kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ মাঘ ১৪২৭। ২৬ জানুয়ারি ২০২১। ১২ জমাদিউস সানি ১৪৪২

[ গ ল্প ]

সেদিন সকালে গোয়েন্দা রিমি

আহমেদ রিয়াজ   

৩০ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সেদিন সকালে গোয়েন্দা রিমি

অলংকরণ : রামিন দেওয়ান, তৃতীয় শ্রেণি, নেভি অ্যাংকারেজ স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা

সেদিন সকালে ঘুম থেকে উঠল রিমি। বিছানা থেকে নামল। তারপর...

গুটি গুটি পায়ে হাঁটতে লাগল।

হাঁটতে হাঁটতে হাঁটতে...

এ ঘর পেরোল। ও ঘর পেরোল। তিনটি ঘর পেরিয়ে এলো রান্নাঘরে। রান্নাঘরও পেরোল। এলো রান্নাঘরের বারান্দায়। ওখানেই ঝুড়িটা। ঘরের সব আবর্জনা এনে রাখা হয় ওই ঝুড়িতে।

ঝুড়িতে উঁকি মারল রিমি।

আর উঁকি মেরেই...

চকচক করে উঠল রিমির দুই চোখ।

চকচকে দুটি খোসা দেখতে পাচ্ছে ও।

হুমম। কেউ লুকিয়ে লুকিয়ে খেয়েছে।

খাওয়া শেষে খোসা দুটি ফেলেছে ওখানে।

মুচকি একটি হাসি দিল রিমি। তারপর খুঁজতে শুরু করল।

ফ্রিজ খুলল। নেই।

কী খুঁজছে রিমি?

খাবারের টেবিলে খুঁজল। নেই।

তাহলে কোথায়?

চকচকে খোসার ভেতরে কী থাকে?

মজার একটা খাবার। রিমির খুব প্রিয়।

ভাবতেই রিমির মুখ পানিতে ভরে গেল।

তারপর ঢোক গিলতে গিলতে...

গেল দাদুর ঘরে। দাদুর ঘরে এসেও খোঁজাখুঁজি শুরু করল।

বিছানার ওপর উঠে বালিশের নিচে খুঁজল। নেই।

বইয়ের তাকে খুঁজল। নেই।

দাদু এতক্ষণ রিমির কাণ্ড দেখছিলেন। আর মুচকি মুচকি হাসছিলেন। এবার জানতে চাইলেন, কী খুঁজছ রিমি?

রিমি কিছু বলল না। দাদুর দিকে তাকালও না। কী যেন ভাবতে ভাবতে চলে গেল।

কোথায় গেল?

মায়ের ঘরে।

মা তখন ঘরে ছিলেন না। বাবাও ছিলেন না। সোজা মায়ের ড্রেসিং টেবিলের সামনে এসে দাঁড়াল। তারপর ড্রয়ারে খুঁজল। নেই।

এরপর ওয়ার্ডরোবের ড্রয়ারে খুঁজল। ওখানেও নেই।

গেল কোথায়?

নাকি নেই?

এবার রিমি ঢুকল পড়ার ঘরে।

ওই ঘরে বাবা। পত্রিকা পড়ছেন। আর ওই তো ভাইয়ার টেবিল। টেবিলের ওপর বই-খাতা ছড়ানো। ভাইয়াটা বড্ড অগোছালো। টেবিলের বই-খাতা সরিয়ে সরিয়ে খুঁজল রিমি। নেই।

কলমদানির ভেতরে খুঁজল। তা-ও নেই।

ভাইয়ার ব্যাগের ভেতরে খুঁজল। সেখানেও নেই।

তাহলে গেল কোথায়?

এতক্ষণ সবাই কিন্তু রিমির কাণ্ড দেখছিল। এবার সবাই এসে দাঁড়াল ঠিক ওর পেছনে।

মা। বাবা। দাদু। ভাইয়া।

বাবা বললেন, কী খুঁজছ রিমি?

রিমি বলল, চক...

চক বলেই থেমে গেল রিমি। আর এদিক-ওদিক তাকাতে লাগল। পড়ার ঘরে খোঁজার মতো আরো অনেক কিছু আছে। তবে সবচেয়ে মজার জায়গা হলো ভাইয়ার বইয়ের তাক। বইয়ের তাকের দিকে তাকাতেই রিমির চোখ দুটি চকচক করে উঠল।

আরে! ওই তো... ওই তো...

চেয়ারের ওপর উঠল রিমি। চেয়ার থেকে উঠল টেবিলের ওপর।

ডান হাত বাড়িয়ে দিল তাকের ওপর। অমনি দুটি জিনিস চলে এলো ওর হাতে। বেশ চকচকে খোসা। খেতেও খাসা।

এবার জিনিস দুটি বাঁ হাতে চালান করল। আবার ডান হাত বাড়িয়ে দিল তাকের ওপর। আরো আছে কী?

তখনই ভাইয়ার গলা শোনা গেল, আর নেই। চারটি ছিল। ওই দুটি তোমার।

রিমি এবার ভাইয়ার দিকে তাকাল। জানতে চাইল, বাকি দুটি কোথায়?

ভাইয়া কিছু বলল না। শুধু মুচকি হাসল। আর ওই হাসিতেই রিমি বুঝল, বাকি দুটি ভাইয়ার পেটে। ঝুড়িতে ও দুটি খোসাই দেখেছে।

তখন ভাইয়ার টেবিলের ওপর দাঁড়িয়েছিল রিমি। যে-ই একটার চকচকে খোসা ছাড়াতে গেল, অমনি মা এগিয়ে এলেন। বললেন, এখন নয় রিমি। নাশতার পর খেয়ো।

সেদিন রিমির নাশতা খেতে একটুও দেরি হয়নি; বরং সবার আগে খেয়েছে। আর নাশতার পর...

যে-ই চকচকে খোসা ছাড়াল, অমনি বেরিয়ে এলো...

কী বেরিয়ে এলো?

চ-কো-লে-ট!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা