kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ কার্তিক ১৪২৭। ২০ অক্টোবর ২০২০। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

আমি মীনা বিজয়ী

সৈয়দা আবরার তোয়াহা দ্রাহা তিনবার মীনা অ্যাওয়ার্ড জিতেছে। প্রথমবার ২০১৬ সালে। পরের দুই বছরও পেয়েছে। দ্রাহা এখন ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকের পরীক্ষার্থী

২১ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



আমি মীনা বিজয়ী

ছোট থেকেই প্রচুর কার্টুন দেখি। স্বেচ্ছাসেবক হিসেবেও কাজ করি। এসব কাজ আমার ভালো লাগে। সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় বোন আমাকে চিলড্রেন ফিল্ম সোসাইটির কথা বলে। আমি গিয়ে দেখি, আমার চেয়েও ছোট বাচ্চারা সুন্দর সব শর্ট ফিল্ম বানিয়েছে। আমি ভাবলাম, আমিও তো বানাতে পারি। তারপর বানাতে লেগে গেলাম। এখন পর্যন্ত যতটা বানিয়েছি সবই আমার জীবন থেকে নেওয়া। কোনোটায় মা মুখ্য চরিত্র, কোনোটায় আমার বোন। প্রথমবার সেই সেভেনে পড়ার সময় তো আমার মোবাইল বা ল্যাপটপ ছিল না। ভাইয়া আমাকে বললেন, ‘তুমি দৃশ্যগুলো খাতায় এঁকে নাও, তারপর ছবি তুলে একটার পর একটা জুড়ে দিলে ছবি হয়ে যাবে।’

অনেকটা স্লাইড শোর মতো। তবে কাজটা অনেক কঠিন ছিল। কারণ একটা দৃশ্য তৈরি করতেই আমাকে একই রকম অনেক কার্টুন আঁকতে হয়েছে। অনেক কষ্ট করেই আমার প্রথম ফিল্ম ‘দ্য রেজাল্ট’ বানালাম এবং চিলড্রেন ফিল্ম ফেস্টিভালে জমা দিলাম। সেবার তৃতীয় সেরা পুরস্কার পেয়েছিলাম। এ থেকেই আমার আগ্রহ বেড়ে যায়। তারপর বাবা একদিন আমাকে ইউনিসেফের মীনা অ্যাওয়ার্ডের কথা বলেন। আমি আবেদন করলাম। 

আমার কাছে মনে হয়, আমার চলার পথটা কিছুটা হলেও মীনার সঙ্গে মেলে। মীনার মতো আমারও সুযোগ বেশি ছিল না। আর মীনা যে বিষয়গুলো আমাদের শিখিয়েছে, সেগুলোর সুফল কিন্তু পাচ্ছি।

আমার পুরো বাসাটা এখন একটা শুটিং টিম। মায়ের কাছ থেকে গল্প নিয়ে যাই ভাইয়ার কাছে। ভাইয়া প্রডাকশন প্ল্যান করেন। বোন সাহায্য করেন লাইটিংয়ে। আর বাবা বাকি কাজগুলো করে দেন। মীনা যখন প্রথম টেলিভিশনে আসে তখনো কিন্তু সবাই স্কুলে যেতে পারত না, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়েও ভালো ধারণা ছিল না সবার মধ্যে। মীনা এগুলো শিখিয়েছে। আমার ফিল্মগুলোও এ রকম করার চেষ্টা করি। বলা যায়, মীনাকে নতুন নতুনভাবে উপস্থাপন করছি।              

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা