kalerkantho

মঙ্গলবার । ৩ কার্তিক ১৪২৮। ১৯ অক্টোবর ২০২১। ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

[ কে ন কি ভা বে ]

ছাতার কাপড় কালো কেন?

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ছাতার কাপড় কালো কেন?

কাঠফাটা রোদে তো বটেই, বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতেও ছাতা লাগে। ছাতার ওপরের কাপড়ে এখন নানা রং আর নকশা দেখা যায়। তবে একসময় ছিল শুধু কালো রঙেরই। কেন কালো রঙের তা জানার আগে জেনে আসি ছাতা আবিষ্কারের ইতিহাস।

ছাতা আবিষ্কারের দৌড়ে বেশির ভাগ প্রত্নতত্ত্ববিদ এগিয়ে রাখেন মিসরীয়দের। প্রাচীন মিসরের তিন থেকে চার হাজার বছরের পুরনো চিত্রকর্মে ছাতার অস্তিত্ব বোঝা যায়। যিশুখ্রিস্টের জন্মের এক হাজার বছরেরও বেশি আগে চীনারা এক ধরনের ছাতা ব্যবহার শুরু করে। যেসব ছাতা গাছের পাতা বা ছালবাকল থেকে তৈরি করা হতো। এভাবে দীর্ঘদিন চলার পর ব্যবহারের সুবিধার জন্য গাছের ছালবাকল বাদ দিয়ে পশুর চামড়া ব্যবহার শুরু করে চীনারা। কাছাকাছি সময়ে গ্রিস ও রোমের নারীরা ত্বকের সুরক্ষার জন্য ছাতা সঙ্গে রাখত। ধীরে ধীরে ছাতার ব্যবহার শখ থেকে প্রয়োজন হয়ে দাঁড়ায়। তত দিনে ষোড়শ শতাব্দী চলে এসেছে এবং ইউরোপ ছাতার ব্যবহার ঢাকঢোল পিটিয়েই শুরু করে দিয়েছে। তবে সেখানকার আবহাওয়া ছিল অতিরিক্ত ঠাণ্ডা। মাঝেমধ্যে তুষারপাত ও শিলাবৃষ্টিও হয়। এসব থেকে রক্ষা পেতে তারা প্রথম ছাতার ব্যবহার শুরু করে। তবে তখন ছাতার ওপরের কাপড়টা সিল্ক দিয়ে বানানো হতো, যা বৃষ্টি আটকানোর জন্য উপযোগী ছিল না। ছাতার হাতলটা ছিল কাঠের; বেশ ভারী। তাই অনেক চিন্তা-ভাবনা করে ছাতাকে পানিবিকর্ষী করতে তেল বা মোমের প্রলেপ দেওয়া শুরু হয়। ১৮৫০ সালে স্যামুয়েল ফক্স নামের এক ব্যক্তি ছাতায় কাঠের বদলে স্টিলের হাতল লাগানো শুরু করেন। ফলে ছাতা আগের চেয়ে মজবুত ও হালকা হয়ে যায়। এই পরিবর্তন নিয়ে তিনি গড়ে তুললেন বিখ্যাত ফক্স অ্যামব্রোলাস লিমিটেড। ধীরে ধীরে ছাতার ডিজাইনে নতুনত্ব আসে।

ভারতীয় উপমহাদেশে ছাতার ব্যবহার কবে থেকে শুরু হয়েছে তা নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে মতানৈক্য রয়েছে। কিন্তু প্রথম দিকে সব রকম ছাতার কাপড় কালো হওয়ার পেছনে ইংরেজদের অবদান আছে—তা নিয়ে কোনো মতভেদ নেই। ব্রিটিশরা ছাতার ওপরে কালো কাপড় রাখত; কারণ কালো রঙের কাপড় অন্য রঙের থেকে তাড়াতাড়ি শুকায়। সে অনুযায়ী তারা উপমহাদেশেও কালো ছাতা নিয়ে আসে। দেখাদেখি আমরাও কালো ছাতা ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়ে যাই।

  ►  আল সানি



সাতদিনের সেরা