kalerkantho

শুক্রবার। ৩১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ মে ২০২১। ০২ শাওয়াল ১৪৪২

[ ছড়া ]

আরেক বৈশাখ

ব্রত রায়

১২ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



আরেক বৈশাখ

অঙ্কন : মাসুম

রাজার কথা মনে আছে? সেই যে রাজা যিনি

ভোরবেলাতে পান্তা আহার করেন প্রতিদিনই।

এমন গরিব রাজা বোধ হয় যায় না পাওয়া লাখে

চৈত্র সেলে কিনেছিলাম সস্তা দরে যাকে!

 

কদিন ধরে রাজাবাবুর যায় না দেখা টিকি

বিদেশ গেছেন? জানতে পেলাম আছেন দেশে ঠিকই।

যান না এখন হাট-বাজারে মাথায় দিয়ে ছাতা

যান না এখন দপ্তরে তার তুলতে মাসিক ভাতা!

 

রানির দেখাও পাই না মোটে, দিচ্ছে না কেউ ঘুঁটে

বাড়ির পাশের সবজি বাগান বোধ হয় যাবে উঠে!

ছাগল নিয়ে সকাল-বিকেল যাচ্ছে না কেউ মাঠে

রাজকুমারের দিনরজনী ঘরেই এখন কাটে!

 

রাজকুমারীর হয় না এখন এক্কাদোক্কা খেলা

বাইরে যাওয়া বারণ বলে অলস কাটে বেলা!

রাজামশাই সারাটা দিন ঘরেই থাকেন বসে

দেখেন চেয়ে টিকটিকিটার লেজ গিয়েছে খসে।

 

একা একাই খেলতে আবার পাতেন দাবার ছকও।

রাজমাতা রোজ সুক্তো রাঁধেন, চালতা, আমের টকও।

খাচ্ছে সবাই নিয়ম করে তেঁতুল-লেবুর রসও

কুটুম এলে বলছে তাকে, ‘দূরেই তুমি বসো!’

 

ধুচ্ছে সবাই হাত দুখানা একটু বাদে বাদে

কাপড়চোপড় রোজ ধোয়া হয়, হয় শুকানো ছাদে।

নিতান্ত কেউ বাইরে গেলে বিশেষ প্রয়োজনে

মাস্কটা বেঁধে রাখার কথাও রাখছে সবাই মনে।

 

বসছে না আর এবার মেলা অন্যবারের মতো

গাঁয়ের লোকেও বলছে, ‘হবে সেটাই তো সংগত।’

ঘরের ভেতর বর্ষবরণ—মুড়কি-মুড়ি-দধি

দেবেন খেতে মাস পহেলায় কুটুম আসে যদি।

 

ব্যাপারটা কী? ব্যাপারটা কী? ব্যাপারখানা কী হে?

একটা কঠিন রোগের ভয়ে বন্দি সবাই গৃহে!

এই অসুখের নাম করোনা সবাই সেটা জানি

মানবজাতির বাড়াচ্ছে সে কষ্ট-পেরেশানি!

 

রাজামশাই ভাবেন, আমি হই না যতই রাজা

অসুখ কোনো রেয়াত দেবে? পেতেই হবে সাজা!

তাই সচেতন হওয়ার দিকেই রাজার এখন ঝোঁক

চান তিনিও এই পৃথিবী দ্রুতই নীরোগ হোক।