|
|
বাড়ির ছাদে অধ্যাপক ড. এম এ সালাম উদ্ভাবিত একোয়াপনিঙ্ পদ্ধতিতে মাছ ও সবজির সমন্বিত চাষ প্রযুক্তি। ছবি : কালের কণ্ঠ
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিএকোয়াপনিঙ্ হচ্ছে হাইড্রোপনিঙ্ ও একোয়াকালচারের সমন্বয়ে উদ্ভাবিত প্রযুক্তি, যেখানে মাছ ও সবজির সমন্বিত চাষ করা যায়। প্রয়োজন পড়ে না কোনো মাটির। অল্প জায়গায় শুধু সামান্য পানি ব্যবহার করে একই সঙ্গে প্রচুর শাক-সবজি ও মাছ উৎপাদন করা যায়। এ পদ্ধতি খরা ও উপকূলীয় লবণাক্ত অঞ্চলের জন্য খুবই উপযোগী। কারণ এতে প্রায় ৯৭ শতাংশ পানি কম লাগে। মাছ চাষের জন্য ব্যবহৃত ট্যাংকের অ্যামোনিয়া সমৃদ্ধ পানি গাছের শিকড়ে অবস্থিত ডি-নাইট্রিফাইং ব্যাকটেরিয়া ভেঙে গাছের খাদ্য উপযোগী নাইট্রেটে পরিণত করে। ফলে গাছের জন্য আলাদা কোনো খাবার বা সারের প্রয়োজন পড়ে না। অন্যদিকে গাছ মাছের ট্যাংকের পানিকে দূষণমুক্ত করে ফের মাছের ট্যাংকে ব্যবহার উপযোগী করে তোলে। ফলে মাছের উৎপাদনও বেড়ে যায় অনেক গুণ। এ ক্ষেত্রে শুধু মাছের খাবার সরবরাহ করার প্রয়োজন পড়ে। তবে কেউ ইচ্ছা করলে বিনা খরচেই সে খাবারও তৈরি করতে পারেন ঘরে বসেই।
২০১১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বাড়ির ছাদে কাজ শুরু করেন ড. সালাম। এ লক্ষ্যে এক টনের একটি প্লাস্টিকের ট্যাংকে ৮০০ লিটার পানিতে ৬০টি তেলাপিয়া ছাড়েন তিনি। পাশাপাশি সাড়ে পাঁচ ফুট উচ্চতার একটি কাঠের আলনা তৈরি করে তাতে তিন সারিতে ৩৬টি প্লাস্টিকের পানির বোতল যুক্ত করেন। বোতলগুলোর তলার কাছাকাছি দুই পাশ দিয়ে কেটে জানালার মতো রাখা হয়। বোতলগুলোকে উল্টো করে ভেতরে একটু স্পঞ্জ দিয়ে তার ওপর নুড়ি পাথর স্থাপন করে বোতলপ্রতি দুটি করে গাছ লাগান। এতে একটি আলনায় ৩৬টি বোতলে ৭২টি গাছ লাগানো সম্ভব হয়। এবার মাছের ট্যাংকের পানি সাত ফুট উঁচুতে একটি ৩০ লিটারের বালতিতে তুলে সেখান থেকে সাইফোন প্রক্রিয়ায় ফোঁটা ফোঁটা করে ওপরের ১২টি বোতলে পানি দেওয়া হয়। এ পানি পর্যায়ক্রমে ওপর থেকে নিচে আরো দুটি বোতলের মধ্য দিয়ে গড়িয়ে একটি পাত্রে এসে জমা হয়, যা পুনরায় মাছের ট্যাংকে ব্যবহার করা হয়। এ পদ্ধতিতে প্রতিদিন ১৬-১৮ ঘণ্টা পানিপ্রবাহের প্রয়োজন।
একোয়াপনিক্স পদ্ধতিতে সবজি চাষের জন্য কোনো প্রকার সার বা মাটির প্রয়োজন হয় না। তবে মাছকে নিয়মিত খাদ্য সরবরাহ করতে হয়। বাজার থেকে কিনে মাছকে যাতে খাদ্য দিতে না হয়, সে জন্য কালো সৈনিক (Black Soldier Fly) পোকার লার্ভার উৎপাদন প্রক্রিয়া উদ্ভাবন করেছেন ড. সালাম, যা মাছের প্রিয় খাদ্য।
এ পোকার ডিম ও লার্ভা লালন-পালনের জন্য একটি বিশেষ চেম্বার তৈরি করে তার মাঝে রান্নাঘরের তরিতরকারির খোসা ও পচা গম রেখে এই পোকাকে ডিম দেওয়ার জন্য আকৃষ্ট করা হয়। ফলে দলে দলে এই পোকা এসে এ চেম্বারে ডিম দেয়। ডিম থেকে লার্ভা বের হয়ে পচনশীল বর্জ্য খেয়ে বড় হয় এবং লার্ভা দশার শেষ পর্যায়ে চেম্বার থেকে বের হয়ে কোকন অবস্থায় কিছুদিন থাকার পর পূর্ণাঙ্গ পোকার উদ্ভব হয়।
সহজ এ পদ্ধতি অবলম্বন করে গ্রাম-বাংলার বেকার তরুণ-তরুণীরা সহজেই কর্মসংস্থান করতে পারবেন বলে জানান ড. সালাম। তা ছাড়া এ পদ্ধতিতে খুব কম খরচে বাড়ির আঙিনায় মাছ ও শাকসবজির চাষ করে পারিবারিক প্রোটিনের চাহিদাও মেটানো সম্ভব। তা ছাড়া এ পদ্ধতিতে কোনো রাসায়নিক সার ব্যবহার করা হয় না বলে এটি মানবদেহের জন্য সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত ও পরিবেশবান্ধব একটি পদ্ধতি।
প্রিয় দেশ -এর আরো সংবাদ
সম্পাদক : ইমদাদুল হক মিলন, উপদেষ্টা সম্পাদক : অমিত হাবিব, ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের পক্ষে ময়নাল হোসেন চৌধুরী কর্তৃক প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বসুন্ধরা, বারিধারা থেকে প্রকাশিত এবং প্লট-সি/৫২, ব্লক-কে, বসুন্ধরা, খিলক্ষেত, বাড্ডা, ঢাকা-১২২৯ থেকে মুদ্রিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ : বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯। পিএবিএক্স : ০২৮৪০২৩৭২-৭৫, ফ্যাক্স : ৮৪০২৩৬৮-৯, বিজ্ঞাপন ফোন : ৮১৫৮০১২, ৮৪০২০৪৮, বিজ্ঞাপন ফ্যাক্স : ৮১৫৮৮৬২, ৮৪০২০৪৭। E-mail : info@kalerkantho.com
বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ : বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯। পিএবিএক্স : ০২৮৪০২৩৭২-৭৫, ফ্যাক্স : ৮৪০২৩৬৮-৯, বিজ্ঞাপন ফোন : ৮১৫৮০১২, ৮৪০২০৪৮, বিজ্ঞাপন ফ্যাক্স : ৮১৫৮৮৬২, ৮৪০২০৪৭। E-mail : info@kalerkantho.com








