kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ ফাল্গুন ১৪২৭। ২ মার্চ ২০২১। ১৭ রজব ১৪৪২

[ যে ভা বে এ লো ]

পাস মার্ক ৩৩

১৮ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



জানোই তো, আমরা ২০০ বছর ব্রিটিশদের দখলে ছিলাম। সেই ১৭৫৭ সালে শুরু হয়েছিল, শেষ হয়েছিল ১৯৪৭ সালে। ব্রিটিশরা কিন্তু জানত—কোনো এলাকা শাসন করতে হলে সেখানকার নিয়ম-কানুন, রীতি-নীতি নিজেদের মতো করে গুছিয়ে নিতে হয়। তখন আমাদের এখানকার লোকজনের লেখাপড়ায় বেশি আগ্রহ ছিল না। শাসকদের সঙ্গী ধর্মপ্রচারকরা তাই নানাভাবে ভাবতে থাকল। তারা নিজেরা বাংলা শিখতে লাগল, যেন বাংলায় ধর্ম প্রচার করা যায়। প্রচারের মাধ্যম হিসেবে তারা বইপত্রও প্রকাশ করল। একটা সময়ে স্থানীয়রাও বুঝল, পড়লে ভালো চাকরি হয়। রাজার ভাষাটা ধরতে পারলে ব্যবসা-বাণিজ্যেও সুবিধা। তাই তারা টোলের সঙ্গে স্কুল-কলেজেও পাঠাতে লাগল ছেলে-মেয়েদের। জমিদার বা বড় ব্যবসায়ীরা মা-বাবার নামে স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠা করতে লাগল। দিনে দিনে ছাত্রসংখ্যা বাড়ল। কিন্তু তখনো ফিবছর পরীক্ষার চল ছিল না। ১০ ক্লাস পার করার পর একটা পরীক্ষা দিতে হতো সবাইকে। ধীরে ধীরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থী বাড়তে শুরু করল। ১৮৫৮ সালে প্রথম আমাদের এখানে ম্যাট্রিকুলেশন (এখনকার এসএসসি) পরীক্ষার আয়োজন হয়। পরীক্ষা নেওয়ার আগে কিন্তু অনেক কাজ থাকে; একটা যেমন—প্রশ্ন বানানো। সে সময় আরো হিসাব করতে হলো কত নম্বর পেলে পরীক্ষার্থীকে উত্তীর্ণ ধরা হবে। ব্রিটিশরা সেকালে মনে করত ভারতবর্ষের লোক ব্রিটিশদের তুলনায় অর্ধেক বুদ্ধিমান ও আন্তরিক। সোজা কথায় ভারতীয়দের জ্ঞান ব্রিটিশদের তুলনায় অর্ধেক। তখন ব্রিটেনে পাস মার্ক ছিল ৬৫। আমাদের জন্য তা-ই নির্ধারিত হলো ৩২.৫। হিসাবের সুবিধার জন্য তা উন্নীত হলো ৩৩-এ। সেই যে শুরু, আজও চলছে। তোমরা কি একমত—ব্রিটিশদের তুলনায় আমাদের জ্ঞান অর্ধেক?

আল সানি

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা