kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৬ নভেম্বর ২০২০। ১০ রবিউস সানি ১৪৪২

জন্মদিনেও শুটিং করতে গিয়েছিলাম

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জন্মদিনেও শুটিং করতে গিয়েছিলাম

গণ্ডি সিনেমায় শিশুশিল্পী হিসেবে কাজ করেছে ঋদ্ধি। অমিতাভ রেজার নিঃশব্দতার শহরে ২০১৮ সালে অভিনয় করে প্রশংসা কুড়িয়েছে। এ ছাড়া দুরন্ত টিভিতে ‘অদ্ভুত’ নাটকের মাধ্যমে মিডিয়ায় যাত্রা শুরু করে এই খুদে বন্ধু। মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ছে মুগ্ধতা মোরশেদ ঋদ্ধি। গণ্ডি সিনেমায় অভিনয় করার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জেনেছেন গোলাম মোর্শেদ সীমান্ত। ছবি তুলেছেন অনিরুদ্ধ শাহরিয়ার

 

‘বয়স যখন সাত বছর, তখন মায়ের হাত ধরে নাচ শিখতে যাই আমি। তবে নাচ, গান, আবৃত্তি—কোনো কিছুতে আনন্দ পাচ্ছিলাম না। আসলে আমার আগ্রহের জায়গা ছিল অভিনয়। তাই অভিনয়ে পাকাপোক্ত হওয়ার জন্য ভর্তি হই পিদিম থিয়েটারে। দুই বছর যাবৎ অভিনয় শিখছি সেখানে। পাশাপাশি শিশু একাডেমিতে নাচ, গান এবং আবৃত্তি শিখছি।’—এভাবেই নিজের আগ্রহের বিষয়টি জানাল ঋদ্ধি।

তারপর বলল, ‘আমার অভিনয়ের শুরুটা কিন্তু হয় দুরন্ত টিভিতে ধারাবাহিক নাটক অদ্ভুত দিয়ে। সেখানে আমি সুপার গার্লের চরিত্রে অভিনয় করি। তার পর থেকে এখন পর্যন্ত ছয়টি নাটকে কাজ করেছি।’

গ্রামীণফোনের বিজ্ঞাপন মানেই মনে লেগে থাকার কথা। গত বছর ঈদে ‘আব্বা নীল জামা আনবা’ বিজ্ঞাপনে বাবার সঙ্গে ঈদের পছন্দের জামার কথা বলছিল; মেয়েটি সেই ঋদ্ধি। তার পর থেকে বিজ্ঞাপনে নিয়মিত হয় সে। এখন পর্যন্ত ১০টির বেশি বিজ্ঞাপনে কাজ করেছে। আয়নাবাজিখ্যাত নির্মাতা অমিতাভ রেজা চৌধুরী প্রথমবারের মতো স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছিলেন ২০১৮ সালে ‘নিঃশব্দতার শহর’ নামে।

নিঃশব্দতার শহরে একটা কাজের মেয়ের গল্প ফুটে ওঠে। সিনেমাটিতে মূল চরিত্রে অভিনয় করে ঋদ্ধি। ১১ মিনিটের সিনেমাটিতে শারমিন চরিত্রে দেখা যায় তাকে। সিনেমাটি সাউথ এশিয়া ফিল্ম ফেস্টিভালে জুরি অ্যাওয়ার্ড অর্জন করে।

৯ বছর বয়সেই ঋদ্ধি নাম লিখিয়ে ফেলেছে সিনেমায়। গণ্ডি ছবিটিতে মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন ফেলুদাখ্যাত ভারতীয় অভিনেতা সব্যসাচী চক্রবর্তী এবং বাংলাদেশের গুণী অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফা। পরিচালক হন্যে হয়ে শিশুশিল্পী খুঁজছিলেন —বললেন ঋদ্ধির মা। একদিন পরিচালক তাঁর দল নিয়ে হাজির হলেন ঋদ্ধিদের থিয়েটারে। সেখানে অডিশন নেওয়া হলে পরিচালক শিশুশিল্পী হিসেবে নির্বাচিত করলেন ঋদ্ধিকে।

গণ্ডি সিনেমাটিতে আরহা চরিত্রে অভিনয় করেছে ঋদ্ধি। সিনেমাটিতে সব্যসাচী চক্রবর্তীর নাতনি হিসেবে দেখা যায় তাকে। আরহা মা-বাবার সঙ্গে লন্ডনে থাকে, তবে প্রতিদিনই সুখ-দুঃখের কথা বাংলাদেশে দাদুর সঙ্গে শেয়ার করে। যেসব কথা মা-বাবার সঙ্গে শেয়ার করতে পারে না, তা সে দাদুর সঙ্গে শেয়ার করে থাকে। দাদুও দিনের অভিজ্ঞতা নাতনিকে বলতেন ভিডিও কলের মাধ্যমে। এভাবেই দুজনের মধ্যে বন্ধুত্ব সৃষ্টি হয়।

গণ্ডি বড়দের ছবি। তবে ছবির প্রাণভোমরা শিশুশিল্পী ঋদ্ধি। গল্পের মোড়ে মোড়ে ছড়িয়েছে তার মায়া। ঋদ্ধি বলে, ‘যেদিন আমি প্রথম শুটিং করতে যাই সেদিন, মানে ৫ সেপ্টেম্বর আমার জন্মদিন ছিল। আমার প্রথম শট ছিল সুবর্ণা আন্টির সঙ্গে। সুবর্ণা আন্টি প্রথম দিনেই আমাকে এতটা পছন্দ করতেন যে যত দিন শুটিং করেছি, আমাকে আদর না করে যেতেন না। সব্যসাচী দাদুর জন্মদিন ছিল ৮ সেপ্টেম্বর, সেদিনই প্রথম দেখা হয় তাঁর সঙ্গে। আমাদের টিমের সবাই মিলে দাদুর জন্মদিন উদ্‌যাপন করি। পরবর্তী সময় যেকোনো শুটের সময় সুবর্ণা আন্টি এবং সব্যসাচী দাদু আমাকে আদর করে বুঝিয়ে দিতেন, যা আমার অভিনয় দক্ষতাকে বাড়িয়ে দিত।

সুবর্ণা আন্টি আমাকে কিছু উপদেশ দিয়েছেন; তিনি বলেছেন, যদি তোমার অভিনয় করার ইচ্ছা থাকে তবে তুমি অভিনয় করবে। পাশাপাশি পড়ালেখা চালিয়ে যাবে, বেশি বেশি গল্পের বই পড়বে। এ ছাড়া তোমার বয়সের প্রচুর সিনেমা দেখবে ভালো অভিনয় শেখার জন্য।’

ঋদ্ধির মায়ের কাছে জানতে চাইলাম, ‘নিজের মেয়ের অভিনয় দেখে হলভর্তি মানুষ হাততালি দিচ্ছে—অনুভূতিটা কেমন?’

তিনি বললেন, ‘সত্যি আমি গর্বিত। নিজে ছোটবেলা থেকেই সংস্কৃতি অঙ্গনের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। চেয়েছি আমার মেয়েও সংস্কৃতিচর্চায় যুক্ত থাকবে। তাই নাচ, গান, আবৃত্তি শেখাচ্ছি। তবে তার আগ্রহ অভিনয়কে ঘিরেই। আমিও তার আগ্রহের জায়গাকে গুরুত্ব দিয়েছি। এত অল্প সময়ে এত বড় কাজ করার সুযোগ পাবে তা কখনো কল্পনা করিনি। আমি চাই ঋদ্ধি আরো শিখুক, কেননা ও খুবই ছোট।

ঋদ্ধির কাছে জানতে চাইলাম, ‘বড় হয়ে কী হতে চাও?’

সে এককথায় বলল, ‘ভালো মানুষ হতে চাই।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা