kalerkantho

শুক্রবার । ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৭ নভেম্বর ২০২০। ১১ রবিউস সানি ১৪৪২

[ অ বা ক পৃ থি বী ]

ইমু পাখির যুদ্ধ

২৩ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইমু পাখির যুদ্ধ

পৃথিবীর দুই নম্বর বড় পাখি ইমু—কে কে জানো, হাত তোলো। উচ্চতায় এরা এক মানুষ সমান বড়। আর উট পাখির মতো এরাও উড়তে পারে না; কিন্তু দৌড়াতে পারে খুব জোরে।  অস্ট্রেলিয়ায় ইমু পাখির সংখ্যা অনেক। একবার তো অস্ট্রেলিয়ান আর্মির সঙ্গে যুদ্ধই বাধিয়ে দিয়েছিল ইমুর দল। চোখ কপালে উঠল?

তাহলে বলি শোনো, সেটা ১৯৩১ সাল। বছরের শেষ দিকে পৃথিবীর অনেক দেশেই হাড় কাঁপানো শীত থাকে। অথচ অস্ট্রেলিয়ায় সে বছর কটকটে গরম ছিল। সইতে না পেরে ইমুর দল লোকালয়ে ঢুকে পড়েছিল। ওদের দরকার ছিল খাবার আর পানি। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার বিশাল গমের ক্ষেত ওরা অল্প দিনেই শেষ করে ফেলে। তারপর ঢুকে পড়ে লোকালয়ে। কৃষকরা তখন রাজ্যপ্রধান জেমস মিচেলের কাছে গিয়ে অভিযোগ দাখিল করে। তিনি দায়িত্ব দেন সিনেটর স্যার জজ পিয়েরসকে। পিয়েরসের আদেশে মেজর মেরেডিথ অস্ত্র, গোলাবারুদ আর সৈন্যের বিশাল বহর নিয়ে যুদ্ধ করতে বের হন।  ২ নভেম্বর দলটি জানতে পারে কাছের এক জায়গায় ইমুরা হানা দেওয়ার ফন্দি করছে। মেরেডিথ সঙ্গে সঙ্গে রওনা হলেন বাহিনী নিয়ে। লক্ষ্য ছিল, ১০০ ইমু ঘায়েল করার; কিন্তু কাছে গিয়ে দেখে ইমুর সংখ্যা অর্ধেক, মানে ৫০টি। আর একটি থেকে আরেকটি বেশ দূরে দাঁড়ানো। ফলে মেরেডিথের এক কামানের গোলায় অনেক পাখি ঘায়েল করার প্ল্যান ভেস্তে গেল। আর তখন রাইফেলের রেঞ্জ ছিল কম; তাই খুব কাছে গিয়েই গুলি করতে হতো। মেরেডিথ তবু বললেন, ফায়ার। প্রচুর গুলি-গোলা উড়ে গেল।  জায়গা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন। ইমুর লাফালাফি আর কোলাহলে কান পাতা দায় হচ্ছিল। তারপর মেরেডিথ যখন সিজ ফায়ার বললেন, তখন দেখা গেল মোটে ১২টি ইমুর মৃতদেহ পড়ে আছে। বেশির ভাগই গেছে পালিয়ে। লজ্জায় মুখ দেখাতে পারছিলেন না মেরেডিথ। কারণ বুলেট খরচা হয়েছে হাজারেরও বেশি। এর পরও কিন্তু ইমুদের বিরুদ্ধে আক্রমণ থেমে ছিল না। তবে মেরেডিথ সফল হতে পারেননি। অস্ট্রেলীয় পার্লামেন্টে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার ঝড় বয়ে যায়। পত্রপত্রিকায়ও লেখালেখি হয়। মেরেডিথকে পিয়ারস যুদ্ধ বন্ধ করে ফিরে আসতে তলব করেন। মেরেডিথ ঘরে ফিরলেও ইমুরা কিন্তু ফেরেনি। তারা নতুন উদ্যমে খামারে আক্রমণ চালিয়ে গেল। আবারও মেরেডিথের রণক্ষেত্রে ডাক পড়েছিল; কিন্তু ফল সেই লবডঙ্কা। শেষে বাউন্টি হান্টারদের দায়িত্ব দিয়ে বেঁচেছিল অস্ট্রেলিয়া। তারা ছয় মাসে প্রায় আধা লাখ ইমু হত্যা করে।

আল সানি

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা