kalerkantho

বুধবার । ১৭ জুলাই ২০১৯। ২ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৩ জিলকদ ১৪৪০

কোহলির ব্যাটিং ও নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠে গেল

১২ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কোহলির ব্যাটিং ও নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠে গেল

ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ভারতের ইনিংস শেষ হওয়ার আগেই টুইটারে চুটকি শুরু হয়ে গেল। বিরাট কোহলি ৯১১! এমন নয় বিশ্বকাপে ৯১১ রান করে কোনো কীর্তি গড়েছেন; ৯, ১, ১ হচ্ছে গত তিন বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে বিরাট কোহলির তিনটি ইনিংস। ৯১১ হচ্ছে মার্কিন মুল্লুকের দুর্যোগ ও আপৎকালীন সময়ে জরুরি যোগাযোগের হটলাইন নম্বর। যদিও ওসামা বিন লাদেন নামের মানুষটি টুইন টাওয়ারে বিমান হামলা চালিয়ে ৯১১ এর অন্য মানে দাঁড় করিয়েছেন। ৯১১ মানে এখন মুহূর্তেই বিরাট ভবনধস। বিরাট কোহলির জীবনে ৯১১ এর মানে এখন দ্বিতীয়টি।

হাজার হাজার রানের রেকর্ডের স্তম্ভ, সাবেক ক্রিকেটারদের প্রশংসার দালান, সবই এখন ‘গ্রাউন্ড জিরো’। একসঙ্গে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে খেলেছেন কেন উইলিয়ামসন ও কোহলি। ২০০৮ সালে মালয়েশিয়ায় জিতেছিলেন কোহলি, ২০১৯-এর ম্যানচেস্টারে উইলিয়ামসন সব দিকেই বাজি মেরে দিলেন। ব্যাটিংয়ে, পরিকল্পনায়। আসরের প্রথম ম্যাচটি বাদ দিলে পরের সবগুলো ম্যাচ নিউজিল্যান্ড দলের ব্যাটিংটাকে একা কাঁধে বইছেন উইলিয়ামসন। কোনো আগ্রাসন নেই, চেঁচানো নেই। নিপাট ভদ্রলোকের মতো খেলে যান। দরকারের সময় হাত থেকে ছয়ের মার বের হয়, বুঝিয়ে দেন ছয় মারতেও জানেন তবে সেটা খুব বেশি প্রয়োগ করেন না। কোহলি বিশ্বকাপে করেছেন ৪৪২ রান, বেশির ভাগটাই করেছেন রোহিত শর্মার ছাতার তলায়। উদ্বোধনী জুটি ভিত গড়ে দিয়েছে, কোহলি এসে আরামে দেয়াল তুলেছেন। যদিও শেষ রঙের পোঁচটা ছড়াতে পারেননি। অন্যদিকে উইলিয়ামসন প্রথম ম্যাচের পর থেকে প্রতিদিনই ব্যাট করতে নেমেছেন দুই ব্ল্যাকক্যাপ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের শুরুতেই বিদায় নেওয়ার পর। অমন চাপের মুখে ৫৪৮টি রান আসলে অমূল্য!

বিশাল সমর্থক গোষ্ঠীর চাপই কি তাহলে বড় ম্যাচে খোলসবন্দি করে ফেলে কোহলিকে? ভারত অধিনায়কের উত্তর, ‘আমি সব সময়ই বলে আসছি, মাপা প্রতিক্রিয়ার কথা। হ্যাঁ, হেরে যাওয়ায় আমাদের মধ্যে হতাশা আছে, তবে এটা চরম মাত্রার কিছু নয়। অনেক খেলোয়াড়ই এটা ধারণ করতে পারবে না। সব কিছুই ভারসাম্যপূর্ণ হতে হবে।’ সমালোচনা হচ্ছে কোহলির, অভিজ্ঞতাটা নতুন নয় তাঁর কাছে। অবিচল থেকেই কোহলি বললেন, ‘দল যখন হারে তখন বাইরে থেকে যে কাউকে সমালোচনা করা সহজ। আবার দল যখন জেতে তখন সবাই তাঁকে মাথায় চড়ায়। কিন্তু এটা যখন খুব বড় মাত্রায় হয়, তখন যে খেলাটা আমরা আনন্দ নিয়ে দেখি সেটা সম্পর্কে দায়িত্বশীল মত প্রকাশটা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব।’ হারের পর এখন কী সামনে সেটাও খোলাসা করতে রাজি নন কোহলি, ‘আমার মনে হয় না এখনই আমরা সব কিছু বিশ্লেষণ করতে বসব। তবে সময় হলেই আমাদের বসে বিশ্লেষণ করতে হবে, কী কী আমরা ঠিক করিনি। আমরা মুখ লুকাচ্ছি না, আমরা মানছি যে আমরা চাপের মুখে উঠে দাঁড়াতে পারিনি। আমরা চ্যালেঞ্জটা নিতে পারিনি।’

রোহিতের ছাতার তলায় ঢাকা পড়েছিল ভারতের মিডল অর্ডারের দুর্বলতা। পালে বাঘ পড়েছে সেমিফাইনালেই, সাবেক ভারতীয় অধিনায়ক কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্ত নিজের কলামে হতাশা প্রকাশ করেছেন ভারতের মিডল অর্ডার নিয়ে, ‘আমাদের মিডল অর্ডারে নতুন কাউকে খুঁজে বের করতে হবে। আমরা দীনেশ কার্তিক, জাদেজা, বিজয় শঙ্করকে দিয়ে প্রচেষ্টা চালালাম, কিন্তু কেউই নিজেকে উপযুক্ত হিসেবে প্রমাণ করতে পারেনি। আমরা মিডল অর্ডারের সমস্যা নিয়ে এখনো ভুগছি।’ বাঁহাতি স্পিনার মিচেল স্যান্টনারকে বেশি ভয়ে ভয়ে খেলেছেন ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা, এটাও মনে হচ্ছে শ্রীকান্তের, ‘সন্দেহ নেই স্যান্টনার দারুণ বল করেছে, তবু আমার মনে হচ্ছে ভারত ওকে বেশি সম্মান দিয়ে খেলেছে।’ মহেন্দ্র সিং ধোনিকে ব্যাটিংয়ে সঠিক জায়গায় না পাঠানোটাও কোহলির নেতৃত্বের আরো একটি দুর্বল দিক হিসেবে মনে হচ্ছে সাবেকদের কাছে। শচীন টেন্ডুলকার ও সৌরভ গাঙ্গুলি, দুজনেই মনে করেন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সাতে নয়, আরো আগে ব্যাট করতে পাঠানো উচিত ছিল ধোনিকে। একটি টিভি চ্যানেলে টেন্ডুলকার বলেছেন, ‘হার্দিকের বদলে পাঁচে ধোনি আসতে পারত, সেটা হয়তো ব্যবধান গড়ে দিত। ধোনি নিশ্চয়ই কিছু একটা করে দিত আর আমরা আজকে এই ফলের অন্যদিকে থাকতাম।’ সেসব যেমন আছে, তেমনি ধোনির রান আউট হওয়ার বলটিতে নিউজিল্যান্ডের ফিল্ডিং সাজানোর গরমিলসহ নানা তত্ত্বই আসছে সামনে, চলছে ‘যদি’ আর ‘কিন্তু’র খেলা। তবে সত্যিটা হচ্ছে, লর্ডসে কপিলের পর আর কোনো ভারতীয় অধিনায়কের বিশ্বকাপ হাতে উল্লাস করার সুযোগটা হাতছাড়া হয়ে গেল ম্যানচেস্টারে। এএফপি, আইসিসি

মন্তব্য