kalerkantho

শনিবার । ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৬ জুন ২০২০। ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

সময় কাটানোর গল্প

করোনাভাইরাসের কারণে তোমরা সবাই বাসায় আছ নিশ্চয়ই। তোমাদের কয়েকজন বন্ধু বাসায় বসে কিভাবে সময় কাটাচ্ছে—সেই গল্পই শুনেছেন জুবায়ের আহম্মেদ

৩ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



সময় কাটানোর গল্প

অনেক দিন ধরেই কেউ ছাদে আসে না

রেহান মাহমুদ বিভোর

তৃতীয় শ্রেণি, মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা

সেদিনও স্কুল বন্ধ হলে ভারি খুশি হতাম। মা-বাবার সঙ্গে ঘুরতে যেতাম, এটা-সেটা খেতাম; কিন্তু করোনাভাইরাস আসার পর একটানা স্কুল বন্ধ হওয়ায় যেখানে আমার খুশি হওয়ার কথা, সেখানে মন খারাপ। সারা দিন ঘরে বন্দি হয়ে থাকতে হচ্ছে। হাঁটাচলাও করতে হচ্ছে ঘরের মধ্যেই। বিকেলবেলা ছাদে যে খেলাধুলা হতো, সেটাও বন্ধ। তবে ঘরে থাকার সময়গুলো যেন বোরিং না লাগে, সে জন্য আমি কিছু কাজ করি। বারান্দায় টবে লাগানো গাছগুলোয় পানি দিই। মাঝেমধ্যে টিভিতে এনিমেশন মুভি দেখি। অভ গাছটা আছে, সেখানে একটা কাকের বাসা আছে। ওদের জন্য জানালায় খাবার রাখি। বসে বসে ওদের খাওয়া দেখি। সময়টা বেশ কেটে যায়।

 

দিনে পাঁচ-সাতবার দুই হাত ভালোভাবে পরিষ্কার করি

সামির খান

ষষ্ঠ শ্রেণি, মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা

আমি যেহেতু অভিনয় করি, করোনার কারণে শুটিং হচ্ছে না। বাসায় সারাক্ষণ বন্দি থাকতে হচ্ছে। কি আর করা, নিজেকে ও দেশকে নিরাপদ রাখতে বাইরে বের হওয়া যাবে না। তবে এই সময় বসে না থেকে নানা কাজের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। সকালে ঘুম থেকে উঠে নামাজ পড়ি এবং কোরআন শরিফ পড়ে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করি যেন মহামারি থেকে আমরা সবাই রক্ষা পাই। তারপর নাশতা করে বই নিয়ে বসি। পড়ায় যাতে পিছিয়ে না পড়ি সে ব্যাপারটাও তো খেয়াল রাখতে হবে, তাই না। এরপর গেম খেলতে বসে যাই। বন্ধের এই সময়ে অনেক গল্পের বই পড়ছি। পছন্দের তালিকায় হ্যারি পটার সবার আগে। বিকেলে সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ক্রল করতে করতে দেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নিই। যেহেতু আমরা সচেতন হলেই ভাইরাসটা প্রতিরোধ করতে পারব, তাই সবাইকে সচেতন করতে করোনা নিয়ে শিক্ষামূলক কনটেন্ট বানানোর চেষ্টা করছি।

 

দিনে চারটি ছবি আঁকি

আয়েশা জামান আরশি

পঞ্চম শ্রেণি, শহীদ আনোয়ার গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা

ছবি আঁকার অভ্যাসটা আমার সেই ছোটবেলা থেকে। তেমন কোনো পুরস্কার নেই। তবে স্কুলে ম্যাগাজিনে আমার আঁকা ছবি বেশ কয়েকবার এসেছে। করোনার এই মহামারির মধ্যে পুরো সময়ই বাসায় থাকা হচ্ছে। তাই না চাইতেই ছবি আঁকার সুযোগ পেয়ে গেছি। সকালে পড়া শেষ করে ছবি আঁকতে বসে যাই। বুকশেলফের একটি তাকভর্তি রং পেনসিল আমার। দুপুর পর্যন্ত চলে আঁকাআঁকি। দিনে চারটা ছবি আঁকি। বিকেলের পুরো সময়টা ঘুমিয়ে কাটাই। সন্ধ্যা হলে বই নিয়ে বসে যাই। এই বন্ধের সময়ে সিলেবাসটাও এগিয়ে রাখা দরকার। পড়া শেষে কিছুক্ষণ গলা ছেড়ে গান গাই। ভাইয়া আর আম্মু আমার গানের শ্রোতা। আমি নাচতে ভালোবাসি। রাতে পড়া শেষ করে নৃত্য অনুশীলন করি। ইউটিউব দেখে অনেক নতুন নতুন নাচ শিখছি। বাসায় আম্মুকে কাজেও সাহায্য করি। দিন শেষে সবার সঙ্গে টিভিতে খবর, নাটক, মুভি দেখি।

 

দিনে সাত-আটবার পুরো ২০ সেকেন্ড করে হাত ধুয়েছে কি না সেই তদারকি করি

মারিয়ম জাহান

চতুর্থ শ্রেণি, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা

আগে স্কুল বন্ধ পেলে অনেক আনন্দ লাগত; কিন্তু এবারের বন্ধে কোনো আনন্দ নেই। বাসায় কেউ বেড়াতে আসে না। আমরাও কোথাও যেতে পারি না। সবাই যার যার বাসায় থাকছে। তবে একটা উপকারও হয়েছে। আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধু মানে আমার বড় আপুকে বাসায় পেয়েছি। আপু মেডিক্যালে পড়ার কারণে হোস্টেলে থাকে। বাসায় তেমন আসে না। তবে এবারের বন্ধে পুরোটাই তার সঙ্গে কাটছে। যখন সময়টা বিরক্তির হয়, আপুর স্টেথোস্কোপ দিয়ে ডাক্তার ডাক্তার খেলা শুরু করি। টিভি দেখে বুঝেছি যে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিত্সায় ডাক্তাররা কি কষ্টটাই করছেন। আমি আবার গল্পের পোকা। দিনের অনেকটা সময় গল্পের বই পড়ে কাটাই। ও হ্যাঁ, তোমাদের বলে নিই, বাসায় সবার হাত ধোয়ার পর্যবেক্ষণ করি। দিনে সাত-আটবার পুরো ২০ সেকেন্ড করে হাত ধুয়েছে কি না সেই তদারকি করতে ভুলি না। আমি নিজেও নাক, মুখ, চোখে হাত দিই না। তোমরাও দিয়ো না। বেশি বেশি হাত ধোও, নিরাপদে থাকো।

 

কবে যে দুষ্টু ভাইরাসটা রূপকথার গল্পের মতো হাওয়ায় মিলিয়ে যাবে

সাদিয়া বিনতে কামাল

চতুর্থ শ্রেণি, দনিয়া মডেল স্কুল ঢাকা

করোনার কারণে স্কুল ছুটি হলেও সত্যি বলতে আমি বেশ ব্যস্ত। সারা দিন বই পড়ি। এই ছুটিতে অন্তত হাফডজন বই পড়া চাই। ড্রয়িং খাতার শেষ পাতায় লিখে রেখেছি কোন কোন বই পড়ব। সবই বিভিন্ন লেখকের শিশুতোষ বই। আছে চাচা চৌধুরীর কমিকসও। আম্মুর মুখে বিভিন্ন রূপকথার গল্প শুনে ইউটিউবে খুঁজে দেখি সেই রূপকথার কোনো কার্টুন আছে কি না। গল্পের বই আর কার্টুন দেখে দেখেই দুপুর গড়িয়ে যায় আমার। তবে নিয়ম করে হাত ধুতে কিন্তু ভুলি না। কার্টুন দেখার জন্য ইউটিউব ঘেঁটে বুঝতে পেরেছি করোনাভাইরাস খুব দুষ্টু। সে আমাদের ক্ষতি করতে পারে। সেই ক্ষতি থেকে বাঁচতে হলে ঘন ঘন সাবান-পানি দিয়ে হাত ধুতে হবে। জরুরি প্রয়োজন শেষে বাবা বাসায় ফিরলে আমি তাঁকে হাত ধোয়ার কথা মনে করিয়ে দিই। সন্ধ্যার দিকে কমিকসের বই দেখে দেখে কার্টুন আঁকার চেষ্টা করি। বেশির ভাগ সময়ই ব্যর্থ। তবে আমি ছাড়ার পাত্র নই, হুমম্্। মাঝেমধ্যে রান্নাঘরে গিয়ে এটা-সেটা রান্নার রেসিপি রাফ খাতায় টুকে নিই। এত কিছুর মধ্যেও আমি আমার স্কুলকে খুব মিস করি। যত তাড়াতাড়ি দুষ্টু ভাইরাসটা রূপকথার গল্পের মতো হাওয়ায় মিলিয়ে যাবে তত তাড়াতাড়ি আর আমি স্কুলের বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে পারব।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা