kalerkantho

শুক্রবার । ১৪ কার্তিক ১৪২৭। ৩০ অক্টোবর ২০২০। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

[ গ ল্প ]

তিতলী ও তার বন্ধু চিঁচিঁ

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তিতলী ও তার বন্ধু চিঁচিঁ

আঁকা : তাজকিয়া মেসবাহ, পঞ্চম শ্রেণি, কানাডিয়ান ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, ঢাকা

সাত বছরের ছোট্ট এক মিষ্টি মেয়ে তিতলী। মন দিয়ে পড়ালেখাও করে। কেমন করে যেন এক নেংটি ইঁদুরের সঙ্গে তিতলীর বন্ধুত্ব হয়ে যায়। ইঁদুরটির নাম সে রাখল চিঁচিঁ। যখন পড়তে বসে তিতলী, চিঁচিঁ এসে হাজির হয়। তিতলী যখন সুর করে ‘আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে’ পড়ে, চিঁঁচিঁ তা মন দিয়ে শোনে। আবার তিতলী যখন ছবি আঁকে তখনো চিঁচিঁ মনোযোগী দর্শক। পড়াশোনায় চিঁচিঁরও খুব আগ্রহ। এর মধ্যেই তিতলী ওকে অ তে অজগর, আ তে আঙুর শিখিয়ে ফেলেছে। তবে চিঁচিঁর ভাই-বোনরা ভারী দুষ্ট। ওরা চার ভাই দুই বোন। দুষ্টগুলো আজ জামাকাপড় কাটে তো পরদিন জুতা। তিতলীর বই-খাতাও রেহাই দিত না। তিতলীর মা-বাবার তাই ইঁদুরের ওপর খুব রাগ।

একদিন মা তিতলীর পড়ার টেবিলে চিঁচিকে দেখে ফেলে। একটা লাঠি নিয়ে তেড়ে আসে মারতে। চিঁচি তো ভয় পেয়ে ছুটে পালায়। রাতে মা তিতলীর বাবাকে বলে, ঘরে ইঁদুর হয়েছে। ইঁদুরের বিষ আনতে হবে।

পরের দিন বাবা ইঁদুরের বিষ কিনে নিয়ে আসে। রাতে খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে ঘরের কোনায় রেখে দেবে। জানতে পেরে তিতলী চিঁচিঁর জন্য চিন্তায় পড়ে যায়। পড়ার সময় চিঁচিঁ এলে তিতলী ওকে বিষের কথা বলে। সাবধান করে দেয়, যেন চিঁচিঁ আর ওর ভাই-বোনরা ওই বিষমাখা খাবার না খায়। চিঁচিঁ খবরটা দিতে তাড়াতাড়ি বাসায় চলে যায়। এদিকে তিতলীর বাবা ভাত ও শুঁটকি মাছের সঙ্গে বিষ মাখিয়ে ঘরের কোণে রেখে দেয়। খাবারের গন্ধ গিয়ে লাগে চিঁচিঁর ভাই-বোনদের নাকে। ওরা উত্তেজিত হয়ে পড়ে। আর ভাবে চিঁচিঁ একাই খাবারগুলো সাবাড় করবে বলে ওদের মিথ্যা বলেছে। তাই সিদ্ধান্ত নেয়, ওই খাবার ওরা খাবেই।

এদিকে চিঁচিঁও টের পায় দুষ্টগুলোর মনের ভাব। তাই ঠিক করল, রাত জেগে পাহারা দেবে। ভাই-বোনদের মৃত্যুর মুখে কোনোভাবেই ঠেলে দিতে পারবে না চিঁচিঁ। জীবন দিয়ে হলেও বাঁচাবে। 

রাতে তিতলীরা ঘুমিয়ে পড়লে দুষ্টগুলো আসে খাবার খেতে। চিঁচিঁ ওদের দেখতে পেয়ে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। বলে, কেন মরতে এসেছ? চলে যাও। প্লিজ যাও। এতে বিষ দেওয়া আছে। কিন্তু ওরা যায় না। উল্টো বলে, ‘তোমার ফন্দি আমরা ধরে ফেলেছি। তুমি একাই সব খেতে চাও, তাইতো?’ চিঁচিঁ যতই ওদের বোঝায় ততই ওরা তেড়ে আসে। শেষে চিঁচিঁ না পেরে বলে, দেখো, তিতলী নিজে আমাকে বলেছে। এ খাবারে বিষ আছে। তোমরা এ খাবার খেয়ো না। চলে যাও এখান থেকে।’ কিন্তু ওরা যায় না। চিঁচিঁও কোনোভাবেই ওদের খাবার খেতে দেয় না। একসময় মারপিট লেগে যায়। দুষ্টগুলো চিঁচিঁকে মেরে রক্তাক্ত করে দেয়। তবু চিঁচিঁ পথ থেকে সরে দাঁড়ায় না। শেষে হতাশ হয়ে দুষ্টগুলো চলে যায়। এদিকে চিঁচিঁর শরীর খুব দুর্বল হয়ে আসে। তার খুব ঘুম পায়। সে সেখানেই ঘুমিয়ে পড়ে।

সকালবেলা উঠে তিতলীর মা দেখে টেবিলের নিচে বিষ মাখানো খাবারের পাশে একটা ইঁদুর আধমরা হয়ে পড়ে আছে। মা তখন লাঠি দিয়ে চিঁচিঁকে শেষ করতে যায়। তিতলী দূর থেকে দেখে ছুটে আসতে থাকে। কিন্তু দরজায় ধাক্কা খেয়ে তাল হারিয়ে পড়ে যায়। মা তখন লাঠি ফেলে দৌড়ে গিয়ে তিতলীকে কোলে তুলে নেয়। কোলে মাথা রেখে তিতলী বলে, মা, চিঁচিঁকে মেরো না, চিঁচিঁ আমার বন্ধু।’

মন্তব্য