kalerkantho

বুধবার । ১২ মাঘ ১৪২৮। ২৬ জানুয়ারি ২০২২। ২২ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

[ যেভাবে এলো ]

দিয়াশলাই

আল সানি   

৬ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দিয়াশলাই

ফরাসিরা বলত মেসে, ইংরেজরা ম্যাচ আর আমরা বলি দিয়াশলাই। শব্দটা এসেছে সংস্কৃত দীপশলাকা থেকে। নাম যা-ই হোক, এই বিশাল আবিষ্কারের কৃতিত্ব দেওয়া হয় জন ওয়াকার নামের এক ইংরেজকে। তিনি কাজ করতেন মেডিক্যাল সার্জনের সহকারী পদে।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু এই কাজে তাঁর মন বসত না। ১৮১২ সালে সার্জনের কাজ ছেড়ে দেন। কয়েক বছর পর জন ওয়াকার ‘chemist and druggist’ নামে একটি দোকান চালু করেন নিজ শহরে। তবে বেচাবিক্রির চেয়ে ওয়াকারের মন পড়ে থাকত রসায়নের ব্যাবহারিক গবেষণার প্রতি। এ রকমই একদিন তিনি তাঁর দোকানে গবেষণায় ব্যস্ত। টেবিলের ওপর গবেষণার উপাদান হিসেবে রেখেছেন অ্যান্টিমনি সালফায়েড, পটাসিয়াম ক্লোরেট ও আঠার দ্রবণ। হঠাৎ কী মনে করে তিনি এই দ্রবণে সালফার লাগানো একটি কাঠের টুকরা ডোবালেন। কিছুক্ষণ পর টুকরাটি ওপরে রেখে শুরু করলেন অন্য কাজ। ঘটনাক্রমে এই কাঠের টুকরার সঙ্গে ঘরের ফায়ারপ্লেসের ঘর্ষণ হলো। সঙ্গে সঙ্গে আগুন ধরে গেল। ওয়াকার নিজের অজান্তেই যুগান্তকারী এক আবিষ্কার করে ফেলেন তখনই। এটা ১৮২৬ সালের কথা। সাতপাঁচ না ভেবে ওয়াকার দ্রুতই তাঁর উদ্ভাবন করা দিয়াশলাই বাজারে ছেড়ে দিলেন। ওই সময় একেকটি বক্সে ৫০টি করে কাঠি থাকত। প্রতিটি কাঠি সালফারের দ্রবণে চুবিয়ে একেবারে মাথায় লাগানো থাকত অ্যান্টিমনি সালফায়েড, পটাসিয়াম ক্লোরেট ও আঠার দ্রবণ। আর প্রতিটি বক্সের সঙ্গে দিতে হতো শিরীষ কাগজ। এতে এই কাগজে ঘষে সবাই সহজে আগুন জ্বালাতে পারে। জন ওয়াকার দিয়াশলাই আবিষ্কার করলেও নিজের নামে পেটেন্ট করার সুযোগ পাননি। এই ফাঁকে বলে রাখি, পেটেন্ট মানে মেধাস্বত্ব। কেউ নতুন কিছু আবিষ্কার বা পুরনো কিছু নতুন করে উন্নত করলে তাঁর সাফল্যকে স্বীকৃতি দিতেই পেটেন্টের জন্ম। ওয়াকারের আগে স্যামুয়েল জোনস নামের এক গবেষক নিজের নামে দিয়াশলাই আবিষ্কারক হিসেবে পেটেন্ট করে নেন। লুসিফার নামের এক দিয়াশলাই বাজারেও আনেন তিনি। কিন্তু লুসিফারের ছিল অনেক সমস্যা। জ্বালানোর সময়ে বাজে গন্ধ আর আতশবাজির মতো আগুনের ফুলকি বের হতো। ১৮৩০ সালের দিকে চার্লস সারিয়া নামের এক রসায়নবিদ জোনসের লুসিফার দিয়াশলাইয়ে সাদা ফসফরাস যোগ করেন। এতে গন্ধ খানিকটা কমলেও দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে যায়। একটু উষ্ণ আবহাওয়াতেই এই কাঠি জ্বলে উঠত। ফলে পকেটে নিয়ে চলাচল ছিল বিপজ্জনক। আবার সাদা ফসফরাস মানুষের স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর। দিয়াশলাই কারখানার শ্রমিকরা দাঁত ও মুখের ক্ষত রোগে আক্রান্ত হতে থাকলেন। ১৮৪৪ সালে লাল ফসফরাস আবিষ্কার হওয়ার পর থেকে এটিই দিয়াশলাইয়ের মিশ্রণে ব্যবহার হতে থাকে। বিষাক্ত হলেও দাহ্যতা কম থাকার কারণে এটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। কিন্তু আবার বাধল বিপত্তি। অনেক মানুষ আত্মহত্যার সরঞ্জাম হিসেবে বেছে নিতে থাকল এই ধরনের বিষাক্ত ফসফরাসের কাঠি।

১৯১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ডায়মন্ড ম্যাচ কম্পানি’ সর্বপ্রথম নিরাপদ দিয়াশলাইয়ের নকশা করে। তারা দিয়াশলাইয়ের দ্রবণে ব্যবহার করতে শুরু করে ‘সেসকুইসালফায়েড অব ফসফরাস’। বাজে গন্ধ কিংবা দাহ্যতা—দুটিই একেবারে কম মাত্রায় থাকার কারণে ধীরে ধীরে বিশ্বের সব দিয়াশলাই কারখানা ডায়মন্ড ম্যাচ কম্পানির নকশা অনুসরণ করতে থাকে।

 



সাতদিনের সেরা