kalerkantho

শুক্রবার । ১৩ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১৩ রজব ১৪৪২

[ ব ই বা ড়ি]

হারান যাচ্ছিল মামার বাড়ি

২৫ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



হারান যাচ্ছিল মামার বাড়ি

কিশোর মুক্তিযোদ্ধার গল্প সজল দাশ। শৈলী প্রকাশন মূল্য : ১৬০ টাকা

চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যাল প্রাইমারি স্কুলের ছাত্র হারান। বাসা উত্তরনালাপাড়ায়। মাইলখানেক পথ হেঁটে স্কুলে যাওয়া-আসা করে। হারান তার সাত ভাই-বোনের মধ্যে পঞ্চম। বয়স ১১ বছর। বয়সে ছোট হলেও মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার প্রবল ইচ্ছা তার। তখন শহরে কারফিউ। গোলাগুলি, কান্নার শব্দ, আগুনের ফুলকি—এই উৎকণ্ঠা নিয়ে কোনো রকমে রাত পার হয়। কারফিউ তুলে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শহরের সবাই নদীর ঘাটে ভিড় করে গ্রামে যাওয়ার জন্য। হারান যাচ্ছিল তার মামার বাড়ি। সেই গ্রামের নাম ‘বড়মা’। মামার বাড়িতে কিছুদিন থাকার পর জানতে পারল তার দিদির শ্বশুরকে পাকিস্তানি বাহিনী হত্যা করেছে। অথচ মানুষটা ছিল মাটির মানুষ। তখন থেকেই হারান পাকিদের দেখে নেওয়ার প্রতিজ্ঞা করে। দিনকয় পরে তার বড়দা ট্রেনিং নিতে ভারত যান। একদিন তার মামাতো ভাই সুশীলের সঙ্গে ঘুরতে ঘুরতে এক পাহাড়ে চলে যায় হারান। সেখানে গিয়ে একদল মুক্তিযোদ্ধার দেখা পায় তারা। দলটি হারানকে কিশোর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সঙ্গে নেয়। তথ্য আদান-প্রদান এবং গ্রামের পথঘাট চেনানোর কাজ পায় হারান। মাঝে মাঝে মায়ের হাতে বানানো খাবার আর মায়ের দেওয়া টাকাও দেয় হারান মুক্তিযোদ্ধাদের।  রাজাকারদের নাম জানিয়ে দেয়, চিনিয়ে দেয় ঘাঁটি। একপর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধারা রাজাকারদের হত্যা করলে পাকিস্তানি মিলিটারি নির্বিচারে গ্রামের নিরীহ মানুষের ওপর আক্রমণ চালায়। দিনকয় পরে মিলিটারির উৎপাত কমলে হারানরা বাড়ি ফিরে আসে। তখন মিলিটারিরা শহরে গিয়ে টর্চার সেল গড়ে তুলেছিল। হারানের জামাইবাবুও টর্চারের শিকার হয়। মুক্তিযোদ্ধারা এবার সরাসরি মিলিটারি ক্যাম্পে আক্রমণে পরিকল্পনা করেন। হারানও তাঁদের সঙ্গে যায়। মেজরসহ ছয়জন মিলিটারিকে তাঁরা হত্যা করে। এর কিছুদিন পরই রাস্তায় রাস্তায় জয় বাংলা স্লোগান শোনা যায়।  

সৌম্য অনিন্দ্য হৃদ্ধ

দ্বাদশ শ্রেণি, ঢাকা কমার্স কলেজ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা