kalerkantho

রবিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৮ নভেম্বর ২০২১। ২২ রবিউস সানি ১৪৪৩

তাঁদের সাতে সাত

পথচলার শুরু ২০০৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায়। এবার ওমান-আরব আমিরাতে হচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সপ্তম আসর। মাঝখানে বদলে গেছে কত কিছু। খেলে চলেছেন শুধু ছয় ক্রিকেটার। ২০০৭ সালে প্রথম বিশ্বকাপের মতো এবার সপ্তম আসরেও খেলবেন সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদ উল্লাহ, ক্রিস গেইল, ডোয়াইন ব্রাভো ও রোহিত শর্মা। তাঁদের বিশ্বকাপের গল্প শোনাচ্ছেন রাহেনুর ইসলাম

১৭ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



তাঁদের সাতে সাত

সাকিব আল হাসান

বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচের নায়কই সাকিব আল হাসান। ২০০৭ বিশ্বকাপে ফেভারিট ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৬ উইকেটে হারায় বাংলাদেশ। ৪ উইকেট নিয়ে সাকিবই বড় হতে দেননি স্কোরটা, ওয়েস্ট ইন্ডিজকে আটকে রাখেন ১৬৪ রানে। ১৪ বছর পরও বাংলাদেশের বিশাল প্রত্যাশা এই অলরাউন্ডারকে ঘিরে। বিশ্বকাপে ২৫ ম্যাচে সাকিবের রান বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৬৭। গড় ২৮.৩৫ আর স্ট্রাইক রেট ১২৮.২৬। সর্বোচ্চ রানের ইনিংস ৮৪, ফিফটি আছে তিনটি। বল হাতেও দুর্বার বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার। বাংলাদেশের পক্ষে সবচেয়ে বেশি ৩০ উইকেট তাঁরই। গড় ১৯.৫৩ আর ইকোনমি রেট ৬.৬৪। টি-টোয়েন্টির ধুন্ধুমার ব্যাটিংয়ের এই যুগে প্রতি ওভারে ৭ রানের কম দেওয়াটা কৃতিত্বের। বাছাই পর্ব আর সুপার টুয়েলভে ভালো কিছু করতে হলে আরো একবার জ্বলে উঠতে হবে সাকিবকে। গত ওয়ানডে বিশ্বকাপে রূপকথার কীর্তিতে ৬০৬ রানের পাশাপাশি নিয়েছিলেন ১১ উইকেট! অধিনায়ক মাহমুদ উল্লাহর প্রত্যাশা, ‘আমি মনে করি, ২০১৯ বিশ্বকাপে সাকিব যে রকম পারফরম করেছে, এবার তার চেয়েও ভালো কিছু করবে।’

 

ডোয়াইন ব্রাভো

টি-টোয়েন্টিতে এক ওভারেই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিতে পারেন যে কয়েকজন, ডোয়াইন ব্রাভো তাঁদের অন্যতম। ৬০০ উইকেট আর সাত হাজার ৫০০ রানের বেশি করেছেন এই ফরম্যাটে। বিশ্বকাপেও সফল তিনি। ২৯ ম্যাচে ১২৯.২৩ গড়ে করেছেন ৫০৪ রান। হাফসেঞ্চুরি তিনটি। বল হাতে ৮.৮৭ স্ট্রাইক রেটে উইকেট ২৫টি। এই ৩৮ বছর বয়সে আরো একবার জ্বলে উঠতে আরব আমিরাতে এসেছেন ব্রাভো। তিনি সাফল্য পেলে ‘চ্যাম্পিয়ন’ গানে মাততেই পারে ক্যারিবীয়রা।

 

ক্রিস গেইল

টি-টোয়েন্টিতে তিনিই কি সর্বকালের সেরা? না হলেও ‘ইউনিভার্স বস’ নিশ্চিতভাবে। পৃথিবীর কম দেশই আছে, যেখানে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ হয় আর পা পড়েনি ক্রিস গেইলের। বিশ্বজুড়ে গেইল খেলেছেন ৪৪২ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। রান ১৪ হাজার ১৭৯। সেঞ্চুরিই আছে ২২টি! আর কোনো ব্যাটার ধারেকাছে নেই গেইলের। তবে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ স্কোরার নন ‘ইউনিভার্স বস’। ২৮ ম্যাচে ১৪৬.৭৩ স্ট্রাইক রেটে রান দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৯২০। সেঞ্চুরি দুটি, ফিফটি সাতটি। ৩১ ম্যাচে এক হাজার ১৬ রান নিয়ে গেইলের সামনে শ্রীলঙ্কান কিংবদন্তি মাহেলা জয়াবর্ধনে।

 

রোহিত শর্মা

২০০৭ বিশ্বকাপে ভারতের শিরোপা জয়ের অন্যতম নায়ক রোহিত শর্মা। এবারের আসরেও ওপেনিংয়ে ভরসার নাম তিনিই। পাশাপাশি পালন করবেন সহ-অধিনায়কত্বের দায়িত্ব। বিরাট কোহলি বিশ্বকাপের পরই ছাড়ছেন টি-টোয়েন্টির নেতৃত্ব। তাঁর চেয়ার পাওয়ার দৌড়েও এগিয়ে রোহিত। বিশ্বকাপের ছয় টুর্নামেন্টে ২৫ ইনিংসে ৩৯.৫৮ গড়ে এই ওপেনারের রান ৬৭৩। স্ট্রাইক রেট ১২৭.২২, হাফসেঞ্চুরি ছয়টি আর সর্বোচ্চ রানের ইনিংস ৭৯*।

 

মাহমুদ উল্লাহ

মিডল অর্ডারে তিনি ভরসার নাম। অফস্পিনেও কার্যকর। এবারের বিশ্বকাপে দায়িত্ব আরো বেড়েছে মাহমুদ উল্লাহর। তিনি দলের অধিনায়ক। মাহমুদের হাত ধরে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়া আর নিউজিল্যান্ডকে টি-টোয়েন্টি সিরিজ হারিয়েছে বাংলাদেশ। প্রত্যাশার পারদটা তাই চড়ছে। আগের ছয় বিশ্বকাপে অবশ্য বিবর্ণও ছিলেন না মাহমুদ। ২২ ম্যাচে রান ১৯৪। বল হাতে ৩৭ ওভারে উইকেট ৮টি।

৩৫ বছর ছাড়িয়ে যাওয়া মাহমুদের ব্যাট ধারালো হয়েছে আরো। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর পাঁচটি ইনিংস ১৪*, ৩৭*, ৩, ৪৩* ও ২৩। চতুর্থ ম্যাচে চাপের মুখে ৪৮ বলে ৪৩ রানে নিশ্চিত করেছিলেন ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ জয়। তাঁর এই ছন্দটাই এবারের বিশ্বকাপে চাইবে বাংলাদেশ।

 

মুশফিকুর রহিম

টেকনিক্যালি বাংলাদেশের সেরা ব্যাটার মুশফিকুর রহিম। ৩৯২ আন্তর্জাতিক ম্যাচে রান ১২ হাজার ৫৯৫। তবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এখনো নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি মুশফিক। আগের ছয় আসরে ২৫ ম্যাচে ব্যাট করেছেন ২০ ইনিংসে। ফিফটি নেই একটিও। মাত্র ১৬.১২ গড় ও ১০৪.৪৫ স্ট্রাইক রেটে রান করেছেন ২৫৮। ২০১৬ বিশ্বকাপে ভারতকে বাগে পেয়েও হারাতে না পারার দুঃখ আজীবন বয়ে বেড়াবেন মুশফিক। ভারতের ১৪৬ রানের জবাবে বাংলাদেশ থামে ৯ উইকেটে ১৪৫ রানে! জয়ের জন্য শেষ ওভারে দরকার ছিল ১১ রান। হার্দিক পাণ্ডের তৃতীয় ও চতুর্থ বলে টানা দুই বাউন্ডারি মুশফিকের। শেষ তিন বলে দরকার মাত্র ২। কিন্তু স্লো শর্ট বল পুল করতে গিয়ে মিড-উইকেটে শিখর ধাওয়ানের তালুবন্দি মুশফিক। পরের বলটা ফুলটস। ছক্কার নেশায় এবার আউট মাহমুদ উল্লাহ। জেতা ম্যাচ হেরে যায় বাংলাদেশ।



সাতদিনের সেরা