kalerkantho

রবিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৮ নভেম্বর ২০২১। ২২ রবিউস সানি ১৪৪৩

মাহমুদ উল্লাহরা আমাকে ভুল প্রমাণ করুক

অনেকেই আশা করছে যে বাংলাদেশ সেমিফাইনাল খেলবে। আমিও অনেক জায়গায় বলেছি যে সেমিফাইনাল খেলার সম্ভাবনা আছে, কিন্তু বাস্তবতা যদি চিন্তা করি, তাহলে মূল পর্বে দুটি ম্যাচ জিতলেই আমি মনে করি ভালো ফল। সেমিফাইনাল বা ফাইনাল খেলতে পারলে তো আলহামদুলিল্লাহ। তবে অন্তত দুটি ম্যাচ যেন আমরা জিতি।

১৭ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মাহমুদ উল্লাহরা আমাকে ভুল প্রমাণ করুক

আমাকে যাঁরা খুব ভালোভাবে চেনেন, তাঁরা জানেন আমার স্মৃতিশক্তি কতটা প্রখর! এখন যেমন মনে পড়ছে ২০০৭ সালের বিশ্ব টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচের মাঝবিরতির প্রতিটা মুহূর্ত। ওই ম্যাচ নিয়ে অবশ্য ইদানীং অনেক কথা বলতে হচ্ছে—সেটিই খুব স্বাভাবিক। আরেকটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হয়ে যাচ্ছে। এর আগে এই সংস্করণের বিশ্ব আসরের মূল পর্বে বাংলাদেশের একমাত্র জয় নিয়ে তো কথা হবেই।

প্রসঙ্গে ফিরি। আমরা আগে বোলিং করলাম। আমি নিজেও হাত ঘুরিয়েছি। প্রথম দুই ওভারে ১১ রান দিই। তৃতীয় ওভারে ২০ রান দিয়ে একটি উইকেটও পাই। আত্মবিশ্বাসী থাকায় নিজের কোটার শেষ ওভারটিও করতে গিয়ে একটু বেশি রানই খরচ হয়ে যায়, দিয়ে ফেলি ২৪ রান। সব মিলিয়ে আমি চার ওভারে ৫৫ রান দেওয়ায় দলের মনোবলেও চোট লাগে। যে জায়গায় ১৩০-৪০ রান হওয়ার কথা, সেখানে ওয়েস্ট ইন্ডিজ করে ফেলে ১৬৪!

ক্যারিবীয়দের ইনিংস শেষে ড্রেসিংরুমে ফেরার পর দেখি সবার মাথা নিচু। আমি কেন বোলিং করতে গেলাম, তা নিয়ে অনেকেই গুনগুন আর ফিসফাস করছে। আমি তখন সবাইকে ডেকে বললাম, ‘দেখো ভাই, মাথা নিচু করার কিছু নেই। যে রান দিয়েছি, সেটা আমি করে দেব। টেনশন কোরো না। মাথা ওপরে রাখো।’ পরে আমি তা করতে পেরেছিলাম বলেই আজ এত দিন পরও ওই ম্যাচ নিয়ে কথা বলার অনুরোধ আসে। ২৭ বলে ৬১ রানের ইনিংসে ম্যাচসেরা হয়েছিলাম বলেই হয়তো আপনাদের আরেকজনের কথা খুব একটা মনে থাকে না। এই সুযোগে বলে রাখতে চাই, আফতাব আহমেদও (৪৯ বলে অপরাজিত ৬২) সেদিন অসাধারণ একটি ইনিংস খেলেছিল। যেটি না হলে হয়তো আমরা জিততামও না।

রান তাড়ায় অবশ্য দ্রুতই নাজিমউদ্দিন ও তামিমের উইকেট হারিয়ে ফেলি আমরা। পরে আমি আর আফতাব শুরু করলাম। আমি নেমে প্রথম ওভারেই (ড্যারেন) পাওয়েলকে চারটি বাউন্ডারি মারি। একটি ডাবলও নিই। ৫ বলেই ১৮ নিয়ে ফেলি। এরপর তো টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের দ্রুততম ফিফটিও করে ফেলি (ওই আসরেই ১২ বলে ফিফটি করে যে রেকর্ড ভাঙেন যুবরাজ সিং)। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে প্রথম ম্যাচ হারায় সেটি ছিল ওদের জন্য ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচ। ওদের ওপর তাই চাপটা বেশিই ছিল। আমি ছিলাম নির্ভার। পরীক্ষায় প্রশ্ন কমন পড়লে যে আনন্দ নিয়ে উত্তর লেখা যায়, আমিও প্রতিটি বলই খেলছিলাম সেই আনন্দ নিয়ে। কোন বল কিভাবে আসবে, তা আগে থেকে বুঝতেও পারছিলাম।

প্রতিবারই আমি আশায় থাকি, ২০০৭-এর আমার মতো ম্যাচ জেতানো ইনিংস মূল পর্বে আরো কেউ খেলবে, কিন্তু এত দিনেও সেই অপেক্ষার অবসান হলো না। এবার হবে আশা রাখি। আফগানিস্তান খুব শক্ত প্রতিপক্ষ যদিও। তবু ওদের বিপক্ষে যদি জিততে পারি আর ওদিক থেকে যদি আয়ারল্যান্ড কোয়ালিফাই করে আসে, এই দুটি ম্যাচই জেতার সুযোগ দেখি। যদিও জিম্বাবুয়ের পর দেশে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডকে সিরিজ হারানোর পর অনেকেই আশা করছে যে বাংলাদেশ সেমিফাইনাল খেলবে। আমিও অনেক জায়গায় বলেছি যে সেমিফাইনাল খেলার সম্ভাবনা আছে, কিন্তু বাস্তবতা যদি চিন্তা করি, তাহলে মূল পর্বে দুটি ম্যাচ জিতলেই আমি মনে করি ভালো ফল। সেমিফাইনাল বা ফাইনাল খেলতে পারলে তো আলহামদুলিল্লাহ। তবে অন্তত দুটি ম্যাচ যেন আমরা জিতি।

অনেকেই প্রশ্ন করতে পারেন, কেন দুটি ম্যাচের বেশি জেতার আশা করছি না? অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড তাদের যে দল পাঠিয়েছিল, তাতে ব্যাটিং গভীরতা ছিল না। বলা যায়, খুবই দুর্বল ছিল। নিউজিল্যান্ডের একজনই মানসম্পন্ন ব্যাটার ছিল, সে-ই আমাদের দুটি ম্যাচে হারিয়েছে। আবার উইকেটের সুবিধাও আমরা নিয়েছি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ম্যাচটি যেমন উইকেটে খেলেছি, তেমন উইকেটে খেলে যদি সিরিজগুলো জিততাম, তাহলে মনে করতাম যে ভালো কিছু করার সত্যিকারের সম্ভাবনা আছে। ওই ম্যাচে দারুণ উইকেটে খেলে নিউজিল্যান্ড করেছে ১৬০ আর আমরা অলআউট হই ১৩০ রানে। তার মানে আমরা আসলে ভালো অবস্থায় নেই। এখন মাহমুদ উল্লাহরা আমাকে ভুল প্রমাণ করতে পারলে খুশিই হব আমি। সে অপেক্ষায় আমি থাকবও। তবে এর আগ পর্যন্ত খুব বড় কোনো স্বপ্ন দেখছি না।



সাতদিনের সেরা