kalerkantho

বুধবার । ২৮ বৈশাখ ১৪২৮। ১১ মে ২০২১। ২৮ রমজান ১৪৪২

[ খুব করে মনে পড়ে ]

কী মজাই না হতো

দ্যুতি রাংবাতাং ত্রিপুরা
সপ্তম শ্রেণি, খাগড়াছড়ি নতুন কুঁড়ি ক্যান্টনমেন্ট হাই স্কুল

১২ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



কী মজাই না হতো

বৈশাখী মেলা

আঁকা সাহ্রীশ শামা চতুর্থ শ্রেণি ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ বসুন্ধরা, ঢাকা

 

গরিয়া নৃত্য

আঁকা তৈসা রোয়াজা অষ্টম শ্রেণি ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজ চট্টগ্রাম

 

বৈসু আমাদের জীবনের সবচেয়ে আনন্দের দিন। বৈসু এলেই আমরা নতুন নতুন পোশাক পেতাম। নানা দিক থেকে আত্মীয়রা বেড়াতে আসত। হারি বৈসুর দিন থেকেই উৎসব শুরু হতো। এ দিন খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠতাম। পরে ‘মাতাই পুখিরি’তে যেতাম। এই পুখিরিকে অনেকে দেবতার পুকুর বলে। সেখানে স্নান করে ফুল দিয়ে আমা তৈবুংমার (গঙ্গা মা) উদ্দেশে প্রণাম করতাম। পরে মা-বাবার সঙ্গে কবুতর উড়িয়ে দিতাম। সেখান থেকে ফিরে কাকার বাড়িতে নিমন্ত্রণ খেতে যেতাম। পরের দিন হতো বৈসুমা। সকাল সকাল উঠে কুচাই বুতুই (পাহাড়ি বিভিন্ন উপাদান দিয়ে তৈরি পবিত্র জল) দিয়ে স্নান করতাম। তারপর মা-বাবাসহ পাশের বাড়ির বয়স্কদের প্রণাম করতাম। পরে আত্মীয়-স্বজনের বাসায় বেড়াতে যেতাম। সেদিন চাকমারাও বিজু উদযাপন করে। তাদের বাড়িতেও যেতাম। চাকমা, মারমা ও বাঙালি বন্ধুরাও আমাদের বাড়িতে আসত। বিকেলে সবাই মিলে হৈহৈ করে ঘুরতাম। সন্ধ্যায় বাজার থেকে বাজি কিনে এনে ফোটাতাম। এরপর খাগড়াপুরে যেতাম অনুষ্ঠান দেখার জন্য। বৈসুকে ঘিরে এক সপ্তাহ ধরে গরিয়া নাচের উৎসব হতো। দল বেঁধে গরিয়া নাচ দেখতাম। গরিয়া দেবের উদ্দেশে নানা বর (আশীর্বাদ) চেয়ে প্রার্থনা করতাম। আমাদের উৎসব শেষ হতে না হতেই শুরু হতো মারমাদের সাংগ্রাই উৎসব। সেখানে পানি খেলার অনুষ্ঠান হতো। মারমা তরুণ-তরুণীরা একে অন্যের দিকে পানি ছুড়ে দিয়ে গান গাইত। আহা, কী মজাই না হতো! কিন্তু করোনার জন্য গেল বছর আমাদের উৎসব হয়নি। এবারও হবে কি না সন্দেহ! এই দৈত্যর (করোনা) দাপট কবে শেষ হবে জানি না! সেই দিনগুলোর কথা এখন খুব মনে পড়ে। আবার কবে যে এভাবে বৈসু পালন করব!



সাতদিনের সেরা