kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ ফাল্গুন ১৪২৭। ২ মার্চ ২০২১। ১৭ রজব ১৪৪২

[ প্রাণ-প্রকৃতি]

আশ্চর্য পাথরকুচি

মার্জিয়া লিপি   

১৮ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



আশ্চর্য পাথরকুচি

জানোই তো উদ্ভিদের বংশবিস্তার হয় সাধারণত ফুল দিয়ে বা ফল দিয়ে। কিন্তু একটা উদ্ভিদ আছে, যেটি পাতা দিয়ে ছেলে-পুলে, নাতি-নাতনি বানায়। পাথরকুচি হলো সেই গাছ। বাংলাদেশ আর ভারতে এর কয়েকটি প্রজাতি আছে। তবে এর আদি নিবাস কিন্তু আফ্রিকার মাদাগাস্কারে। এর বংশবিস্তার শুধু প্রকৃতিতেই ঘটে। পাতা থেকে অঙ্গজ প্রজননের মাধ্যমেই ঘটে ঘটনাটি। তুমি একটি পাথরকুচির পাতা স্যাঁতসেঁতে জায়গায় রেখে দেখো। কিছুকাল নজর রাখো। দেখবে নতুন পাথরকুচি। আর সেটাও তার মায়ের গুণসম্পন্ন হয়ে গেছে। পাথরকুচির পাতার কিনারায় খাঁজ কাটা দেখবে। গোটা পাতাটি অর্ধাবৃত্তাকার হয়। আর রসালো ও মসৃণ হয়। পাতার ওই কিনারায়ই মুকুল তৈরি হয় আর সেখান থেকে উদ্ভিদ। এই গাছে ফুল আর ফলও হয় কিন্তু। শীতকালেই হয় ফুল। দেখতে ঝুমকার মতো লালরঙা। আর ফল হয় গ্রীষ্মকালে। পাথরকুচি গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ। বহু বছর বাঁচে, এ জন্যই এটি বহুবর্ষজীবী। পাতার রং সবুজ। আর এটি ঔষধি গাছ। প্রাচীনকাল থেকেই চিকিৎসায় গাছটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কোথাও কোথাও একে বলে কফপাতা। এ পাতার রসে নাকি পুরনো সর্দি নিরাময় হয়। শুধু সর্দি-কাশিতেই নয়, পাথরকুচি অবাক করার মতোই ওষুধ। পেট ফাঁপা, পেট ব্যথা, পিত্তথলির অস্বস্তি নিরাময়ে উপকারী পাথরকুচি। পাথরকুচি পাতার রস ক্ষত সারায় তাড়াতাড়ি। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। শরীরের জ্বালাপোড়া কমায়। সংক্রমণজনিত রোগ ঠেকায়। কলেরা, ডায়রিয়া, আমাশয়েও কাজ করে। বিষাক্ত পোকায় কামড়ালে পাতার রস আগুনে সেঁকে লাগালে উপকার পাওয়া যায়। এখন তাহলে কী ভাবছ? করোনার ভ্যাকসিন পাথরকুচি দিয়ে আবিষ্কারে লেগে যাবে নাকি? 

ছবি : ইন্টারনেট

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা