kalerkantho

শুক্রবার। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৪ ডিসেম্বর ২০২০। ১৮ রবিউস সানি ১৪৪২

[ গ ল্প ]

শত্রু হলো বন্ধু

শাম্মী তুলতুল

২৩ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



শত্রু হলো বন্ধু

অলংকরণ : তাজকিয়া মেসবাহ। সে কানাডিয়ান ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের স্ট্যান্ডার্ড ফাইভের ছাত্রী।

সন্ধেবেলা বাড়ি ফিরছিল এক মশা। পথে হাতিকে দেখতে পেয়ে  বলল, ও হে মশাই, কেমন আছেন?

হাতি শুঁড় বাঁকা করে বলল, মোটামুটি।

মশা জানতে চাইল, কেন কী হয়েছে? আমি কোনো সাহায্য করতে পারি?

হাতি বলল, ধুর যাও তো। কথা বলতে ভালো লাগছে না।

মশা তবু যায় না। হাতি বলল—কী, কথা কানে যায় না? তুমি তো ভারী বেয়াদব। ভাগো এখান থেকে। 

মশা বলল, আরে বাপু, কোনো সমস্যা হলে আমাকে বলতে পারো। আমি তোমায় সহযোগিতা করব। কথাটা শোনা মাত্রই হাতি হাসতে হাসতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল।

পরদিন হাতি বলে বেড়াল, শোনো শোনো মশা নাকি আমার সমস্যার সমাধান করবে। কানাকানি হতে হতে মশাও শুনল সে কথা। হাতির কাছে এসে বলল, তুমি কাজটা ভালো করছ না। আমি তোমাকে সাহায্য করতে চাইলাম। আর তুমি ঠাট্টা করছ? জানো ছোটরাও গোল বাধাতে পারে।

শুনে হাতি আবার হো হো করে হেসে উঠল। মশা রেগে বলল, ঠিক আছে আমি তোমাকে বুঝিয়ে দেব, ছোটরা ছোট নয়।

তারপর একদিন হাতিটা কলাগাছ থেকে শুঁড় দিয়ে মহাসুখে কলা খাচ্ছিল। মশা ভাবল, এখনই কিছু একটা করতে হবে।  বলল, কলা খাওয়া বন্ধ করো বলছি।

হাতি বলল, কত বড় সাহস তোর, আমাকে ধমকাচ্ছিস?

মশা আর কিছু না বলে, ছোট্ট করে হাতির লেজে দিল কামড়। তারপর কানের কাছে এসে ভ্যান ভ্যান করতে লাগল। হাতি পড়ল বিপদে, কান সামলায়, না লেজ! শেষে শুঁড় দিয়ে আছড়ে মারতে চাইল; কিন্তু তাতে বিপদ বাড়ল বৈ কমল না। নিজের শুঁড়ে নিজেই মার খেতে লাগল। কী করবে, বুঝতে পারল না হাতি। মশা একবার লেজে, আরেকবার কানে দৌড়ে বেড়াচ্ছে। হাতি শেষে বলল, এই দ্যাখো কান মলছি। কলা খাওয়ায় ইস্তফা দিলাম। তুমি এবার শান্ত হও।

মশা বলল। ঠিক আছে। শান্ত হলাম, আর কখনো আমাকে ছোট ভাববে না তো?

হাতি বলল, না আজ থেকে আমি তোমার বন্ধু হলাম। চলো ভাগাভাগি করে কলা খাই।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা