kalerkantho

বুধবার । ২৯ জুন ২০২২ । ১৫ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৮ জিলকদ ১৪৪৩

হনুমানের লেজ

বাবলু ভঞ্জ চৌধুরী

২৩ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



হনুমানের লেজ

আঁকা : নাহিদা নিশা

‘আমি একটা অনুমান দেখেছি!’ আড়াই বছরের আরুশ হনুমানকে অনুমান বলে।

মা বললেন, ‘তাই নাকি! কোথায়?’

‘উই বাকানে!’

‘কই চলো তো দেখি!’

আরুশ দুই হাত উঁচু করে ধরল। তাকে কোলে নিতে হবে, হেঁটে যেতে পারবে না।

পুকুরপারে বুড়ো একটা আমড়াগাছকে জড়িয়ে আছে চারটি সুপারি ও দুটি কলাগাছ।

বিজ্ঞাপন

আমড়ার একটি ন্যাড়া ডালে দড়ির মতো ঝুলছে কলাগাছের শুকনা পাতা, যাকে বলে কলার বাসনা।

আরুশ সেটি দেখিয়ে বলল, ‘উই অনুমানের লেজ!’

মা খিক করে হেসে ফেললেন, ‘চলো তো লেজে চিমটি কাটি!’

‘না, না!’ আরুশের চোখ গোল গোল হয়ে গেল, ‘লেজে কাঁটা!’

‘অনুমানের লেজে কাঁটা!’

‘হু! এই দেখো!’ ভাগ্যিস দুই দিন আগে আরুশের একটি আঙুলে মশা কামড়েছিল, তার একটি কালচে বিন্দুর মতো ছোপ এখনো আছে, আরুশ সেটি দেখিয়ে বলল, ‘এই দেখো কাঁটা মেরেছে!’

‘ওরে বাবা, সত্যি তো! কাঁটা মেরেছে তো! তাহলে একদম ওদিকে যাব না!’

পাঁচ বছরের রফি আমড়া কুড়াতে ওই পথ দিয়ে যাচ্ছিল। কথাবার্তা শুনে সে বলল, ‘আরে হনুমানের লেজ না ও! কলার বাসনা!’

অমনি কেঁদে উঠল আরুশ, ‘না, না, না! কলার বাসনা না! রফি কিছু জানে না,’ বলতে বলতে মায়ের কোল ঝাঁকাতে লাগল জোরে।

মা সামলাতে না পেরে রফিকে দিলেন তাড়া, ‘অ্যাই রফি, তুই কী জানিস! ওটা হনুমানই! যা এখান থেকে!’

রফি তাড়া খেয়ে সটান চলে গেল আমড়াগাছের কাছে, তার পরে এক টানে কলার সেই বাসনা ছিঁড়ে হাতে পেঁচিয়ে ওদের দেখিয়ে বলল, ‘এই দেখো কলার বাসনা এটা, হনুমানের লেজ না! এতে কোনো কাঁটাও নেই, এই দেখো আমি কামড়াচ্ছি!’ রফি গাঁক-গাঁক করে হাতে পেঁচানো কলার বাসনায় কামড় বসাতে লাগল।

আরুশ ওই দেখে মায়ের আঁচলে মুখ ঢাকল। মুখ ঢেকে রেখেই আঁচলের আড়াল থেকে সকরুণ দৃষ্টিতে রফিকে দেখছিল।

একটি ছাগল কলার ওই বাসনা খাবে বলে তক্কেতক্কে ছিল। রফি আবার কালো প্যান্ট পরেছে, ছাগলেরও রং কালো, কি না কি ভেবে ঘাসবন থেকে তেড়ে এসে ছাগলটি রফিকে আচ্ছা করে গুঁতাতে লাগল। আচমকা গুঁতা খেয়ে পাশের আমগাছ উপড়ানো গর্তে কাত হয়ে পড়ল রফি।

তাই না দেখে হাততালি দিয়ে উঠল আরুশ, ‘অনুমান অনুমান! আর লেজ ছিঁড়বি!’



সাতদিনের সেরা