kalerkantho

রবিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৮ নভেম্বর ২০২১। ২২ রবিউস সানি ১৪৪৩

♦ গ্রুপ-বি
♦ ওমান ♦ স্কটল্যান্ড ♦ পাপুয়া নিউ গিনি

বাংলাদেশ

টি-টোয়েন্টি র‌্যাংকিং : ৬

১৭ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



বাংলাদেশ

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পথচলার শুরু ২০০৭ সালে। ক্রিস গেইল, ডোয়াইন ব্রাভো, মারলন স্যামুয়েলস, ডেভন স্মিথদের নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এসেছিল শিরোপায় চোখ রেখে। সেই ক্যারিবীয়দের ৬ উইকেটে হারিয়ে বিদায় করে দেয় বাংলাদেশ! টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে বাংলাদেশ হয়তো খুব বড় দল নয়। এর পরও ২০০৭ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারানোর মতো চমক উপহার দিতে পারে বলে এবার মাহমুদ উল্লাহর দলকে বলা হচ্ছে ‘বিশ্বকাপের কালো ঘোড়া’।

টি-টোয়েন্টিতে এত দিন অস্ট্রেলিয়া আর নিউজিল্যান্ডের মতো পরাশক্তিদের হারানোর স্বাদ পায়নি বাংলাদেশ। অথচ বিশ্বকাপের ঠিক আগে সেই দুই দলের বিপক্ষেই পেয়েছে সিরিজ জয়। এমন আত্মবিশ্বাসের জ্বালানি নিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া দলকে সমীহ করবে যে কেউ। এটা ঠিক যে এখনো এই টুর্নামেন্টের নক আউটে খেলা হয়নি বাংলাদেশের। তাই বলে কখনো খেলা হবে না, এমনও নয়। র‌্যাংকিংয়ে ৬ নম্বরে উঠে আসাটা এবার কিন্তু আঁধার ফুঁড়ে সম্ভাবনার সূর্যোদয়েরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

তরুণদের জায়গা দিতে তামিম ইকবালের সরে দাঁড়ানোটা বড় ধাক্কা ছিল বাংলাদেশের জন্য। এর পরও সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মুস্তাফিজুর রহমানদের সঙ্গে শামীম হোসেন, শরীফুল ইসলামের মতো তরুণদের নিয়ে স্বপ্ন দেখাই যায়। সাকিব আল হাসান ও মুস্তাফিজুর রহমানের বিশ্বকাপের আগে আইপিএল খেলাটা বাংলাদেশের জন্য বিশেষ পাওয়া। আরব আমিরাতেই হয়েছে আইপিএলের বাকি অংশ। আর ওমানে প্রথম রাউন্ডের পর সুপার-১২ মাঠে গড়াবে আমিরাতেই। সেখানকার কন্ডিশন আর বেশিরভাগ প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়দের শক্তি-দূর্বলতা নখদর্পনে সাকিব-মুস্তাফিজের। গত বিশ্বকাপে মাত্র ৩ মাচে ৯ উইকেট নেওয়াটা বাড়তি উদ্দীপ্তও করবে ‘কাটার মাস্টার’ মুস্তাফিজকে।

 

সেরা তারকা

সাকিব আল হাসান

বড় মঞ্চটা বড় তারকাদের। সাকিব আল হাসানও বিশ্বকাপের মঞ্চে হতাশ করেননি বাংলাদেশকে। তাঁর শুরুটা ২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৪ উইকেট নিয়ে। এরপর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি আর। বাংলাদেশের হয়ে খেলেছেন ছয়টি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সবগুলো। রান আর উইকেটেও ছাড়িয়ে গেছেন দেশের সবাইকে। ২৫ ম্যাচে সাকিবের রান ৫৬৭ এবং উইকেট ৩০টি। এমন পরিসংখ্যানই বলছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভালো কিছু করতে সাকিবের পারফরম্যান্সের জন্য কতটা মুখিয়ে বাংলাদেশ।

২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপেও সাকিব ছিলেন অতিমানবীয়। ব্যাট হাতে তৃতীয় সর্বোচ্চ ৬০৬ রানের পাশাপাশি বোলিংয়ে ১১ উইকেট! এমন অলরাউন্ড পারফরম্যান্স বিশ্বকাপ ইতিহাসেই নেই কারো। এরপর ম্যাচ পাতানো প্রস্তাবের তথ্য গোপন করে নিষিদ্ধও হয়েছিলেন এক বছর। তবে ব্যাট-বলে মরচে পড়েনি। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারটা জেতেন তাই সাকিবই।

 

কোচ

রাসেল ডমিঙ্গো

‘আমি এমন নই যে ব্যর্থ হলেই ছুড়ে ফেলতে হবে, বিশেষ করে দল হারতে থাকলে। তরুণদের সুযোগ দিতে চাই সব সময়’—কিছুদিন আগেই বলেছিলেন বাংলাদেশের কোচ রাসেল ডমিঙ্গো। এ জন্যই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টানা চার টি-টোয়েন্টিতে একই একাদশ খেলিয়েছেন বাংলাদেশের এই কোচ। সিরিজ নিশ্চিত হওয়ার পরই কেবল শেষ ম্যাচে বদল আনেন দলে। এভাবে সবাইকে আগলে রাখায় অভিজ্ঞদের সঙ্গে গড়ে উঠছে তরুণরাও। ২০১৯ সালের আগস্টে দক্ষিণ আফ্রিকান এই কোচ দায়িত্ব নেওয়ার পর বাংলাদেশ প্রথমবার টি-টোয়েন্টিতে হারিয়েছে ভারত, অস্ট্রেলিয়া আর নিউজিল্যান্ডকে। তাহলে বিশ্বকাপে কেন প্রথমবার নক আউটের স্বপ্ন দেখবে না বাংলাদেশ?

 

সাক্ষাৎকার

মাহমুদ উল্লাহ

প্রশ্ন : কোনো একদিন অধিনায়ক হিসেবে বিশ্বকাপ ট্রফি তুলে ধরতে চান আপনি। এই বাংলাদেশ দল সেই স্বপ্ন সত্যি করার কতটা কাছাকাছি?

মাহমুদ : বড় স্বপ্ন লালন করে সবাই। এই সংস্করণে আমরা এখনো উন্নতির ধারায় আছি। এটিকে যদি ওপরের দিকেই রাখতে পারি, তাহলে অবশ্যই আমরা নিজেদের বড় কিছুর দাবিদার মনে করতে পারব।

প্রশ্ন :  দলের তিন সেরা—মুশফিক, মুস্তাফিজ ও সাকিবের কাছে আপনার প্রত্যাশা কী?

মাহমুদ : ওরা সবাই চ্যাম্পিয়ন খেলোয়াড়। আশা করছি ওরা এই বিশ্বকাপে নিজেদের ফর্মের চূড়ায়ই থাকবে।

প্রশ্ন : এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও কি সাকিবের কাছ থেকে ২০১৯ বিশ্বকাপের মতো অবিশ্বাস্য কিছুই আশা করছেন?

মাহমুদ : সাকিবের সেই সক্ষমতা আছে। আমি মনে করি, ২০১৯ বিশ্বকাপে সাকিব যেরকম পারফরম করেছে, এবার তার চেয়েও ভালো কিছু করবে।

 

বিশ্বকাপে পারফরম্যান্স

২০০৭ :    সুপার এইট

২০০৯ :    গ্রুপ পর্ব

২০১০ :    গ্রুপ পর্ব

২০১২ :    গ্রুপ পর্ব

২০১৪ :    সুপার টেন

২০১৬ :    সুপার টেন

 

পরিসংখ্যান

♦ ২৫ ম্যাচে পাঁচ জয়, ১৯ হার। ফল হয়নি এক ম্যাচে। সাফল্যের হার ২০.৮৩ শতাংশ।

♦ সর্বোচ্চ রান : সাকিব আল হাসান, ৫৬৭।

♦ সর্বোচ্চ উইকেট : সাকিব আল হাসান, ৩০।

♦ সর্বোচ্চ ইনিংস : তামিম ইকবাল, অপরাজিত ১০৩। বিপক্ষ ওমান, ২০১৬ বিশ্বকাপ।

♦ সেরা বোলিং : মুস্তাফিজুর রহমান, ৫/২২। বিপক্ষ নিউজিল্যান্ড, ২০১৬ বিশ্বকাপ।

 

স্কো  য়া  ড

মাহমুদ উল্লাহ (অধিনায়ক)

নাঈম শেখ

সৌম্য সরকার

লিটন দাস

সাকিব আল হাসান

মুশফিকুর রহিম

আফিফ হোসেন

নুরুল হাসান

মেহেদী হাসান

নাসুম আহমেদ

মুস্তাফিজুর রহমান

শরীফুল ইসলাম

তাসকিন আহমেদ

সাইফ উদ্দিন

শামীম হোসেন

 

শক্তি

আগের ছয়টি বিশ্বকাপই খেলেছেন সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম আর মাহমুদ উল্লাহ। তাঁদের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি আছে তারুণ্যের শক্তি। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ের অভিজ্ঞতাও আছে শামীম আহমেদ আর শরীফুল ইসলামের। সাম্প্রতিক সাফল্যে আত্মবিশ্বাসও তুঙ্গে।

দুর্বলতা

আরব আমিরাতের কন্ডিশনে একজন লেগ স্পিনারের অভাব অনুভূত হতে পারে। ওপেনিংয়ে তামিম ইকবালের অভাবও ভোগাতে পারে দলকে।

প্রত্যাশা

দ্বিতীয় পর্ব আর সুপার ১০-এ এর আগেও খেলেছে বাংলাদেশ। এবারের প্রত্যাশা প্রথমবার নক আউটে খেলা।

কী হতে পারে

গ্রুপ পর্বে স্কটল্যান্ড, ওমান আর পাপুয়া নিউ গিনির বাধা পাহাড়সমান হওয়ার কথা নয়। সুপার টুয়েলভে অনায়াসেই খেলার কথা বাংলাদেশের। তবে সেমিফাইনালের টিকিট  পাওয়াটা চ্যালেঞ্জের।

গ্রন্থনা : রাহেনুর ইসলাম



সাতদিনের সেরা