kalerkantho

সোমবার । ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৭ মে ২০২১। ০৪ শাওয়াল ১৪৪

[ ঘ রে ব সে দে খ তে পা রো ]

হারানো জুতার খোঁজে

লতিফুল হক   

১৯ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



হারানো জুতার খোঁজে

আলী আর জাহরা দুই ভাই-বোন। বেশ দিন কাটছিল তাদের। মুশকিল হলো জাহরার গোলাপি রঙের জুতা জোড়া খোয়া যাওয়ার পর। জুতা হারানোর কথা কিছুতেই বাবা বা মাকে বলা যাবে না। কারণ তাঁরা ভীষণ গরিব। কোনো মতে দিন কাটে। এ অবস্থায় জুতা হারানোর খবর শুনলে নিশ্চয়ই মা-বাবা খুশি হবেন না। এখন উপায় কী? একটাই বুদ্ধি—বাবা বুঝতে পারার আগেই জুতা খুঁজে বের করা। শুরু হয় হারানো জুতার খোঁজে আলী আর জাহরার অভিযান। এরপর কী হয় তা নিয়ে এগিয়েছে পুরো ছবির গল্প। ছবিটির নাম ‘চিলড্রেন অব হ্যাভেন’। ইরানি ছবি।

১৯৯৭ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিটির শুটিং হয়েছে তেহরানে। এটা ইরানের রাজধানী। তোমরা অনেকেই তেহরান দেখোনি নিশ্চয়ই। আমিও না। তাতে কী! আলী আর জাহরার গল্প দেখতে দেখতে মুফতে অনেক পুরনো শহরটাও দেখা হয়ে যাবে। ছবির শুটিং হয়েছিল লুকানো ক্যামেরা ব্যবহার করে, যাতে শহরের একেবারে বাস্তব চিত্রটা দর্শকদের দেখানো যায়। ছবিটা পরিচালনা করেছেন মাজিদ মাজিদি। পরের বছরই ‘কালার অব প্যারাডাইস’ নামের আরেকটি চমৎকার সিনেমা বানিয়েছেন তিনি।

‘চিলড্রেন অব হ্যাভেন’ ছবিতে আলী চরিত্রে আমির ফারুখ হাশেমিয়া আর জাহরার চরিত্রে বাহারে সিদ্দিকী এত চমৎকার অভিনয় করেছে যে অনেকেই ভেবেছিল পরে আরো আরো ছবিতে তাদের দেখা যাবে; কিন্তু না, অন্য কোনো ছবিতে দুজনের কাউকেই দেখা যায়নি। আলী ও জাহরার বাবার চরিত্রে অভিনয় করেন প্রখ্যাত ইরানিয়ান অভিনেতা রেজা নাজি।

হারানো জুতা খোঁজার গল্প হলেও ছবিটি আসলে ভাই-বোনের সম্পর্কের গল্প, ভালোবাসার গল্প। ভালোবাসা তো আর দেশভেদে ভিন্ন হয় না। ফলে মুক্তির পর বিশ্বের সবার কাছেই ছবিটা খুব ভালো লেগেছে। সিঙ্গাপুরে ‘হোমেরুন’ ও ভারতে ‘বুম বুম বোলে’ নামে সিনেমা তৈরি হয় ওই ছবির প্রেরণায়। ‘চিলড্রেন অব হ্যাভেন’ প্রথম ইরানি ছবি হিসেবে অস্কারে বিদেশি ভাষার চলচ্চিত্র বিভাগে মনোনীত হয়েছিল। কিন্তু কপাল মন্দ, পুরস্কার পায়নি।

 

চিলড্রেন অব হ্যাভেন (১৯৯৭)

পরিচালক : মাজিদ মাজিদি

দেশ : ইরান

কোথায় দেখবে : আমাজন প্রাইম ভিডিও, ইউটিউব