kalerkantho

শনিবার । ১৬ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩১ জুলাই ২০২১। ২০ জিলহজ ১৪৪২

এক যে আছে মজার দেশ!

আহমাদ স্বাধীন   

২১ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এক যে আছে মজার দেশ!

আঁকা : প্রসূন

সবুজ আকাশের নিচে নীল নীল ঘাস আর গাছ। গাছের পাতার রং গাঢ় নীল। আর আকাশের গায়ে ভেসে বেড়াচ্ছে হালকা সবুজ মেঘের ভেলা। কী মজার ব্যাপার এটা। আরে, আরে—চাঁদের আলোও তো দেখা যাচ্ছে। এই দিনের বেলায় চাঁদের আলো! এখানে কেমন যেন সব ওলটপালট ব্যাপারস্যাপার। মজার এই দেশটাতে হুট করেই ঢুকে পড়েছে তুবা। কেমন করে এখানে এলো তার কিছুই জানে না। তবে যেভাবেই আসুক, তুবার কিন্তু বেশ মজাই লাগছে। তুবা হাঁটতে হাঁটতে একটা নদীর পারে চলে এলো। কী আরামদায়ক বাতাস বইছে নদীর পারে। একেবারে প্রাণ জুড়িয়ে যায়। তুবা নদীর জলে তাকিয়ে অবাক হয়। সেখানে সাঁতার কেটে বেড়াচ্ছে নানা রকম পাখি। চিল, কাক, শালিক, চড়ুই। কোনো কোনো পাখি ডুবসাঁতারও কাটছে। পাখিরা খুব আনন্দে সাঁতার কাটছে জলে। আনন্দে তুবারও নাচতে ইচ্ছা হয়। নদীর পারের সবুজ ঘাসে তুবা হাত-পা ছড়িয়ে বসে পড়ে। এবার সে ডাঙায় মাছের ঝাঁক দেখতে পায়। রুই, কাতল, বোয়াল, চিতল আরো কত জাতের মাছ। সব ডাঙায় চড়ে বেড়াচ্ছে। বড় বড় জাহাজ চলছে। ডাঙায় চলছে গাড়ি। তুবা এই আজব দেশের কাণ্ড দেখে ভীষণ মজা পায়। এরপর সে হাঁটতে হাঁটতে চলে আসে হাটখোলায়। হাটখোলা কাকে বলে জানো তো? হাটখোলা হচ্ছে গ্রামের বাজার। যেখানে সব ধরনের সদাইপাতি কেনাবেচা হয়। সেই হাটখোলায় গিয়ে দেখা গেল আরো আজব কিছু ব্যাপার। গাঁয়ের অনেক লোকজন হাঁটে এসেছে সদাইপাতি নেওয়ার জন্য। কিন্তু সবার চোখ বন্ধ। তুবা একজন বুড়ো চাচাকে ডেকে জিজ্ঞেস করল—তোমরা সবাই চোখ বুজে চলাফেরা করছ কিভাবে?

চাচা বলল—তুমি জানো না বুঝি?

আমাদের দেশে তো সবাই চোখ মুদলেই দেখতে পায়। আর ঘুমানোর সময় হলে চোখ খুলে ঘুমায়!

তুবা এ রকম আরো কাউকে দেখতে পায়, যারা ছাতা নিয়ে হাঁটছে, অথচ ছাতা ওদের হাতে নেই। ওরা ছাতা পায়ে ধরে হাতে ভর দিয়ে দিব্যি হেঁটে বেড়াচ্ছে। শুধু তাই নয়, ঘোড়া মানুষের মুখে লাগাম দিয়ে পিঠে বসে চলছে। তুবা দেখে অবাক হয়। অবাক হয় আর দেখে।

হাটে এক জায়গায় জিলাপি ভাজা হচ্ছে। গরম গরম জিলাপি। সাইজেও বেশ বড়। তুবার জিলাপি খাওয়ার ইচ্ছা হলো। তুবা এক পা-দু পা করে জিলাপির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন ঘটল অবাক কাণ্ড!

জিলাপি নিজেই তুবার দিকে এগিয়ে আসতে লাগল মুখ হাঁ করে। তুবা ভয় পেয়ে কয়েক পা পিছিয়ে গেল।

বুঝল এই আজব দেশে জিলাপিরাই মানুষ খায়। জিলাপির তাড়া খেয়ে হয়রান হয়ে এক মিষ্টির দোকানে বসল। বসে সেখানকার মণ্ডা-মিঠাই খেলো। তবে মিঠাই ভীষণ তেতো। এত তেতো স্বাদের যে মিঠাই হয় তুবা সেটা জানতই না। তেতো স্বাদে তুবা মুখ কেমন কুঁচকে গেল, তাই দেখে দোকানি বলল—তুমি তেতো খেতে পারো না বুঝি? তবে মিষ্টি কিছু খাবে? এক কাজ করো। ওষুধ খাও। আমাদের ওষুধ খুব মিষ্টি! কারো মিষ্টি খেতে ইচ্ছা হলে, সে তো ওষুধই খায়। তুবার অকারণে ওষুধ খাবার কোনো ইচ্ছা নেই।

এখানে এসে তুবার ভয়ও লাগছে, আবার মজাও লাগছে। আজব এই মজার দেশের নাম কী কে জানে।

নাম যা-ই হোক, এই দেশে মজার আর আজব কী কী আছে তা জানা দরকার। তুবা হাঁটতে থাকে, হঠাৎ ওর বাঁ কানটা কেমন ব্যথায় টনটন করছে। কেউ কী টানছে ওর কান?

হ্যাঁ, তাইতো, তুবা চোখ মেলে দেখে ওর হোম টিউটর ওর কান টেনে ধরে বলছে—কী রে, কী হচ্ছে? আমি তোমাকে অঙ্ক কষতে দিয়ে গেলাম আর তুমি কী করছ?

—ম্যাডাম আমার মাথায় অঙ্ক ঢুকতেই চায় না। তাই তো একটা ছড়া পড়ছিলাম। যোগীন্দ্রনাথ সরকারের ‘মজার দেশ’। পড়তে পড়তে কিভাবে যে ঘুম চলে এলো বুঝতে পারিনি। তারপর কী হলো জানেন ম্যাডাম, স্বপ্নে দেখলাম, সেই মজার দেশে চলে গেছি আমি। সেখানে দেখলাম আজব আর মজার ব্যাপার। জিলাপি আমাকে কামড়ে দিচ্ছিল প্রায়। আমি ছুটে পালালাম। তুবাকে থামিয়ে দিয়ে ম্যাডাম বলল—থামবি, নাকি কানমলা দিতে হবে? অঙ্ক না করার যত বাহানা।

তুবা আর কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেল। কারণ সে জানে, এখন যা-ই বলুক না কেন, ম্যাডাম কিছুই বিশ্বাস করবে না। তাই চুপ থাকাই ভালো। তবে তুবা যে মজার দেশের আজব স্বপ্নটা দেখেছে সেটা তো আর মিথ্যা নয়। এ রকম স্বপ্ন দেখার জন্য মজার দেশের কবি যোগীন্দ্রনাথ সরকারকে মনে মনে বড় একটা ধন্যবাদ না জানালেই নয়।