kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জুন ২০২২ । ১৪ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৭ জিলকদ ১৪৪৩

এই গাছটির বয়স ১০০ বছর

মাসুম সায়ীদ

১৬ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এই গাছটির বয়স ১০০ বছর

ছবি : লেখক

এ দেশের এমন কোনো বাড়ি নেই, যাতে আমগাছ নেই। খোদ ঢাকা শহরের দরদালানের আনাচকানাচে চোখে পড়ে আমগাছ। ছাদের টবে তো আছেই। আমের দেশ রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

বিজ্ঞাপন

মাইলকে মাইলজুড়ে আমবাগান সেখানে। তবে সবচেয়ে প্রাচীন আমগাছটি কিন্তু চাঁপাই বা রাজশাহীতে নয়। ওটি গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার হিরণ্যকান্দি গ্রামে।

সাইকেলে নড়াইল থেকে ফরিদপুরের দিকে আসছিলাম। কালনা এসে মধুমতী পার হলাম ফেরিতে। নদীর পূর্ব পার থেকে শুরু গোপালগঞ্জ জেলা। তখন সবে কুয়াশার পর্দা ছিঁড়ে সূর্য উঠেছে। উজ্জ্বল রোদ। প্রশস্ত পাকা রাস্তা। বেশ নিরিবিলি। গুনগুন করে গান গাইতে গাইতে সাইকেল চালাচ্ছি। হঠাৎ রাস্তার ওপর চোখে পড়ল একটি সবুজ সাইনবোর্ড—‘শতবর্ষী আমগাছ তিন শ মিটার’। পাশেই একটি তেলের পাম্প। তার সাইনবোর্ডে জায়গাটির নাম দেখলাম হিরণ্যকান্দি। হিরণ থেকে হিরণ্য! বেশ সুন্দর নাম। দেখতে দেখতে চলে এলাম আমগাছটির পথের মুখে। বড় রাস্তা ছেড়ে দক্ষিণে ইট বিছানো পথ। ঢাল বেয়ে নেমে খানিকটা গেলেই হাতের ডানে দুটি বাড়ির পরে খোলা মাঠে গাছটি।

বা-প-রে, এ-ত্ত-ব-ড়! দূর থেকে দেখলে মনে হয় বটগাছ।

বিশাল একটি ক্ষেত। ক্ষেতের ঠিক মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে এই তরুবর। মূল কাণ্ডের এক মাথার উচ্চতা থেকে চারদিকে ছড়িয়ে গেছে বিশাল ৯টি মূল শাখা। দুটি পড়েছে কাটা অথবা ভেঙেছে ঝড়ে। একেকটা শাখা যেন বড়সড় গাছ। অনেক শাখা-প্রশাখা। নিচের শাখাগুলো নুয়ে পড়েছে মাটিতে। তলাটা ফাঁকা। কোনো গাছগাছালি বা লতাগুল্ম নেই, এমনকি ঘাসও। বড় গাছ কি না তাই। তলায় সব সময় ছায়া থাকে বলে কিছু জন্মাতে পারে না। গাছের তো আবার আলো না পেলে চলে না। সূর্যের আলোয় পাতার চুলায় তাদের রান্না।

উদ্ভিদের এই এক সুবিধা। খাদ্যের জন্য নির্ভর করতে হয় না অন্য কারো ওপর। শিকড় দেয় পানি। পাতা নেয় সূর্যের আলো। ব্যস! হয়ে গেল রান্না—ক্লোরোফিল; গাছের খাবার।

আশপাশে কেউ ছিল না কিছু জিজ্ঞেস করার। গাছের বয়স জানার একটি কায়দা বিজ্ঞানীরা বের করেছেন। এর জন্য গাছটি কাটতে হয়। বছর বছর একটি করে বৃত্ত বাড়তে থাকে গাছের কাণ্ডে। যত বৃত্ত তত বছর বয়স। মজার না ব্যাপারটা?

ঘুরে ঘুরে গাছটি দেখলাম। নুয়ে পড়া ডালে নানা অত্যাচারের দাগ। ডালপালা ভাঙা। পাতা মোড়ানো। আহ! মানুষ কী নিষ্ঠুর। বেড়াতে এসে ছবি তোলার জন্য দল বেঁধে উঠে পড়ে ডালে। মট করে ভাঙে ছোট ডাল। পাতা ছেঁড়ে। গাছেরও তো প্রাণ আছে। ডাল ভাঙলে, পাতা ছিঁড়লে তারা ব্যথা পায় না?

কিছুক্ষণ পর ফেরার পথ ধরলাম। এবার একজনকে পেলাম। বয়সের ব্যাপারে তারও অনুমান কল্পনা মেশানো—দেড় শ-দু শ ছাড়িয়ে। তাদের বাপ-দাদাও নাকি এ রকমই দেখেছেন গাছটিকে। মালিক বাদশা শেখ। যে জমিতে গাছ, ওটার পরিমাণ ৫৪ শতাংশ। তবে পাশের জমিতেও ঢুকে পড়েছে ডালপালা। গাছটির কথা আগে জানা ছিল না। হঠাৎ এটিকে পেয়ে বেশ আনন্দই লাগছে।

গাছটি দেখতে আসা লোকের ভিড় দিন দিন বাড়ছেই। সংরক্ষণের উদ্যোগ না নিলে অসচেতন মানুষের উৎপাত বাড়বেই। এখন কী আর অত কষ্ট বইবার শক্তি আছে তার?



সাতদিনের সেরা