kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৮ জুলাই ২০১৯। ৩ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৪ জিলকদ ১৪৪০

বিশ্বকাপ ও সেঞ্চুরি

১২ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিশ্বকাপ ও সেঞ্চুরি

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ১৯৭৫ সালের ৭ জুন। ক্রিকেট বিশ্বকাপের পথচলা শুরু এদিনই। উদ্বোধনী দিনে লর্ডসে মুখোমুখি ইংল্যান্ড-ভারত আর বার্মিংহামে নিউজিল্যান্ডের প্রতিপক্ষ পূর্ব আফ্রিকা। দুই ম্যাচেই সেঞ্চুরি দুই ব্যাটসম্যানের। ইংল্যান্ডের হয়ে ডেনিস অ্যামিস খেলেন ১৪৭ বলে ১৩৭ রানের ইনিংস। সে সময়ের প্রেক্ষাপটে ১০০ ছুঁই ছুঁই স্ট্রাইক রেটটা অসাধারণ। অন্য ম্যাচে পূর্ব আফ্রিকার বিপক্ষে ২০১ বলে ১৭১ রান করেছিলেন গ্লেন টার্নার। ম্যাচগুলো ৬০ ওভারের থাকায় ভাবা হচ্ছিল সেঞ্চুরির উৎসবই হবে বিশ্বকাপে। হয়নি। শুধু ছয় সেঞ্চুরির দেখা মিলেছিল প্রথম বিশ্বকাপে।

এবারের বিশ্বকাপেও ভাবা হচ্ছিল রান উৎসব করবে দলগুলো। ওয়ানডে ইতিহাসে প্রথমবার ৫০০ রানের স্বপ্নও দেখেছিলেন কেউ কেউ। বাস্তবতা হচ্ছে ৪০০ রানও করতে পারেনি কোনো দল। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ৩৯৭ রান সর্বোচ্চ দলীয় ইনিংস। তবে থেমে থাকেনি ব্যক্তিগত সেঞ্চুরি। প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে বিশ্বকাপে এক আসরে পাঁচ সেঞ্চুরির কীর্তি রোহিত শর্মার।

ভারতীয় ওপেনার রোহিত শর্মার পাঁচটি সেঞ্চুরি—দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১২২*, পাকিস্তানের সঙ্গে ১৪০, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১০২, বাংলাদেশের সঙ্গে ১০৪ আর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১০৩। সেমিফাইনালে তিন অঙ্কের দেখা পেলে ভাগ বসাতে পারতেন গত আসরে কুমার সাঙ্গাকারার টানা চার সেঞ্চুরির কীর্তিতে। সেটা না হলেও সাঙ্গাকারার এক আসরে চার সেঞ্চুরির রেকর্ড ভেঙেছেন রোহিত। সেমিফাইনালের আগে মোট ৩১টি সেঞ্চুরি দেখেছে এবারের আসর। এটা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। গতবারের বিশ্বকাপের ৩৮ সেঞ্চুরিই সর্বকালের সর্বোচ্চ। এবার রেকর্ডটা ভাঙা কঠিন।

১৯৭৫ সালে ছয় সেঞ্চুরির পরের আসরে তিন অঙ্কের খরাই গেছে। আয়োজক সেই ইংল্যান্ড হলেও সেঞ্চুরি মাত্র দুটি। এরপর ১৯৮৩ সালে ভারতের বিশ্বকাপ জয়ের আসরে তিন অঙ্কের ইনিংস আটটি। ১৯৮৭ সালে ইংল্যান্ড থেকে বিশ্বকাপ আসে উপমহাদেশে। তখনই প্রথমবার সেঞ্চুরির সংখ্যা ছাড়ায় ১০টি। সেবার মোট সেঞ্চুরি হয়েছিল ১১টি। ১৯৯২ বিশ্বকাপে ১১ আর ১৯৯৬ সালে তিন অঙ্কের ইনিংস ১৬টি। শ্রীলঙ্কার চ্যাম্পিয়ন হওয়া আসরে ১৬ সেঞ্চুরির রেকর্ড প্রথম ছয় আসরের সর্বোচ্চ।

১৯৯৯ সালে বিশ্বকাপ আবারও ফেরে ইংল্যান্ডে। সেবার সেঞ্চুরি কেবল ১১টি। ২০০৩ সালে আফ্রিকা মহাদেশে হওয়া বিশ্বকাপে সেঞ্চুরি হয়েছিল ২১টি। ২০০৭ সালে ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের বিশ্বকাপেও তিন অঙ্কের ইনিংস ২০টি। ২০১১-তে ২৪ আর গত আসরের সেঞ্চুরি ৩৮টি।

সর্বোচ্চ ছয় সেঞ্চুরি নিয়ে এত দিন শীর্ষে ছিলেন শচীন টেন্ডুলকার। তাঁরই দেশের রোহিত শর্মা ছুঁয়েছেন বিশ্বকাপে ছয় সেঞ্চুরির কীর্তি। বিরাট কোহলি সেমিফাইনালের আগে বলেছিলেন, ‘আশা করছি আমরা সেমিফাইনাল জিতে ফাইনাল খেলব। আর দুটি ম্যাচেই সেঞ্চুরি করবে রোহিত।’ সেটা হয়নি। সেমিফাইনালে মাত্র ১ রানে আউট হয়েছেন ভারতীয় এই ওপেনার। বিদায় নিয়েছে ভারতও।

এবারের বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৫৭ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন এউইন মরগান। এটা বিশ্বকাপের চতুর্থ দ্রুততম সেঞ্চুরি। ২০১১ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৫০ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন কেভিন ও’ব্রায়ান। ওয়ানডের সবচেয়ে মর্যাদার টুর্নামেন্টটিতে দ্রুততম সেঞ্চুরি এটাই। এ ছাড়া গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের ৫১ ও এবি ডি ভিলিয়ার্সের সেঞ্চুরি আছে ৫৫ বলে।

সবচেয়ে কম বয়সে সেঞ্চুরির রেকর্ড আয়ারল্যান্ডেরই পল স্টার্লিংয়ের। ২০১১ বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে তিনি সেঞ্চুরি করেন ২০ বছর ১৯৬ দিনে। ২১ বছরের কম বয়সে বিশ্বকাপে সেঞ্চুরি নেই আর কারো। সবচেয়ে বেশি বয়সে সেঞ্চুরির কীর্তি তিলকরত্নে দিলশানের। গত আসরে ৩৮ বছর ১৩৫ দিনে বাংলাদেশের বিপক্ষে তিন অঙ্কের রানের ইনিংস পেয়েছিলেন এই লঙ্কান।

সেঞ্চুরির সবচেয়ে বড় মঞ্চ বিশ্বকাপ ফাইনাল। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে তিন অঙ্কের ইনিংস আছে মাত্র ছয়টি। ১৯৭৫ বিশ্বকাপে ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তি ক্লাইভ লয়েড খেলেন ৮৫ বলে ১০২ রানের ইনিংস। পরের আসরের ফাইনালেই ক্যারিবিয়ান আরেক কিংবদন্তি ভিভ রিচার্ডস অপরাজিত ছিলেন ১৩৮ রানে। ১৯৯৬-এর ফাইনালে ১০৭ রানের ইনিংসে শ্রীলঙ্কাকে বিশ্বকাপ এনে দেন অরবিন্দ ডি সিলভা। ২০০৩ বিশ্বকাপে রিকি পন্টিংয়ের ১৪০* আর ২০০৭ সালে অ্যাডাম গিলক্রিস্টের ১৪৯ টানা দুই শিরোপা এনে দেয় অস্ট্রেলিয়াকে। ফাইনালে সেঞ্চুরি করেও শিরোপা জিততে না পারার আক্ষেপ একমাত্র শ্রীলঙ্কার মাহেলা জয়াবর্ধনের। ২০১১-র ফাইনালে ৮৮ বলে ১০৩* করেও ভারতের কাছে হারে তাঁর দল। 

মন্তব্য