kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১ ডিসেম্বর ২০২২ । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

[ মনে পড়ে ]

এত টাকা একসঙ্গে কখনোই দেখিনি

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এত টাকা একসঙ্গে কখনোই দেখিনি

সেদিন কী যে গরম পড়েছিল বলে বোঝাতে পারব না। গাছের পাতাগুলোও যেন না নড়ার জেদ ধরেছে। আর সুয্যিমামা! সে যে মাথার ওপর দাঁড়িয়েছে তো দাঁড়িয়েছেই! রোদ যখন একটু নামবে নামবে করছে, তখনই নদীর দিকে রওনা হলাম। গামছাটা মাথার ওপর মেলে গুনগুন করতে করতে হাঁটছি আর তখন দেখলাম পাশ দিয়ে দুজন বিদেশি লোক নিজেদের মধ্যে কথা বলতে বলতে হনহন করে নদীর দিকে এগোচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন

লোক দুটি যে কোরিয়ান ছিলেন, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কেননা তখন আমাদের এলাকায় ইপিজেডে মাল্টিন্যাশনাল কম্পানির কাজ চলছিল। তাই কোরিয়ানদের আনাগোনা ছিল বেশি। সেই দুজনের মধ্যে একজনের হাতে ছিল কালো একটি ব্যাগ। তাঁদের পরনে ভারী প্যান্ট-কোট দেখেই যেন আমার আরো বেশি গরম লাগতে শুরু করল। আমি জোরে হেঁটে নদীর দিকে গেলাম। গিয়ে দেখি সেই দুটি লোক মাঝিদের ডেকে আধো বাংলায় কী যেন বলছেন। হাত নাড়ানো দেখে বুঝলাম তাঁরা ওপারে যেতে চাচ্ছেন। সেদিকে ভ্রুক্ষেপ না করে গোসলে মন দিলাম। গোসলের ফাঁকে একনজর তাকিয়ে দেখি তাঁরা নৌকায় উঠে পড়েছেন। নৌকাও চলে যাচ্ছে। মিনিট দশেক নদীতে ঝাঁপাঝাঁপি করে তীরে এসে ভেজা জামা ছাড়ছি—এমন সময় কী যেন কালোমতো কচুরিপানায় দেখলাম। প্রথমে তেমন খেয়াল করিনি। হুট করে মনে পড়ল, এ তো সেই ব্যাগ! কিছুক্ষণ আগে লোক দুটির কাছে ছিল। পরমুহূর্তেই তাকিয়ে দেখি তাঁরা প্রায় নদীর মাঝামাঝি চলে গেছে। কৌতূহলবশত ব্যাগের কাছে গেলাম। ‘ব্যাগ কি খুলব? খোলাটা কি ঠিক হবে?—চিন্তা মাথায় হানা দিচ্ছে। পরে ব্যাগটা খুলেই চক্ষু ছানাবড়া হয়ে গেল। কতক্ষণ যে সেখানে ওভাবে দাঁড়িয়ে ছিলাম বলতে পারব না। ব্যাগভর্তি টাকা। এত টাকা একসঙ্গে কখনোই দেখিনি। ব্যাগের চেইন বন্ধ করে হতভম্ব হয়ে বসে আছি। কী করব কিছু বুঝতেই পারছিলাম না। একবার ভেবেছি কিছু দেখিনি ভেবে চলে যাই। কিন্তু কী মনে করে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলাম। একটু পর দেখি সেই দুই বিদেশি আবার ফিরে আসছেন। তীরে নেমেই দৌড়ে আমার কাছে এলেন। তাঁদের মুখ পুরো ফ্যাকাসে হয়ে গেছে দেখে আমি সব বললাম। শুনে আধো বাংলা, আধো ইংরেজিতে তাঁদের একজন আমাকে যা বললেন, তা মোটামুটি এ রকম—‘তোমাকে ধন্যবাদ। তুমি আমাদের ব্যাগ নিয়ে চলে যাওনি। আসলে আমরা খুব তাড়ায় ছিলাম। তাই ব্যাগটা যে ফেলে চলে যাচ্ছি খেয়ালই করিনি। তুমি না থাকলে খুব ক্ষতি হয়ে যেত। আবারও ধন্যবাদ। ’

লোকটির কথার উত্তরে হেসে দিলাম। তারপর তিনি দুটি ১০০ টাকার নোট দিয়ে বললেন, ‘কিছু খেয়ো। ’ আমিও খুশিমনে নাচতে নাচতে বাড়ি ফিরলাম। মাকে সব খুলে বলব কি না চিন্তা করছি। যদি মা আমায় খুব বকুনি দেন? কেন আমি ব্যাগ নিয়ে আসলাম না? খুব ভয়ে ভয়ে সব বলার পর মা আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললেন, ‘খুব ভালো কাজ করেছিস, মা। ’ মায়ের কথা শুনে নিজেকে খুব বোকা মনে হচ্ছিল। কী ভেবেছিলাম মাকে!

সাবিহা জান্নাত

দশম শ্রেণি, মেঘনা শিল্পনগরী স্কুল অ্যান্ড কলেজ, নারায়ণগঞ্জ

 



সাতদিনের সেরা