kalerkantho

বুধবার । ৬ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪১

জন্মদিন

চোর মারতে বক্সার!

১৯৪২ সালের ১৭ জানুয়ারি ক্যাসিয়াস মার্সেলাস ক্লে ও ওডেসা লির ঘরে জন্ম নেয় এক ছেলে। বাবার নামেই রাখা হয় ছেলের নাম। পরে ছেলে নিজেই নাম বদলে রাখেন মোহাম্মদ আলী। ইতিহাসের সবচেয়ে বিখ্যাত বক্সার। সর্বকালের সেরাদের অন্যতম। তাঁর ছেলেবেলা নিয়ে লিখেছেন নাবীল অনুসূর্য

১৭ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চোর মারতে বক্সার!

আসল নাম ক্যাসিয়াস মার্সেলাস ক্লে জুনিয়র। ১২ বছর বয়সে বক্সিংয়ে নাম লেখান। ১৮ বছর বয়সেই স্বর্ণপদক জেতেন অলিম্পিকে। লাইট হেভিওয়েট বক্সিংয়ে। ধর্ম পরিবর্তন করে হন মুসলিম। নিজের নাম বদলে প্রথমে ‘ক্যাসিয়াস এক্স’ ও পরে ‘মোহাম্মদ আলী’ রাখেন। ১৯৬৪ সালে মাত্র ২২ বছর বয়সেই ওয়ার্ল্ড হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে তোলপাড় তোলেন বক্সিং জগতে। ১৯৬৬ সালে ভিয়েতনাম যুদ্ধে মার্কিন সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানান। সে জন্য ক্যারিয়ারের তুঙ্গে থাকতে প্রায় চার বছরের জন্য বক্সিং ছেড়ে থাকতে হয়। এর পরও বক্সিংয়ের রেকর্ডবুকে আছে তাঁর একগাদা কীর্তি! শেষ বয়সে দীর্ঘদিন পার্কিনশন রোগে ভোগেন। ২০১৬ সালের ৩ জুন ৭৪ বছর বয়সে অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের স্কটসডেলে মৃত্যুবরণ করেন।

 

ক্যাসিয়াস মার্সেলাস ক্লে জুনিয়রের বয়স তখন ১২ বছর। তাঁর একটা সাইকেল ছিল। সেটা কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। নিশ্চিত হয়ে গেলেন, সাইকেল চুরি হয়েছে।

শখের সাইকেল হারিয়ে হন্যে হয়ে বের হলেন পুলিশের খোঁজে। কাছেই ছিলেন একজন পুলিশ অফিসার। নাম জো মার্টিন। তাঁকেই গিয়ে ধরলেন ক্লে। বললেন, ‘কে আমার সাইকেল চুরি করেছে বের করতে পারবেন? তাকে আমি এমন মার দেব, জন্মের শিক্ষা পেয়ে যাবে!’

মার্টিন শুধু পুলিশের চাকরিই করতেন না। ছিলেন বক্সিং প্রশিক্ষকও। স্থানীয় একটা জিমে বক্সিং শেখাতেন তরুণদের। ক্লের কথা শুনে তাঁর সেই সত্তা মাথাচাড়া দিয়ে উঠল। বললেন, ‘কাউকে মারার চ্যালেঞ্জ করার আগে উচিত ভালো করে মারামারি শিখে নেওয়া। নইলে উল্টো চোরই কিন্তু তোমাকে শিক্ষা দিয়ে যাবে!’

সেদিন মার্টিনের পরামর্শ শুনে বিরক্তই হয়েছিলেন ক্লে। স্থানীয় একটা টিভি চ্যানেলে তখন খুদে বক্সারদের নিয়ে ‘টুমরোস চ্যাম্পিয়নস’ নামে একটা প্রগ্রাম হতো। সেটা দেখার পর মনে হলো, মার্টিনের বুদ্ধিটা নেহাত মন্দ নয়। তখন ক্লে ভর্তি হয়ে গেলেন মার্টিনের কাছেই। শিখতে লাগলেন মুষ্টিযুদ্ধের অ-আ-ক-খ। ভাগ্যিস, সেদিন ক্লের সাইকেলটা চুরি হয়েছিল। নইলে মোহাম্মদ আলী বক্সার না হয়ে কী যে হতেন কে জানে!

সে ক্ষেত্রে তিনি হতে পারতেন গায়ক, নৃত্যশিল্পী বা চিত্রশিল্পী! কারণ তাঁর বাবার মধ্যে ছিল এই গুণগুলো। এমনিতে বাবা ক্যাসিয়াস মার্সেলাস ক্লে সিনিয়র বিভিন্ন সাইন রং করতেন আর চার্চের ম্যুরাল বানাতেন। গানও গাইতেন পেশাদারভাবে। তবে চিত্রশিল্পী হতে পারেননি বলে আক্ষেপ ছিল খুব। আর ছেলের কাছে তিনি ছিলেন ‘লুইভিলের সেরা নাচিয়ে’।

এর বাইরে অন্য কিছু হলে তাতে কেমন হতেন কে জানে! ছেলেবেলায় পড়াশোনায় একেবারেই ভালো ছিল না ক্লে জুনিয়র। স্কুলে শুধু দুটি বিষয়েই ভালো নম্বর পেতেন—ছবি আঁকা আর শরীরচর্চা। হাই স্কুলের (আমাদের দেশের কলেজ) ৩৯১ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে হয়েছিলেন ৩৭৬তম!

অথচ তত দিনে বক্সিংয়ের কল্যাণে তাঁর বেশ নামডাক ছড়িয়ে পড়েছে। ১৯৫৪ সালেই বক্সিং শুরু করেন ক্লে। জিতেছিলেন জীবনের প্রথম মারামারি, থুড়ি খেলাটাই। যুক্তরাষ্ট্রে অপেশাদার বক্সারদের জাতীয় প্রতিযোগিতার নাম গোল্ডেন গ্লাভস। ১৯৫৬ সালে ক্লে শিক্ষানবিশদের গোল্ডেন গ্লাভস জেতেন। ১৯৫৯ সালে জেতেন জাতীয় গোল্ডেন গ্লাভস।

১৯৬০ সালের অলিম্পিকের আসর বসে ইতালির রাজধানী রোমে। তাতে অংশ নেওয়ার জন্য ডাক পেলেন ক্লে। কিন্তু তিনি যাবেন না বলেই ঠিক করলেন। এমনিতে তাঁর মধ্যে ভয়ডর কমই ছিল। কিন্তু বিমানভীতি ছিল খুব। মনে হতো বিমানে চড়লেই দুর্ঘটনা ঘটবে। আর বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু নিশ্চিত। এদিকে বিমান ছাড়া রোমে যাওয়ার বুদ্ধিও নেই। জাহাজে চড়ে গেলে আর অলিম্পিকে অংশ নেওয়া লাগবে না।

এর বহু আগেই প্রশিক্ষক বদলে ফেলেছেন ক্লে। মার্টিনের পর কিছুদিন ফ্রেড স্টোনার ছিলেন ওর প্রশিক্ষক। তারপর টানা চার বছর ধরে চাক বোদাকের কাছে মুষ্টিযুদ্ধের পাঠ নিচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু তাঁর বিমানভীতি কাটাতে এগিয়ে এলো প্রথম ওস্তাদ। মার্টিনই বুঝিয়ে-সুঝিয়ে তাঁকে পাঠালেন অলিম্পিকে। আর শুধু বিমানভীতিই নয়, জয় করলেন অলিম্পিকের স্বর্ণপদকও। তারপর দেশে ফিরে ক্যারিয়ার শুরু করলেন পেশাদার বক্সার হিসেবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা