাহান্নামের শাস্তি দূরে সরিয়ে নাও। জাহান্নামের শাস্তি  নিশ্চয় ধ্বংসের।’ (সুরা ফুরকান-৬৫)

অপচয় ও কার্পণ্য না করা : আল্লাহর বান্দাদের আরেকটি গুণ হলো, ‘তারা যখন খরচ করে তখন তারা অযথা ব্যয় করেনা, কৃপণতাও করেনা। বরং মধ্যপন্থা অবলম্বন করে। (সুরা ফুরকান-৬৭) 

শরিয়তের পরিভাষায়, আল্লাহর অসন্তুষ্টিতে খরচ করাকে অপব্যয় বলে। যদিও তা অতি সামান্য হোক। আলোচ্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তারা অপব্যয় করেনা এবং কার্পণ্যও করেনা। কোরআনের অন্য জায়গায় আল্লাহ তাআলা বলেন,‘নিশ্চয় অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই।’ (সুরা বনি ইসরাঈল-২৭) 

বৈধ ও শরিয়তের অনুমোদিত ক্ষেত্রেও প্রয়োজনের অতিরিক্ত খরচ করা অপচয়ের পর্যায়র্ভুক্ত। কুরআনের ভাষ্যানুযায়ী অযথা ও অনর্থক ব্যয় হারাম ও গুনাহের কাজ। ব্যয়বাহুল্য, বিলাসিতা ও আয়েশিভাব পরিহার করে চললে নিজের জন্যই মঙ্গল। 

শিরক থেকে বেঁচে থাকা : আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের অন্যতম একটি গুণ হলো, ‘আল্লাহর সঙ্গে অন্য কাউকে ডাকে না।’ (সুরা ফুরকান-৬৮) ‘শিরক’ করা বা কোনো কিছুকে আল্লাহর সমকক্ষ মনে করা সবচেয়ে মারাত্মক গুনাহ। আল্লাহ তাআলা সব গুনাহ মাফ করলেও শিরকের গুনাহ মাফ করবেন না। হযরত লোকমান (আ.) তাঁর ছেলেকে উপদেশ দিয়েছেন, ‘হে পুত্র! তুমি আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক কোরো না। নিশ্চয় শিরক সবচেয়ে বড় গুনাহ।’ (সুরা লোকমান-১৩)

অন্যায় হত্যাকাণ্ডে না জড়ানো : আল্লাহর প্রিয় বান্দারা কোনো নিরাপরাধ ব্যক্তিকে হত্যা করে না ও পৃথিবীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আল্লাহ যার হত্যা অবৈধ করেছেন, সঙ্গত কারণ ছাড়া তাকে হত্যা করে না’ (সুরা ফুরকান-৬৮) 

ব্যভিচার লিপ্ত না হওয়া : আল্লাহর প্রিয় বান্দারা ব্যভিচার-জিনা, অশ্লীল কার্যকলাপ ইত্যাদিতে জড়ায় না। এমনকি ব্যভিচারের নিটকটবর্তীও হয় না। তা থেকে যোজন যোজন দূরত্ব বজিয়ে রাখে। গান-বাজনা, নৃত্য-ছায়াছবি, অশ্লীল দৃশ্য, বেপর্দা ও খোলামেলা চলাফেরা এবং অবাধ মেলামেশা, এসব পাপাচার ও গর্হিত কাজ মানুষকে ক্রমান্বয়ে ছোট-বড় ব্যভিচারে লিপ্ত করে। আল্লাহ প্রিয় মানুষেরা এসবের ধারেকাছেও যায় না।

প্রসঙ্গত যারা উপর্যুক্ত গুনাহগুলো করবে, তাদের ব্যাপারে আলোচ্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘যে উল্লেখিত গুনাহসমূহ করবে, সে শাস্তি ভোগ করবে। কিয়ামতের দিবসে তার শাস্তি দিগুণ করা হবে এবং তাকে জাহান্নামে চিরস্থায়ী করে দেওয়া হবে’ (সুরা ফুরকান-৬৮-৬৯)

আয়াতে ‘আছামা’ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। তাফসির বিশারদগণ বলেন, আছামা জাহান্নামের একটি উপত্যকার নাম, যা ভীষণ মর্মন্তুদ শাস্তিতে ভরপুর হবে। যারা কুফর ও শিরকের সঙ্গে সঙ্গে হত্যা ও ব্যভিচারে লিপ্ত হয়, তাদের শাস্তি দ্বিগুণ হবে। এ শাস্তি কাফের ও মুশরিকদের জন্যে প্রযোজ্য। কিন্তু কোনো কাফের-মুশরিক বা গুনাহগার যদি আল্লাহর কাছে তাওবা করে, তাহলে আল্লাহ তাদের অপরাধ মার্জনা করে দেবেন এবং তাদের পুরস্কারে ভূষিত করবেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘এমন অপরাধী যদি ঈমান আনে ও তাওবা করে এবং সৎকর্ম সম্পাদন করতে থাকে, তাহলে আল্লাহ তাআলা তাদের পাপরাশিকে পুণ্যে পরিবর্তন করে দিবেন। এবং আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল দয়াবান।’ (সুরা ফুরকান-৭০)

অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যে কোনো মন্দ কাজ করেছে অথবা নিজের প্রতি অবিচার করেছে, অতঃপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, তাহলে সে আল্লাহকে ক্ষমাশীল দয়াবান হিসেবে পাবে।’ (সুরা নিসা-১১০)

অনৈতিক ও মিথ্যা কাজে যোগদান না করা : আল্লাহর প্রিয়া বান্দারা মিথ্যাকথন, মিথ্যা আলোচনা, মিথ্যাচর্চার আসর ইত্যাদিতে অংশগ্রহণ করেন না। অনৈতিক ক্রিয়ালাপ-পরনিন্দা ও মিথ্যাসাক্ষ্য প্রদান থেকেও বেঁচে থাকে। উপরন্তু এসব থেকে নিজেদের রক্ষা করে চলে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা মিথ্যা কিছুতে উপস্থিত হয় না।’ (সুরা ফুরকান-৭২)

হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, ‘রাসুল (সাঃ) মিথ্যাসাক্ষ্য দেওয়াকে মহা কবিরা গুনাহ আখ্যা দিয়েছেন। তাছাড়া মিথ্যা কথা বলাও কবিরা গুনাহ।’

অসার ক্রিয়াকর্মের সম্মুখীন হলে ভদ্রভাবে পাশ কেটে যাওয়া : তাঁরা যদি দৈবচক্রে অনিচ্ছাসত্ত্বেও অনর্থক ও বাজে আসর কিংবা কাজের মুখোমুখি হয়, তাহলে কৌশলে ও ভদ্রভাবে তা এড়িয়ে যান। গাম্ভীর্য ও শালীনতা বজায় রেখে সেখান থেকে সরে যান। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যখন অনর্থক কিছুর পাশ দিয়ে যায়, তখন ভদ্রভাবে চলে যায়।’ (সুরা ফুরকান-৭২)

আল্লাহর নিদর্শনাবলীর আলোচনা করা হলে বধিরের মতো আচরণ না করা : যখন আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের সামনে আল্লাহর আয়াত ও নিদর্শনাবীল আলোচনা করা হয়, তখন তারা অন্ধ ও বধিরের মতো আচরণ করে না। অর্থাৎ না শোনার না বোঝার কিংবা না দেখার ভান করেনা। বরং শ্রবণশক্তি ও অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে এগুলো নিয়ে চিন্তাভাবনা করে। মূর্খের মতো না বোঝা কিংবা বধিরের ন্যায় না শোনার ভান করেনা। আল্লাহর প্রতিটি সৃষ্টি ও নিদর্শনাবলীর প্রতি মনোনিবেশ করে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘এবং যাদের তাদের পালনকর্তার নিদর্শনাবলী স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়, তখন তারা অন্ধ ও বধির হয়ে ওঠে না। (সুরা ফুরকান-৭৩) 

যারা সত্য বুঝেও অন্ধের অভিনয় করবে তাদের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যে দুনিয়াতে অন্ধ (পথভ্রষ্ট) হবে সে আখেরাতেও অন্ধ হবে। এবং অত্যধিক পথহারা হবে। (সুরা বনি ইসরাইল-৭২)

স্ত্রী-সন্তানের মাঝে চোখের শীতলতা চেয়ে দোয়া করা : আল্লাহর প্রিয় বান্দারা এভাবে দোয়া করে (অন্যান্য দোয়াও করে), ‘হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের স্ত্রী ও সন্তানাদিও পক্ষ থেকে আমাদের জন্য চোখের শীতলতা দান করুন এবং আমাদের খোদাভীরুদের ইমাম বা নেতা করুন।’ (সুরা ফুরকান-৭৪)

চোখের শীতলতা অর্থ তাদের আল্লাহর  আনুগত্যে মশগুল দেখা। একজন কামিল মুমিনের জন্য চরম কাক্সিক্ষত বস্তু ও পরম চাওয়া-পাওয়া। কারণ সন্তানেরা যদি সৎ ও নেককার হয়, তবে তার ফলাফল তো দুনিয়াতে-ই দেখা যায়। মৃত্যুর পর কবরে সদকায়ে জারিয়ার সওয়াব পৌঁছতে থাকে।
আল্লাহর প্রিয় বান্দারা কেবল নিজের সৎকর্ম নিয়েই সন্তুষ্ট থাকে না। বরং নিজের স্ত্রী-সন্তান ও পরিবারের যাবতীয় সংশোধন এবং তাদের সৎ পথের দিশা দেয়া ও শিষ্টাচার শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করে যান প্রতিনিয়ত। 

উপর্যুক্ত ১৩ গুণে যারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হবেন, তাঁদের কি পুরস্কার দেওয়া হবে, সে ঘোষণা দিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তাদের ধৈর্য্য ধারণের বিনিময়ে জান্নাতে কক্ষসমূহ দেওয়া হবে এবং সেখানে তাদের অভিবাদন ও সালাম জানানো হবে। সেখানে তারা চিরকাল বসবাস করতে থাকবে। অবস্থান ও আবাসস্থল হিসেবে তা কতই না চমৎকার! (সুরা ফুরকান ৭৫-৭৬)

আল্লাহ তাআলা আমাদের এসব গুণাবলিতে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

লেখক : নির্বাহী সম্পাদক, মাসিক আল-হেরা (আরবি ম্যাগাজিন)



মন্তব্য