kalerkantho

রবিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৮ নভেম্বর ২০২১। ২২ রবিউস সানি ১৪৪৩

বিশ্বকাপের রোমাঞ্চ

বিশ্বকাপের সপ্তম আসরের পর্দা উঠছে আজ। রোমাঞ্চ, উত্তেজনা, উন্মাদনার কমতি ছিল না আগের আসরগুলোতে। ২০০৭ বিশ্বকাপে যুবরাজ সিংয়ের ছয় বলে ছয় ছক্কা কিংবা গত আসরের ফাইনালে কার্লোস ব্রাথওয়েটের টানা চার ছক্কা—রূপকথা হয়ে আছে এখনো। রোমাঞ্চকর এমন কয়েকটি মুহূর্ত বেছে নিলেন রাহেনুর ইসলাম

১৭ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিশ্বকাপের রোমাঞ্চ

যুবরাজের ছয় ছক্কা

২০০৭ সালের প্রথম বিশ্বকাপ। ডারবানে ভারতের বিপক্ষে ১৯তম ওভারটি করতে এলেন স্টুয়ার্ট ব্রড। সেই ওভারটি সারা জীবনের দুঃখ হয়ে আছে ব্রডের। বিধ্বংসী যুবরাজ সিং টানা ছয় বলে হাঁকালেন ছয়টি ছয়! টি-টোয়েন্টি ইতিহাসেই প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ৬ বলে ছয় ছক্কার কীর্তিটা গড়েন যুবরাজ। প্রথম ৬ বলে তাঁর রান ছিল ১৪। ১২ বল শেষে রান ৫০! এই সংস্করণের দ্রুততম ফিফটিও এটা। ভারতের ২১৮ রানের জবাবে ইংল্যান্ড করেছিল ২০০।

 

লর্ডসে ডাচ বীরত্ব

২০০৯ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই অঘটন। নেদারল্যান্ডসের কাছে শেষ বলে ৪ উইকেটে হেরে যায় ইংল্যান্ড। ‘ক্রিকেট তীর্থ’ লর্ডসে শুরুতে ব্যাট করে ইংল্যান্ড পায় ১৬২ রানের পুঁজি। জবাবে ৪৯ রানের ইনিংস জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন টম ডি গ্রুথ। এর পরও শেষ বলে জয়ের জন্য দরকার ছিল ২ রান। স্টুয়ার্ট ব্রডের সুযোগ ছিল এডগার স্কিফেরলিকে রান আউট করে দলকে জেতানোর। থ্রোর সময় তিনটি স্টাম্পই ছিল ভালো পজিশনে, কিন্তু স্নায়ুর চাপে হয়ে যায় ওভার থ্রো! ২ রান নিয়ে রূপকথার জয় ডাচদের। ম্যাচের নায়ক টম ডি গ্রুথ বলেছিলেন, ‘এখন শান্তিতে মরতে পারব!’

 

হেরাথ জাদু

২০১৪ বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছিল শ্রীলঙ্কা। সেমিফাইনালে পৌঁছতে বাঁচা-মরার ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে হারাতেই হতো। অথচ চট্টগ্রামের সেই ম্যাচে তারা অল আউট ১১৯ রানে। এর পরই বল হাতে রঙ্গনা হেরাথের জাদু। ৩ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ৫৯ রানের বিখ্যাত জয় এনে দেন লঙ্কানদের। স্পিন বিষে কিউইদের নীল করার পাশাপাশি মার্টিন গাপটিল ও কেন উইলিয়ামসনকে রান আউটও করেছিলেন তিনি।

 

রুট-রয়ের বিস্ফোরণ

মুম্বাইয়ে রানের সুনামিই হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা-ইংল্যান্ড ম্যাচে। ২০১৬ বিশ্বকাপে সুপার টেনের ম্যাচটিতে ২২৯ রানের পাহাড় গড়ে প্রোটিয়ারা। দক্ষিণ আফ্রিকা অনেকটা নির্ভার হয়েই নামে ফিল্ডিংয়ে। কিন্তু ১৬ বলে ৪৩ রানের বিস্ফোরণে ইংল্যান্ডকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন জেসন রয়। এরপর হালটা ধরেন জো রুট। ৪৪ বলে ৮৩ রানের ইনিংসে ইংল্যান্ডের ২ উইকেটের স্মরণীয় জয়ের নায়ক তিনি।

 

অবিশ্বাস্য ব্রাথওয়েট

শেষ ওভারে চাই ১৯ রান। ক্রিস গেইল, আন্দ্রে রাসেল, ডোয়াইন ব্রাভো, ড্যারেন সামির মতো ব্যাটসম্যানরা ফিরেছেন ড্রেসিংরুমে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শিরোপার সুবাসই পাচ্ছিল ইংল্যান্ড। তখনই জন্ম কার্লোস ব্রাথওয়েট নামের নতুন তারকার। শেষ ওভারে বেন স্টোকসকে টানা চারটি ছক্কা মারেন তিনি! ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইডেনের ফাইনালে রূপকথার জয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের। ম্যাচ শেষে এই ক্যারিবীয় বলেছিলেন, ‘আমি ব্রাথওয়েট। নামটা স্মরণে রাখবেন!’ কথাটা অবিচ্ছেদ্য অংশই হয়ে আছে বিশ্বকাপের।



সাতদিনের সেরা