kalerkantho

শুক্রবার । ১৩ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১৩ রজব ১৪৪২

[ মায়ের মেয়ে ]

সেই মেয়েটা এখন

আরে এ তো সেই মেয়ে, যার একটা ময়না পাখি ছিল। কবে এত বড় হয়ে গেল দীঘি? নায়িকাও হয়ে গেছে শুনছি। পুরো নাম প্রার্থনা ফারদিন দীঘি। প্রীতি প্রাপ্তি লিখেছেন তাকে নিয়ে

২৫ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সেই মেয়েটা এখন

বাঙালি বাবুর মেয়েটাকে সে দেখতে আসে বারবারই। নিয়ে আসে আখরোট, আঙুর। লোকটা কাবুলিওয়ালা। রবিঠাকুরের চরিত্র। জীবন বাঁচাতে তাকে আসতে হয়েছে বাংলা মুল্লুকে; কিন্তু মনটা তার নিজের দেশে। সেখানে যে তারও একটি মেয়ে আছে। সে মেয়েটা তো বাঙালি বাবুর মেয়েরই সমান। তাই সে ঘুরে-ফিরে বারবার আসে। শেষে এলো মেয়েটার বিয়ের দিন। তত দিনে জেলখানায় কেটে গেছে অনেক বছর। কাবুলিওয়ালা জানে না তার নিজের মেয়েটা এখন কোথায়? কাজী হায়াতের সিনেমায় বাঙালি বাবুর মেয়েটার চরিত্র করল দীঘি। বয়স সবে তখন ওর ছয়। আর সেই সিনেমায়ই দীঘি পেয়ে গেল জাতীয় পুরস্কার। সেখানে ওর মা-বাবার চরিত্র করেছিলেন দোয়েল ও সুব্রত। তাঁরা দুজন কিন্তু দীঘির আসল মা-বাবাও। দীঘি এখন এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। কিন্তু ওই চরিত্রটা ভোলেনি। বলছিল, ‘মাত্রই স্কুলে ভর্তি হয়েছি তখন। আম্মু পরিচালককে বলে রেখেছিলেন স্কুল শেষে মানে ১২টার পর থেকে আমার শুটিং হবে। শুধু কাবুলিওয়ালাই নয়, আমি সব শুটিংয়েই গেছি স্কুল শেষ করে। কাবুলিওয়ালায় আম্মু আর আব্বুু সঙ্গে ছিলেন বলে বেশি অসুবিধা হতো না। আর তাঁরা দুজনে অভিনয়জগতেরই মানুষ। আমি তাঁদের দেখে দেখে বেড়ে উঠেছি। এ ছাড়া আম্মু আমাকে পুরো সংলাপ মুখস্থ করিয়েই সেটে আনতেন। বাসায় দেখিয়েও দিতেন কিভাবে ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে হয়, অঙ্গভঙ্গি করতে হয় বা সংলাপ বলতে হয়। ওই ছবিটায় কাবুলিওয়ালার চরিত্র করেছিলেন মান্না আংকেল। এমনিতে তাঁর সঙ্গে আমার খুব ভাব ছিল। কিন্তু কাবুলিওয়ালার বেশ ধরার সঙ্গে সঙ্গেই আমি ভয় পেয়ে যেতাম। কিছুতেই তাঁর কাছে ঘেঁষতে চাইতাম না। তখন তিনি আমাকে রেস্টুরেন্টে নিয়ে খাইয়ে খাইয়ে ভাব জমিয়েছিলেন। শুটিংয়ে আসার সময় আমার জন্য চকোলেটও নিয়ে আসতেন। সিনেমায় তো আমাকে ঝোলা থেকে বের করে বাদাম আর কিশমিশ খাইয়েছেন। অনেকবারই দেখা গেছে শুটিং শুরুর আগেই খেয়ে খেয়ে আমি ঝোলা ফাঁকা করে ফেলেছি। অনেক মজা হয়েছিল ওই ছবিটা করতে গিয়ে।’

 

দীঘি আরো বলল

আম্মুই আমাকে সব শুটিংয়ে নিয়ে যেতেন। বলতে পারেন, আমার ক্যারিয়ার শুরু হলো আর আম্মু অভিনয় ছেড়ে দিলেন। আম্মু ক্যামেরার পেছনে থেকে যা যা করতেন, আমিও তাই তাই করতাম। কাবুলিওয়ালার পর আমি অনেক বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রে আমন্ত্রণ পাই আর বিজ্ঞাপনের মডেল হওয়ার জন্য ডাকতে থাকেন অনেকে। ওই সংলাপটা তো সবাই জানে, ‘বাবা জানো, আমার একটা ময়না পাখি আছে না? সে আজকে আমার না-ম ধরে ডেকেছে।’ ওই সময় সংলাপটা মুখে মুখে ফিরত।

 

একের পর এক ছবি

‘চাচ্চু আমার চাচ্চু’ ছবিটা দীঘিকে অনেক পরিচিত করেছিল। তারপর ‘এক টাকার বউ’, ‘পাঁচ টাকার প্রেম’, ‘অবুঝ শিশু’ ইত্যাদি ছবিও তাকে তারকা করে তুলতে ভূমিকা রেখেছে। ছবিগুলোয় সে সহশিল্পী পেয়েছিল—রাজ্জাক, আলমগীর, শাবনূর, মৌসুমী ও শাকিব খানকে। সবাই ওকে খুব আদর করতেন। ‘এক টাকার বউ’ সিনেমায় যেমন রাজ্জাক আংকেলের সঙ্গে নায়ক-নায়িকাদের মতো করে একটি গান ছিল। সেখানে একটি দৃশ্যে তাঁর নাচ ঠিকমতো হচ্ছিল না। আমি বলেই ফেললাম, ‘তুমি তো নাচতেই পার না!’ তখন তিনি হেসে আম্মুকে বলেছিলেন, ‘দেখ দোয়েল, তোর মেয়ে কী বলে? আমি নাকি পারি না।’ মৌসুমী আন্টির মেয়ে হয়েছিলাম ‘অবুঝ শিশু’ ছবিতে। আমার চরিত্রটি ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং। একটি দৃশ্যে বড় একটি সংলাপের পর বিচারক রায় দেবেন। ওই সময় আন্টি আমাকে বারবার কীভাবে অভিনয় করতে হবে দেখিয়ে দিয়েছিলেন। মনে আছে, মৌসুমী আর শাবনূর আন্টি আমাকে কোলে নিয়েই মেকআপ করতেন। মৌসুমী আন্টির মেয়ে ফাইজা শুধু আমার সঙ্গে খেলার জন্যই শুটিংয়ে আসত। শাবনূর আন্টির ‘এক টাকার বউ’য়ে তাঁর মেয়ের চরিত্র করেছিলাম। তিনি একেবারে আম্মুর মতো করে দৃশ্যগুলো বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। এই তো সেদিনও অস্ট্রেলিয়া থেকে আমার সঙ্গে কথা বললেন। আমি নায়িকা হয়েছি জেনে খুব খুশি। বললেন, ‘তোকে তো আমার মতো দেখতে লাগে।’ হ্যাঁ আসলেই অনেকে বলে, ‘আমার চোখ উনার মতো।’ এ ছাড়া শাকিব খানও খুব আদর করতেন। সেটে এসেই বলতেন, ‘দীঘি মামণি কোথায়?’ তারপর ডিপজল আংকেলের সঙ্গে অনেক ভালো ভালো সিনেমা করেছি। তিনি তো বাবার মতো ভালোবাসেন আমাকে।

দীঘি বলে, ‘আমার আউটডোর শুটিং খুব ভালো লাগত। একটি পিকনিকের মতো ব্যাপার হতো। তখন সিনেমার পরিবেশটা পারিবারিক ছিল। সবাই মহানন্দে শুটিং করত। এখন সেই পরিবেশটা মিস করি। সবাই এখন প্রফেশনাল হতে উঠে পড়ে লেগেছে। আমি কিন্তু এখনো আগের পরিবেশটাই ফিরে পেতে চাই। হাসি-গান আর আনন্দে কাটাতে চাই জীবন।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা