kalerkantho

বুধবার । ৬ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪১

অস্কার জিতেছে টয় স্টোরি

১৯৯৫ সালে মুক্তির পর এনিমেশন চলচ্চিত্রের নতুন ইতিহাস লিখেছিল ‘টয় স্টোরি’। ২৫ বছর পর এখনো বাজিমাত করে চলছে সিরিজটি। ‘টয় স্টোরি’র চতুর্থ কিস্তি সেরা এনিমেশন হিসেবে জিতেছে এবারের অস্কার। লিখেছেন লতিফুল হক

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



অস্কার জিতেছে টয় স্টোরি

শেরিফ উডি আর বাজ লাইটইয়ার। একজন রাখাল, অন্যজন স্পেস রেঞ্জার। তবে সত্যি সত্যি নয়, উডি আর লাইটইয়ার দুজনই খেলনা, যারা মানুষ না থাকলে জীবন্ত হয়ে ওঠে। হারিয়ে যায় নিজেদের রাজ্যে। এত দিনে অবশ্য উডি আর লাইটইয়ারকে তোমাদের ভালোই চেনার কথা। ‘টয় স্টোরি’ সিনেমা সিরিজের প্রধান চরিত্র এই দুজন। সেই ১৯৯৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত সিনেমাটির চারটি কিস্তি মুক্তি পেয়েছে। সবই প্রায় সমান জনপ্রিয়। অথচ শুরুর সময় কে-ই বা ভাবতে পেরেছিল এটা?

‘টয় স্টোরি’র শুরু মূলত বিখ্যাত এনিমেশন স্টুডিও ‘পিক্সার’-এর স্বল্পদৈর্ঘ্য এনিমেশন ছবি ‘টিন টয়’-এর জনপ্রিয়তার পর। ১৯৮৮ সালের ছবিটির মূল চরিত্র টিনি, আদতে একটা খেলনা, যে নিজেই একটা ব্যান্ড চালায়। সেই খেলনা চরিত্রের ব্যাপক সাফল্যই তাদের নিয়ে আস্ত একখানা ছবি করার পথ তৈরি করে।

১৯৯৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘টয় স্টোরি’ই প্রথম পুরোপুরি কম্পিউটার এনিমেশন পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবি। ‘পিক্সার’ স্টুডিওর এটাই প্রথম চলচ্চিত্র। সে বছরের নভেম্বরে ছবিটি মুক্তির পর বলা যায় হুলুস্থুল পড়ে যায়। অনেকের মতে, এটি সর্বকালের সেরা এনিমেশন সিনেমার একটি। সিনেমার সঙ্গে এটির গান ‘ইউ হ্যাভ গট আ ফ্রেন্ড ইন মি’ তুমুল জনপ্রিয় হয়। সেরা গান হিসেবে অস্কার ও গোল্ডেন গ্লোবেও মনোনয়ন পেয়েছিল; যদিও শেষ পর্যন্ত জিততে পারেনি।

‘টয় স্টোরি’র প্রধান দুই চরিত্র শেরিফ উডি আর বাজ লাইটইয়ার চরিত্রে কণ্ঠ দেন যথাক্রমে টম হ্যাংকস ও টিম অ্যালেন। বাজ লাইটইয়ার চরিত্রে কণ্ঠ দেওয়ার প্রস্তাব প্রথমে দেওয়া হয় আরেক অভিনেতা বিলি ক্রিস্টালকে। কিন্তু ‘কোথাকার কি এনিমেশন’ ভেবে তিনি প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। পরে নিজের এ সিদ্ধান্তকে জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন ক্রিস্টাল। ছবিতে উডি রাখাল হিসেবে দারুণ জনপ্রিয় হলেও শুরুতে কিন্তু তার কাউবয় হওয়ার কথা ছিল না। ঠিক হয়েছিল চরিত্রটি হবে এক ভেনট্রিলোকুইস্টের। কিন্তু এতে তোমরা আবার না ভয় পেয়ে যাও এই ভেবে শেষ পর্যন্ত মত বদলানো হয়। উডির কণ্ঠে টম হ্যাংকস দারুণভাবে মানিয়ে গেছেন। তবে সব সময়ই কিন্তু উডির কণ্ঠে টম হ্যাংকসের গলা শোনা যায়নি। একবার কি এক কাজে টম ব্যস্ত থাকায় তাঁর হয়ে কণ্ঠ দেন ভাই জিম! প্রথম ছবির সাফল্যের চার বছরের মাথায় ১৯৯৯ সালে ‘টয় স্টোরি ২’ মুক্তি পায়। এই ছবিতে দেখা যায়, উডিকে এক খেলনা সংগ্রাহক চুরি করে নেয়। উডি চায় বাজসহ অন্য বন্ধুরা এসে তাকে উদ্ধার করুক। কিন্তু ব্যাপারটা কি অত সোজা? প্রথমটির মতো এ ছবিও ব্যাপক ব্যবসাসফল হয়। জনপ্রিয় চলচ্চিত্র সামালোচনাকারী ওয়েবসাইট ‘রটেন টোমাটোজ’ এই ছবিকে ১০০ শতাংশ রেটিং দেয়, যা খুবই বিরল। ‘টয় স্টোরি ২’ ১৯৯৯ সালে মুক্তি পেলেও ছবিটি কখনো মুক্তি না-ও পেতে পারত। কারণ মুক্তির কিছুদিন আগে কম্পিউটারে ভুল নির্দেশ দেওয়ায় ছবিটির ৯০ শতাংশ মুছে যায়! ভাগ্যিস একজনের কাছে কপি ছিল, না হলে যে কী হতো!

‘টয় স্টোরি’ আর ‘টয় স্টোরি ২’ দারুণ সফল। পরের ছবিটি যাতে আগেরগুলোর মতো না হয়ে যায় এ জন্য নির্মাতারা চাইছিলেন নতুন ধরনের চিন্তাভাবনা। এই ‘ফ্রেশ স্টার্ট’-এর জন্য ‘টয় স্টোরি ৩’ তৈরির আগে ছবিসংশ্লিষ্ট সবাই মাথা কামিয়ে ফেলেন! দ্বিতীয় সিক্যুয়াল তাড়াতাড়ি এলেও তৃতীয়টি আসতে সময় লাগে পাক্কা ১১ বছর। এবারের পর্বে দেখা যায়, খেলনার মালিক অ্যান্ডি ভুলক্রমে উডি, বাজসহ অন্যদের একটি ডে কেয়ার সেন্টারে দান করে দেয়। এরপর কী হয় সেটা নিয়েই গল্প। আগের দুটির মতো এটিও ব্যাপক সফল হয়। প্রথম এনিমেশন ছবি হিসেবে এটি টিকেট বিক্রির টাকা থেকে এক বিলিয়ন ডলার আয় করে। সর্বকালের সেরা ব্যবসাসফল এনিমেশন ছবি হয়। যদিও পরে সেই রেকর্ড ভেঙে দেয় ‘মিনিয়নস’। সিরিজের তৃতীয় ছবিতেও ‘টয় স্টোরি’র এক অমীমাংসিত রহস্যের সমাধান হয়নি। সেটা হলো উডি, বাজসহ সব খেলনার মালিক অ্যান্ডির বাবাকে কেন দেখানো হয় না? তিনি যদি কাজে গিয়ে থাকেন তাহলে তো ফিরবেন, মারা গেলেও তো নিশ্চয়ই জানানো হতো। এর অবশ্য আনুষ্ঠানিক কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। তবে মনে করা হয়, প্রথম ছবি হওয়ায় ‘পিক্সেল’-এর বাজেট তখন খুব কম ছিল। এ জন্যই বাড়তি একটা চরিত্রকে ঢোকানো হয়নি।

টানা তিন সিনেমার ব্যাপক সাফল্যের পর তোমাদের মতো সব ভক্তই অপেক্ষায় ছিল চতুর্থ ছবির। শেষমেশ সেটা মুক্তি পায় গেল বছর। আগের তিনটির মতো এটিও খুব সাফল্য পায় বলাই বাহুল্য। এর মধ্যে এই সিরিজের সবচেয়ে ব্যবসাসফল ছবির স্বীকৃতি পেয়েছে। এবার অস্কারে সেরা এনিমেশন ছবি হয়েছে এটি। তবে এই ছবির মুক্তির পর থেকে ভক্তদের মনটা ভীষণ খারাপ। কারণ ‘টয় স্টোরি’র আর যে সিক্যুয়াল হবে না সেটা ছবির শেষে ভালোমতোই বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। উডি ওরফে টম হ্যাংকসও সাক্ষাৎকারে জানিয়ে দিয়েছেন, পর্দায় আর দেখা যাবে না উডি ও বাজের রাজত্ব। তবে ছবির প্রযোজকরা কিন্তু ভবিষ্যতে সিক্যুয়ালের সম্ভাবনা একেবারেই উড়িয়ে দেননি!

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা