kalerkantho

বুধবার । ১২ মাঘ ১৪২৮। ২৬ জানুয়ারি ২০২২। ২২ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

জাদুর গাছ

ধ্রুব নীল

৬ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জাদুর গাছ

অঙ্কন : প্রসূন

এক ছিল কাঠুরে। মানে যে গাছ কেটে লাকড়ি বানায়। একদিন সেই কাঠুরে গেল জঙ্গলে। জঙ্গলভর্তি ঝোপঝাড়।

বিজ্ঞাপন

কাঠুরে কোনো গাছই পাচ্ছে না। সবই কেটে ফেলেছে। এদিকে দুপুর হয়ে গেল। অনেক রোদ। কাঠুরে খুব ক্লান্ত। হাঁটতে হাঁটতে কাঠুরে দেখতে পেল একটা গাছ। সবে নতুন পাতা ধরেছে। কাঠুরে ভাবল, আগে গাছটার তলায় বিশ্রাম নেওয়া যাক। এদিকে গাছটাও খুব অন্য রকম। পাতাগুলোও চমৎকার। লাল, নীল ও কমলা রঙের পাতা। এমন আজব গাছ কাঠুরে জীবনেও দেখেনি। যেই না কাঠুরে ওই গাছে কোপ বসাতে যাবে, অমনি গাছটা ঠিক তোমাদের মতো করে কথা বলে উঠল। গাছটা বলল, আমাকে কেটো না কাঠুরে ভাই। আমি বাঁচতে চাই। কাঠুরে তো অবাক। কথা বলা গাছ সে তার দাদার জন্মেও দেখেনি। কাঠুরে অবশ্য ভয় পেল না। গাছ আজ সে কেটেই ছাড়বে। কিন্তু গাছটা এবার তার ডাল আর পাতা দুলিয়ে বলল, হাতজোড় করে বলছি, আমায় কেটো না। আমি ভবিষ্যতে তোমাকে অনেক কিছু দেব।

কাঠুরে বলল, তুমি আবার কী দেবে শুনি। তোমাকে কাটলে লাকড়ি পাব। সেটা দিয়ে রান্না করে খাব। বলো তো কাঠুরে কেন গাছ কাটতে চায়? এরপর গাছটা বলল, আশপাশে খুঁজে দেখো। কত মরা ডালপাড়া, খড়ি আর শুকনো পাতা পাবে। সেগুলো নিয়ে যাও। আজ আমাকে ছেড়ে দাও। কাঠুরে ভাবল, আচ্ছা গাছটা আরেকটু বড় হোক। তখন কাটা যাবে। এরপর কাঠুরে আশপাশ থেকে খড়ি, শুকনো পাতা এসব নিয়ে চলে গেল তার বাড়ি। কয়েক দিন পরই ফুরিয়ে গেল লাকড়ি। কাঠুরে গেল আবার সেই গাছের কাছে। অবাক কাণ্ড। গাছটা আগের চেয়েও বড় হয়ে গেল। কাঠুরে ভাবল, এবার একে কাটলে অনেক লাকড়ি পাব। যেই না কোপ বসাতে যাবে অমনি গাছটা বলে উঠল, আমাকে কেটো না কাঠুরে ভাই। আর কটা দিন সবুর করো। পাশের জঙ্গলে যাও। ওই বনে অনেক ফল পাবে। কয়েক দিন ফল খেয়ে কাটাও। কাঠুরে ওই দিনও গাছ না কেটে চলে গেল পাশের বনে। সেখানে কলা, আনারস আর নানা জাতের ফল পেল। সেগুলো নিয়ে চলে গেল বাড়ি। কিছুদিন ফল খেয়ে কাটাল কাঠুরে ও তার গিন্নি। আবার একদিন কাঠুরে গেল বনে। গাছে অনেক ফুল ধরেছে। ফুলগুলোর কী সুন্দর ঘ্রাণ! এমন সুন্দর গন্ধ কাঠুরে জীবনেও পায়নি। সে ভাবল, এটা নিশ্চয়ই জাদুর গাছ। কাঠুরে ভাবল, আজ তোমায় কাটতেই হবে। লাকড়ি ছাড়া রান্না হচ্ছে না যে। তারপর হলো কী, কাঠুরে তার কুঠার দিয়ে আঘাত করতে যাবে, অমনি হাজার হাজার শিশু চিৎকার করে উঠল। কাঠুরে অবাক। এ জঙ্গলে এত শিশু এলো কোথা থেকে! এদিকে শিশুর কণ্ঠে বলেই যাচ্ছে : আমাদের কেটো না। আমরা ছোট্ট ফুল। আমাদের বাঁচতে দাও। কাঠুরে বুঝল গাছের ফুলগুলোই কথা বলছে। ফুলগুলোই হলো গাছের শিশুরা। এমন সময় গাছটা গমগম করে বলল, আর একটু অপেক্ষা করলেই তোমার সব অভাব কেটে যাবে কাঠুরে ভাই। আমার গোড়ার কাছে কিছু গাজর আছে। আপাতত তুমি ওগুলো নিয়ে যাও। কাঠুরে ভাবল, ঠিক আছে সেটাই হোক। সে এবার ঝুড়ি ভরে নিয়ে গেল  গাজর। তোমরা তো জানোই গাজর কাঁচা খাওয়া যায়। এর কয়েক দিন পর কাঠুরে আবার গেল গাছের কাছে। কাঠুরে যা দেখল তাতে তার চোখ চকচক করে উঠল। গাছভর্তি দারুণ সব ফল। ফলগুলো থেকে যে কী সুন্দর ঘ্রাণ বের হচ্ছে! গাছটা বলল, এবার তুমি ইচ্ছামতো ফল নিয়ে যাও। ফলগুলো বিক্রি করে আরো অনেক কিছু কিনতে পারবে। আবার এগুলো খেতেও পারবে। এরপর সেই কাঠুরে ও তার গিন্নি এসে প্রতিদিন ঝুড়ি ভর্তি করে ফল নিয়ে যায়। কাঠুরে ঠিক করেছে সে আর গাছ কাটবে না। কারণ গাছ থেকে খড়ি পাওয়া যায়, ছায়া পাওয়া যায়, ঝুড়িভর্তি ফলও পাওয়া যায়।



সাতদিনের সেরা