kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ ফাল্গুন ১৪২৭। ২ মার্চ ২০২১। ১৭ রজব ১৪৪২

[ তো মা র ক থা ম নে প ড়ে ]

এডমন্ড পার্সিভাল হিলারি

১৮ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এডমন্ড পার্সিভাল হিলারি

হিম বরফের ধবল দাঁতাল একটা—সে সময়ের অনেকেরই এমনটা মনে হতো। দু-দশজনকে গিলেও খেয়েছে দাঁতালটা। শিখরটা ছোঁয়ার চেষ্টা আজ থেকে? শেষে এলো ১৯৫৩ সাল। ২৯ মে সকালের দিকেই হিলারি বললেন, ‘ওয়েল জর্জ, উই নকড দ্য বাস্টার্ড অফ (হ্যাঁ জর্জ, আমরা ত্যাড়াটার ঘাড় বাঁকা করতে পেরেছি)।’

তেনজিং নোরগেকে সঙ্গী করে হিলারিই প্রথম বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু শৃঙ্গ এভারেস্ট জয় করেছিলেন। ১১ জানুয়ারি ছিল হিলারির মৃত্যুদিবস। ২০০৮ সালের এই দিনেই তিনি মারা গিয়েছিলেন। তার আগে শেষবার এভারেস্ট বেইস ক্যাম্পে গিয়েছিলেন ২০০৩ সালে। ওইবার ছিল এভারেস্ট বিজয়ের ৫০ বছর। হিলারি জন্মেছিলেন নিউজিল্যান্ডে ১৯১৯ সালে। মাধ্যমিক স্কুলে পড়ার সময় থেকেই তিনি পাহাড় বাইতে শুরু করেন। প্রথম বড় শিখর ছোঁন তিনি নিউজিল্যান্ডের ক্যান্টারবেরির মাউন্ট অলিভিয়ের। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে তিনি রয়াল নিউজিল্যান্ড এয়ার ফোর্সে কাজ নিয়েছিলেন। ১৯৫১ সালে তিনি ব্রিটিশ মাউন্ট এভারেস্ট অভিযাত্রী দলের সদস্য হন। সেই ধারাবাহিকতায় ১৯৫৩ সালে জয় করেন পৃথিবীর সর্বোচ্চ চূড়া মাউন্ট এভারেস্ট।

জানো, এই মানুষটা মৌয়ালের কাজ করতেন? মানে মৌমাছির চাক ভেঙে মধু তুলে বিক্রি করতেন। গ্রীষ্মকালে পার্বত্য এলাকায় ভাই রেক্সকে সঙ্গে নিয়ে তিনি মৌমাছির চাক ভাঙতে যেতেন। আর শীতকালে জমানো টাকা দিয়ে চড়ে বসতেন পাহাড়ের মাথায়।

মানুষটি ভালোই উঁচু ছিলেন, পাঁচ ফুট ছয় ইঞ্চি। তাঁর তিন সন্তান—পিটার, সারা ও বেলিন্ডা। হিলারির দাদা অবশ্য ছিলেন ইংল্যান্ডের ইয়র্কশায়ারের মানুষ। তাঁর দাদা আর নানা দুজনেই উনিশ শতকের মাঝামাঝি নিউজিল্যান্ডে যান। আর ওয়াইরোয়া নদীর তীরে তাঁবু ফেলেন। হিলারির বাবা সাহসী যোদ্ধা ছিলেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ভালোই সাহস দেখিয়েছিলেন। আর পুরস্কার হিসেবে পেয়েছিলেন টুয়াকাউয়ে অনেক জমি। হিলারি অকল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অঙ্ক নিয়ে পড়েছেন।

জানো, যে যাত্রায় হিলারি এভারেস্টের চূড়ায় চড়েছিলেন, সঙ্গে কত মাল ছিল তাঁদের? ১০ হাজার পাউন্ড। বহন করার জন্য ৩৬২ জন ছিল। দলের নেতা ছিলেন কর্নেল এইচ সি হান্ট। মার্চ মাসে বেইস ক্যাম্প থেকে যাত্রা শুরু করেছিলেন। পুরো দলের শেষ তাঁবু ছিল সাত হাজার ৮৯০ মিটার উঁচুতে। বলো তো, এক মিটার সমান কত ফুট? ২৬ মে টম ও চার্লস নামের দুই সহযাত্রী প্রথম গিয়েছিলেন চূড়ায় উঠতে। কিন্তু অক্সিজেনের অভাবে তাঁরা চূড়ার মাত্র ৩০০ ফুট নিচ থেকে ফিরে আসতে বাধ্য হন। তার পরই দলনেতা হিলারি ও তেনজিংকে চূড়া জয়ের নির্দেশ দেন। তুষার ঝড়ের সঙ্গে লড়তে হয়েছিল তাঁদের টানা দুই দিন। তেনজিং ছিলেন নেপালের শেরপা পর্বতারোহী। ২৮ মে তাঁরা শিবির স্থাপন করেন আট হাজার ৫০০ মিটার উঁচুতে। হিলারির জুতা তাঁবুর বাইরে সারা রাত থাকায় বরফে জমে গিয়েছিল। বরফ ছাড়াতে দুজনের দুই ঘণ্টা সময় নষ্ট হয়েছিল পরের দিন। তারপর ৩০০ পাউন্ড ওজনের সরঞ্জাম নিয়ে শিখর আরোহণে নেমে পড়েন। চূড়ার মোটে ৪০ ফুট নিচে ছিল খাড়া একটি পাথরের দেয়াল। জীবন হাতের মুঠোয় নিয়ে সেই দেয়াল অতিক্রম করেন হিলারি আর তেনজিং। সেটা ছিল ২৯ মে ১৯৫৩। সকাল ১১টা ৩০ মিনিট। পৃথিবীর প্রথম মানুষরা চূড়ায় পৌঁছায়। ১৫ মিনিট ছিলেন তাঁরা চূড়ায়। সেই থেকে ২৯ মে এভারেস্ট দিবস। ওহ হো, তোমাদের এভারেস্ট শিখরের উচ্চতাই বলা হয়নি। না থাক, তোমরাই খুঁজে বের করো।

আবেদীন জনী

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা