kalerkantho

শনিবার । ১৫ মাঘ ১৪২৮। ২৯ জানুয়ারি ২০২২। ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

[ খে লা র দু নি য়া ]

ক্রিকেট বলের ভেতর-বাহির

অন্যান্য খেলার তুলনায় ক্রিকেট খেলার হিসাব-নিকাশ বেশ জটিল। ক্রিকেট বলও তেমনি। একে তো দাম বেশি, তার ওপর সেটা দিয়ে খেলার নিয়ম-কানুনও অনেক। ক্রিকেট বলের বিস্তারিত জানাচ্ছেন নাবীল অনুসূর্য

১ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ক্রিকেট বলের ভেতর-বাহির

বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমান, তথ্য সূত্র : আইসিসি-ক্রিকেট ডটকম, লর্ডস ডটওআরজি, কিডল ডটকো, রেডিফ ডটকম

ক্রিকেট বল খুব শক্ত হয়। কিন্তু বানানো হয় নরম সব জিনিস দিয়ে। একেবারে ভেতরে থাকে একটা কর্কের টুকরা। দেখতে ছোট টেনিস বলের মতো।

বিজ্ঞাপন

সেটা সুতা দিয়ে খুব করে প্যাঁচানো হয়। আর ওপরে থাকে চামড়া বা লেদারের আবরণ। সে জন্য চার টুকরা চামড়া ব্যবহার করা হয়। প্রথমে দুটি দুটি করে সেলাই করা হয়। তারপর সেগুলো ছাঁচে ফেলে দুটি অর্ধ গোলাকৃতির টুকরা বানানো হয়। সে দুটির মাঝে ভরা হয় সুতা দিয়ে প্যাঁচানো কর্কের গোলকটা। তারপর করা হয় আসল সেলাই। যেটা দেখা যায়। মোট ছয়টি সেলাই করা হয়। এরপর সেগুলো ছাঁচে বসিয়ে চেপে সমান করা হয়। এই সেলাইয়ের অংশটিকে বলা হয় ‘সিম’।

 

ওজনের রকমফের

ছেলেদের ক্রিকেটে বলের ওজন হতে হয় ১৫৫.৯ থেকে ১৬৩ গ্রামের মধ্যে। আর মেয়েদের ক্রিকেটে ১৪০ থেকে ১৫১ গ্রামের মধ্যে। ১৩ বছরের কম বয়সীদের ক্রিকেটে ১৩৩ থেকে ১৪৪ গ্রামের মধ্যে।

বিভিন্ন আকারের বল

ছেলেদের ক্রিকেটের জন্য বলের পরিধি থাকতে হয় ২২.৪ থেকে ২২.৯ সেন্টিমিটারের মধ্যে। মেয়েদের ক্রিকেটে ২১ থেকে ২২.৫ সেন্টিমিটার। আর ১৩ বছরের কম বয়সীদের ক্রিকেটে ২০.৫ থেকে ২২ সেন্টিমিটার।

 

আম্পায়ারদের রাজত্ব

খেলা শুরুর আগেই ম্যাচে ব্যবহারের সব বল আম্পায়ারদের কাছে দেওয়া হয়। কেউ আউট হলে, ওভার শেষে বা যেকোনো বিরতির সময়ও বল জমা দিতে হয় তাঁদের কাছে।

 

চাইলেই নয় নতুন বল

শুধু খেলার শুরুতেই নতুন বল দেওয়া হয়। তবে টেস্ট ম্যাচে ইনিংসের মাঝেও নতুন বল পাওয়া যায়। সে জন্য অপেক্ষা করতে হয় ৮০ ওভার। তারপর বোলিং দলপতি চাইলে শুধু নতুন বল দেওয়া হয়।

 

প্রয়োজনে বল বদল

খেলার মধ্যে বল হারিয়ে গেলে বা ব্যাটাররা পিটিয়ে বল ছাতু বানিয়ে ফেললে বল পরিবর্তন করা যায়। যদি আম্পায়ারের মনে হয় বল বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তবে। সে জন্য অবশ্য নতুন বল নয়, কাছাকাছি অবস্থার পুরনো আরেকটি বল দেওয়া হয়।

 

কার জন্য কোন বল

নতুন বল দিয়ে ভালো সুইং করানো যায় বলে পেসারদের জন্য বেশি উপযোগী। আর পুরনো বলে সুবিধা পায় স্পিনাররা। তবে বলে যথেষ্ট গতি থাকলে আর ঠিকমতো পুরনো করতে পারলে পেসাররা করতে পারেন রিভার্স সুইং।

নানা রঙের বল

আগে ক্রিকেট মানেই ছিল সাদা জার্সি আর লাল বল। এখন সেসব কেবল টেস্ট ম্যাচেই ব্যবহৃত হয়।

সীমিত ওভারের, মানে ওডিআই এবং টি-টোয়েন্টি ম্যাচ হয় সাদা বলে। সম্প্রতি শুরু হয়েছে দিবারাত্রির টেস্ট। তাতে ব্যবহার হয় গোলাপি বল।

 

কারা বানায় ক্রিকেট বল

বর্তমানে তিনটি কম্পানি আন্তর্জাতিক খেলাগুলোর জন্য

ক্রিকেট বল বানায়। কুকাবুরা, ডিউকস এবং এসজি। এরমধ্যে ডিউকস এবং এসজি ব্যবহার করে অল্প কিছু দেশ। সেটাও কেবল টেস্টে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইংল্যান্ড আর আয়ারল্যান্ড ব্যবহার করে ডিউকস বল। এসজি বল ব্যবহার করে কেবল ভারত। বাকি সব খেলা হয় কুকাবুরা বল দিয়ে। এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও তাই।

বল নিয়ে ছেলেখেলা

রিভার্স সুইং করার জন্য বলের এক পাশ মসৃণ আর অন্য পাশ খসখসে রাখতে হয়। তবে সেটা করতে হবে বৈধভাবে। বল মাঠে বা অন্য কিছুতে ঘষা, নখ দিয়ে খোঁটানো, সিমের সেলাই খুলে ফেলা—এগুলো একেবারে নিষেধ।

 

কভিডে নতুন বিধি

রিভার্স সুইং করার জন্য ফিল্ডিং দলের সবাই সুযোগ পেলেই বলের একই পাশ বারবার করে ঘষতে থাকেন। আর অন্য পাশ মসৃণ রাখতে লালা মাখানো হতো। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে লালা ব্যবহার নিষেধ করে দেওয়া হয়েছে।

 

বলের বিকল্প বল

এমনিতেই ক্রিকেট বলের দাম বেশি, তার ওপর একটা দিয়ে বেশি খেলাও যায় না। তাই পাড়ার ক্রিকেটে সাধারণত ব্যবহার করা হয় টেনিস বল। তার ওপর অ্যাডহেসিব টেপ পেঁচিয়ে করা হয় শক্ত। এর জনপ্রিয় নাম ‘টেপ টেনিস বল’।

 

হীরার ক্রিকেট বল

হীরা দিয়ে প্রথম ক্রিকেট বল বানায় লঙ্কান জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান ফিওর ড্রেসেজ। সে জন্য ব্যবহার করে দুই হাজার ৭০৪টি হীরা। সিম বানায় ১৮ ক্যারটের ১২৫ গ্রাম সোনা দিয়ে। বলটির মোট ওজন ৫৩.৮৩ ক্যারেট।



সাতদিনের সেরা