kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ কার্তিক ১৪২৭। ২০ অক্টোবর ২০২০। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

মীনা নামটি যেভাবে এলো

২১ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মীনা নামটি যেভাবে এলো

ছবিটি এঁকেছে নবম শ্রেণির ফাতিমা ফাইজা। সে মুন্সীগঞ্জের আব্দুল্লাপুর হাই স্কুলে পড়ে

আমি বাবা-মায়ের শত আদরের মেয়ে

আমি বড় হই সকলের ভালোবাসা নিয়ে...

যে গায় গানটা তার নাম তোমরা জানো। হ্যাঁ, মীনার কথাই বলছি। ১৯৯২ সালে শুরু হয় মীনা কার্টুন। মীনার বয়স কিন্তু এখনো সেই নয়ই আছে। চলো, নব্বইয়ের দশকটা একবার ঘুরে আসি। আজকে তোমার খালা, চাচি বা বোনকে হয়তো সকালে অফিসে ছুটতে দেখছ। অনেক নারী এখন পুলিশেও বড় কর্মকর্তা। তখন কিন্তু এতটা ছিল না নারীদের কাজের সুযোগ, এমনকি অনেকে ভালো স্বাস্থ্যসেবাও  পেত না। তখন পড়াশোনাও করত কম মেয়ে। এ অবস্থা থেকে রেহাই পেতে চেয়েই কিন্তু ওই দশকটাকে কন্যাশিশু দশক ঘোষণা দেওয়া হলো। শুধু আমাদের দেশে নয়, সার্কভুক্ত সাতটি দেশেই (বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ভুটান ও মালদ্বীপ)। কিন্তু এ ঘোষণা বাস্তবায়নের জন্য তো টাকা দরকার। তহবিল গঠনের দায়িত্ব নিল জাতিসংঘ। ডেনমার্ক সরকার তখন দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশে এনিমেটেড কার্টুন তৈরির প্রস্তাব দেয়। এই প্রস্তাবে সর্বপ্রথম রাজি হয় বাংলাদেশ। ইউনিসেফের এক কর্মকর্তা এর মাধ্যমে সচেতনতা তৈরির কথা ভাবেন। মীনার জন্য বেশি ভূমিকা কিন্তু বাংলাদেশেরই। সে সময় ইউনিসেফের যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ছিলেন শামসুদ্দিন আহমেদ। তিনি গ্রামের এমন একটি পরিবারের কথা ভাবলেন যাতে একটি মেয়ে, একটি ছেলে, বাবা, মা ও দাদি আছে। চরিত্রগুলো ঠিক হওয়ার পর এবার মেয়েটির নাম  রাখতে হয়। এমন একটি নাম, যেটি দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশ আপন ভাবে।  মীনা নামটি কিন্তু শামসুদ্দিন আহমেদ নিজেই রাখলেন। বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কায় এমন নাম সহজেই পাওয়া যায়। মালদ্বীপ আর পাকিস্তানও সায় দিল। কারণ আমিনা তো সেখানেও চালু আছে। শুধু আ বাদ দিলেই মীনা হয়ে যায়। তাই সব দেশের সম্মতিতেই মীনা রাখা হয় মেয়েটির নাম। তারপর মেয়েটির পোশাক নিয়ে ভাবতে থাকল বড়রা। আমাদের কার্টুনিস্ট রফিকুন নবী মীনার পোশাক রাখেন শাড়ি। কিন্তু পাকিস্তানে শাড়ির চল নেই বললেই চলে। তাই সব হিসাব মিলিয়ে এমন পোশাক বানানো হলো মীনার জন্য যেটি সব দেশেই চলে। তোমরা তো দেখেইছ মীনা কী পোশাক পরে। তোমাদের কি মীনাকে ভিনদেশি মনে হয়েছে?  আমাদের প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার কিন্তু গোড়া থেকেই মীনা কার্টুনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তখন তিনি বিটিভিতে পুতুলনাচের একটি অনুষ্ঠান করতেন। সেখানে একটি মেয়ে চরিত্র ছিল, যার নাম পারুল। ইউনিসেফ জানাচ্ছে, বাংলাদেশে শহরের প্রায় ৯৭ শতাংশ শিশু আর গ্রামের ৮১ শতাংশ শিশু এবং কিশোর-কিশোরীও মীনাকে চেনে। নামটি কিন্তু এ ক্ষেত্রে বেশ বড় ভূমিকা রেখেছে। বলে রাখি, ভারতের শিল্পী রামমোহনকে বলা হয় মীনা কার্টুনের রূপকার। তিনি চরিত্রগুলোর অবয়ব, পোশাক-আশাক নকশা করেছিলেন। প্রকল্পটির ফিল্ম ডিরেক্টরও ছিলেন তিনি।

                                

আল সানি

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা