kalerkantho

বুধবার । ৬ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪১

৮০ বছরের তরুণ জুটি

একটা বিড়াল আর একটা ইঁদুর। এ বছর ওদের বয়স হলো ৮০ বছর। কিন্তু বুড়িয়ে যায়নি একটুও। আজও স্থান ধরে রেখেছে ছেলে-বুড়ো সবার হৃদয়ে। টম অ্যান্ড জেরির সেই গল্প লিখেছেন নাবীল অনুসূর্য

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



৮০ বছরের তরুণ জুটি

১৯২০ সালের কথা। উইলিয়াম হানা ও জোসেফ বারবারা—দুই কার্টুনিস্ট বন্ধু। বয়স তখনো ৩০ পেরোয়নি। কাজ করতেন ছবির প্রডাকশন কম্পানি মেট্রো গোল্ডউইন মায়ারের (এমজিএম) এনিমেশন বিভাগে। কিন্তু ডিজনি আর ওয়ার্নার ব্রসের সামনে ওদের কম্পানি একেবারেই সুবিধা করতে পারছিল না। সবাই তখন ডিজনির ‘মিকি মাউস’ আর ওয়ার্নার ব্রসের ‘পোর্কি পিগ’-এর জন্য পাগল। অফিসে এক রকম মাছি মেরেই ওদের সময় কাটছিল।

শেষে ওরা নিজেরাই গল্প ভাবতে শুরু করল। মূল ভাবনাটা অবশ্য বহু পুরনো। ইঁদুর-বিড়ালের মারামারি। সে গল্প নিয়ে ওরা বানাল একটা স্বল্পদৈর্ঘ্য এনিমেশন ছবি। প্রথমে বিড়ালটার নাম রাখল জ্যাস্পার। আর ইঁদুরটার জিংকস। পরে বদলে রাখল টম আর জেরি। ১৯৪০ সালে মুক্তি পেল পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় এই জুটির প্রথম ছবি—‘পুস গেটস দ্য বুট’। প্রথম দানেই কিস্তিমাত। জনপ্রিয় তো হলোই, শ্রেষ্ঠ স্বল্পদৈর্ঘ্য এনিমেশন ছবির জন্য মনোনয়ন পেল অস্কারেও।

এত সাফল্যের পরও কম্পানি খুব একটা উৎসাহ দেখাচ্ছিল না। কিন্তু যখন ছবির জগতের রাঘব বোয়ালরাও পরের ছবির খোঁজ নিতে শুরু করল, নড়েচড়ে বসল এমজিএম। টম আর জেরিকে নিয়ে একটার পর একটা স্বল্পদৈর্ঘ্য এনিমেশন ছবি বানাতে শুরু করল হানা-বারবারা। প্রতিটাই পেতে লাগল তুমুল জনপ্রিয়তা। ১৯৫৮ সাল নাগাদ মুক্তি পেল ১১৪টা! এ সময় দুটি ছবিতে ক্যামিও হাজিরা দেয় টম-জেরি—‘অ্যাংকর্স অ্যাওয়েহ’ (১৯৪৫) ও ‘ডেঞ্জারাস হোয়েন ওয়েট’ (১৯৫৩)।

১৯৫৭ সালে এমজিএম থেকে অবসরে যান ছবিগুলোর প্রযোজক ফ্রেড কুইম্বি। অন্যরা নতুন ছবি বানানোর ব্যাপারে খুব একটা আগ্রহী ছিলেন না। কারণ তত দিনে টিভির যুগ শুরু হয়ে গেছে। নতুন ছবি দিয়ে যে আয় হয়, পুরনোগুলো টিভিতে ছাড়লেই তেমনটা সম্ভব। কাজেই এ দফায় ইতি টানতে হলো হানা-বারবারাকে।

কয়েক বছরের মধ্যেই ভুল বুঝতে পারল এমজিএম। টম আর জেরিকে নিয়ে নতুন কার্টুন বানানোর উদ্যোগও নিল। কিন্তু খরচ কমাতে হানা-বারবারার বদলে এনিমেশনের দায়িত্ব দিল জেন ডাইচকে। পারিশ্রমিক কম বলে সে আবার কাজটা দিয়ে দিল প্রাগের একটা স্টুডিওকে। ফলে হলো সস্তার তিন অবস্থা! এমনকি জেন নিজেও স্বীকার করেন, সেই ১৩টাই টম অ্যান্ড জেরির ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে কার্টুন।

এরপর এনিমেশনের দায়িত্ব পেলেন চাক জোন্স। ওয়ার্নার ব্রসের জনপ্রিয় ‘লুনি টুনস’ তার সৃষ্টি। জোন্স আবার টমকে দেখতেও খানিকটা খল চরিত্রের মতো বানিয়ে দিলেন। ভ্রু জোড়া মোটা, মুখটা কেমন বিকৃত। অনেকটা তাঁর নিজের গড়া ‘ড. সুইস’-এর গ্রিঞ্চের মতো।

অবশেষে সত্তরের দশকে টম অ্যান্ড জেরির দায়িত্বে ফিরলেন হানা-বারবারা। ফিরে এলো জৌলুস। সেই থেকে আজ অবধি জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে এই জুটি। এ পর্যন্ত ওদের নিয়ে পাঁচটি টিভি সিরিজ বানানো হয়েছে। সর্বশেষটি চলছে এখনো। মাঝে ১৯৯৩ সালে মুক্তি পায় ওদের নিয়ে প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবি—‘টম অ্যান্ড জেরি : দ্য মুভি’। এরপর মুক্তি পেয়েছে আরো ১২টি।

এ বছর জনপ্রিয় এই কার্টুন জুটির ৮০ বছর পূরণ হচ্ছে। সে উপলক্ষে আয়োজন শুরু হয়ে গেছে গত বছর থেকেই। জাপানে মুক্তি পেয়েছে মিউজিক্যাল ছবি ‘টম অ্যান্ড জেরি : পার-চান্স টু ড্রিম’। আর এ বছর মুক্তি পেতে যাচ্ছে ওদের নিয়ে প্রথম লাইভ-অ্যাকশন এনিমেশন ছবি ‘টম অ্যান্ড জেরি’। অবশ্য তা নিয়ে এখনো তেমন কিছু জানায়নি ওদের এখনকার মালিক ওয়ার্নার ব্রাদার্স। তবে এটুকু জানা গেছে, তাতে অভিনয় করছেন ক্লো গ্রেস মরেটজ ও কেন জেংয়ের মতো তারকারা।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা