kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

মজার বিজ্ঞান

ঘরে বানানো টেলিফোন

নাবীল অনুসূর্য   

১৫ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ঘরে বানানো টেলিফোন

মোবাইলের দাপটে এখন টেলিফোন (ল্যান্ডফোন) বিপন্ন এক প্রযুক্তি। অথচ এক দশক আগেও সবার ঘরে ঘরে ছিল। সেগুলোই ছিল দূরের আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগের দ্রুততম মাধ্যম। আর কেউ বিদেশে থাকলে তো টেলিফোন ছাড়া কোনো উপায়ই ছিল না।

তবে নিজেই যদি একটা খেলনা টেলিফোন বানাতে পারো, যেটা দিয়ে সত্যি সত্যি এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় কথা বলা যায়, তাহলে কী মজাটাই না হবে! তার জন্য কিন্তু খুব বেশি কিছুরও দরকার নেই। লাগবে দুটি টিনের কৌটা, আর খানিকটা গুনার তার। টিনের কৌটা অবশ্য এখন আর সহজে পাওয়া যায় না। এর বদলে কাপ আইসক্রিমের দুটি কৌটা নিলেও চলবে। প্রথমে কৌটা দুটির তলায় ছোট্ট দুটি ছিদ্র করে নিতে হবে। যাতে সে ছিদ্র দিয়ে তার গলিয়ে নেওয়া যায়। তারপর তারের দুই মাথা বাঁকিয়ে নিতে হবে, এতে কৌটা দুটি দুই মাথায় আটকে থাকবে। তারে গিঁট দিতে পারলে সবচেয়ে ভালো।

ব্যস, টেলিফোন প্রস্তুত। এবার কৌটা দুটি নিয়ে যত দূর পারা যায় চলে যাও। খেয়াল রাখতে হবে, যেন তার একেবারে টান টান থাকে। তাহলেই দুই পাশ থেকে এই টেলিফোন দিয়ে কথা বলা যাবে। তবে কথা বলতে হবে একজন একজন করে। একজন বলবে, আরেকজন অন্য পাশে কৌটায় কান লাগিয়ে শুনবে। আবার যখন অন্য পাশ থেকে কথা বলবে, এই পাশ থেকে কৌটায় কান লাগিয়ে থাকতে হবে। তার যত বড় নেওয়া যাবে, তত দূর থেকে এই টেলিফোনে কথা বলা যাবে। এমনকি এই টেলিফোন লাইন বসিয়ে গল্প-গুজব সারা যাবে পাশের বাড়ির বন্ধুর সঙ্গেও।

এই টেলিফোনের পেছনের বিজ্ঞানটাও খুব সোজা। আমরা যখন কথা বলি, তখন মুখ থেকে বাতাস বের হয়ে শব্দতরঙ্গ সৃষ্টি করে। সেটা যখন আরেকজনের কানে গিয়ে বাড়ি খায়, সে কথাগুলো শুনতে পায়। এই টেলিফোনে ব্যবহার করা গুনার তার এই শব্দতরঙ্গের বাহক হিসেবে কাজ করে। তার দিয়ে শব্দতরঙ্গ কৌটার বাতাসে গিয়ে পৌঁছায়। সেটাই অন্য পাশেরজনের কানে গিয়ে বাড়ি খায়। তখন সে এপাশ থেকে বলা কথাগুলো শুনতে পায়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা