kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

তাঁরাও ছিলেন

মীনা কার্টুনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বাংলাদেশের বিখ্যাত শিল্পী রফিকুন নবী, মুস্তাফা মনোয়ার ও শিশির ভট্টাচার্য্য। রফিকুন নবী ও শিশির ভট্টাচার্য্যের সঙ্গে কথা হয় মোহাম্মদ আসাদের

১৮ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



তাঁরাও ছিলেন

সবার কাছ থেকেই কিছু কিছু আইডিয়া নিয়ে করেছিল

রফিকুন নবী

মীনা কার্টুনের শুরুতে এর সঙ্গে ছিলাম। মীনা কার্টুনের উদ্যোগতা এবং মনিটর করেছে ইউনিসেফের এক মহিলা। নামটা আমি ভুলে গেছি। তার আইডিয়ায়ই মীনা কার্টুন তৈরি হয়েছিল। আমাদের নিয়ে বসেন তিনি। মুস্তাফা মনোয়ার ছিলেন, আমি ছিলাম, শিশির ভট্টাচার্য্য ছিল, ছিল আরো অনেকে। সবার কথা তো আর মনে নেই। সম্ভবত টেলিভিশনের মহিউদ্দিন ছিল। মীনা ক্যারেক্টারটা কেমন হওয়া উচিত, সেটা নিয়ে আমাদের একটা ভাবনাচিন্তা শেয়ার করেছি। এক দিন কি দুদিন ওয়ার্কশপের মতো হয়েছিল। বাংলাদেশেই হয়েছিল। রামমোহান এখানে আসেনি। আমার সঙ্গে তার দেখাও হয়নি। তখন টোকাই-মোকাই করতাম তো। আমি একটা ধারণা দিয়েছিলাম, একটা বাংলাদেশের মেয়েশিশু হবে। ছোট মেয়েটা খাটো করে একটু শাড়ি পরবে। মাথায় ঝুঁটি থাকবে। এ রকম একটা ক্যারেক্টার আমি দিয়েছিলাম। মুস্তাফা মনোয়ার দিয়েছিল, শিশির দিয়েছিল, অনেকেই দিয়েছিল। আলটিমেটলি ওরা ঠিক করল সালোয়ার-কামিজ পরবে। বাড়িঘরগুলোও যেভাবে ব্যবহার করে ওরা, সেটা বাংলাদেশের সঙ্গে তেমন মিল নেই। টিয়াটা ঠিক আছে। অনুষঙ্গ হিসেবে টিয়াটা মজার জন্য রাখা। ছেলেটাও ঠিক আছে। কিন্তু মেয়েটার ড্রেসটা আমাদের মতো নয়। এখন ছোট মেয়েরাও সালোয়ার-কামিজ পরে। যখন এই কার্টুনটা বানায়, তখন এতটুকু মেয়ের সালোয়ার-কামিজ পরার চল ছিল না। আমাদের দেশকে বোঝানোর জন্য আমার আইডিয়াটা দিয়েছিলাম। ইচ্ছা ছিল, এটাকে বাঙালীকরণ করা। আমাদের এখানে এবং পশ্চিমবঙ্গ মিলিয়ে এটা হতে পারত। ওরা বৃহত্তর দক্ষিণ এশিয়ার ভাবনা থেকে ভারতের অন্য অঞ্চল থেকে নিয়েছিল বলে আমার ধারণা। যেন পাকিস্তানেও চলতে পারে। আফগানিস্তানেও চলতে পারে। কিন্তু সবার কাছ থেকেই কিছু কিছু আইডিয়া নিয়ে করেছিল। মেয়েশিশু মীনার মাধ্যমে শিশুদের সাইকোলজি, চাওয়াপাওয়া, ভাবনাচিন্তা, খেলাধুলা, নানা বিষয় ফুটিয়ে তোলার আইডিয়াটা ছিল। আমার খুব পছন্দ হয়েছিল। ভালো বলেই তো এটা এত নাম করেছে।       

মূল কাজটি করেন রামমোহন

শিশির ভট্টাচার্য্য

সম্ভবত ১৯৮৯ সালে ইউনিসেফে চাকরি করা রেচেল নামের এক ব্রিটিশ ভদ্রমহিলা একটা অ্যাজেন্ডা নিয়ে ঢাকায় আসেন। এই অঞ্চলের মেয়েশিশুদের পড়াশোনায় এগিয়ে নেওয়া ও স্কুলমুখী করাই লক্ষ্য। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও নেপাল—এই চারটি দেশ নিয়ে কাজ শুরু করেন। অনেককে নিয়ে একটা আলোচনার আয়োজন করা হয়। সেখানে তিনি নিজেই একটি স্টোরি তৈরি করেছিলেন। মীনা নামটাও তাঁর দেওয়া। একটা ওয়ার্কশপ হয়—মীনা কেমন হবে, রাজু কেমন হবে। আমরা সবাই তার লে-আউট দিই। নবী স্যার (শিল্পী রফিকুন নবী) একটা শাড়ি পরা বাচ্চা মেয়ের লে-আউট করেছিলেন। ল্যান্ডস্ক্রিপ্টের ধারণা দিয়েছিলেন মুস্তাফা মনোয়ার। আগে থেকে ঠিক করা ছিল এই কার্টুন ফিল্মটির ডিরেক্টর হবেন রামমোহন। তখন রামমোহন ছিলেন খ্যাতিমান এনিমেশন ফিল্মমেকার। তিনি মুম্বাইয়ে থাকতেন। তাঁর কাজের মধ্যে মীনা একটি ছোট্ট ঘটনা। আমাদের দেশ থেকে যেমন লে-আউট নেওয়া হয়েছিল। তেমনি ভারত, পাকিস্তান ও নেপালের শিল্পীদের থেকে লে-আউট আনা হয়েছিল। সব দেখে রামমোহন একটা একটা স্টোরি দাঁড় করান। মূল কাজটি করেন রামমোহন। চার দেশ থেকে চারজন শিল্পীকে তাঁর স্টুডিওতে আমন্ত্রণ জানানো হয়। সেখানে বাংলাদেশ থেকে নেওয়া হয় আমাকে, নেপাল থেকে রাজু, পাকিস্তান থেকে নিগার নাজার এবং ভারত থেকে একজন মেয়ে এসেছিল। সে এনিমেশন করত। তার নামটা এখন ঠিক মনে নেই। এই রামমোহনের সঙ্গে আমার প্রথম দেখা। আমাদের থেকে জেনে নেয় কোন দেশের ঘরগুলো কেমন, ঘরের বাইরে কেমন থাকে। আমরা কিছু কিছু সংশোধন করে দিয়েছি। আমি চোরের ডিজাইনটা করে দিয়েছিলাম। তারপর ঘরের ভেতর কুপি রাখার স্ট্যান্ড, কুপির ডিজাইনও করে দিয়েছি। ফিলিপাইনের ম্যানিলায় মূল কাজটি হয়। সেখানেও আমরা তিন-চার সপ্তাহ ছিলাম। আমাদের নেওয়া হয়েছিল এনিমেশন ফিল্মটা যেন একটু শিখি তার জন্য। রামমোহনের সঙ্গে বেশ সময় কাটাই। তিনি কিন্তু আর্টের ওপর পড়াশোনা করেননি। এনিমেশনে তাঁর ছিল অসাধারণ দক্ষতা। আমাকে বলেছিলেন, ‘আমি চাই শিশির এনিমেশন করুক, সে খুব ভালো করবে।’ আমি দু-একটা কাজ করেছি। এতে অনেক সময় ব্যয় হয়। তাই পরে আর করিনি।

রামমোহন পরে আরেকবার ঢাকায় এসেছিলেন। সেখানে দেখা হয়েছে। অনেক গল্প হয়েছে। তাঁর বয়সও হয়েছিল। এই লোকটি এমন হঠাৎ করেই মরে যাবেন ভাবিনি। 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা