kalerkantho

চলচ্চিত্র

তিন ছবি

গরুর মজার মজার কাণ্ড নিয়ে তোমাদের জন্য তৈরি হয়েছে সিনেমাও। সেগুলোর মধ্যে তিনটির কথা জানাচ্ছেন লতিফুল হক

৯ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



তিন ছবি

ফার্দিনান্দ [২০১৭]

নিনা আর ফার্দিনান্দের গল্প। স্পেনের এক ফার্ম হাউসে সমবয়সীদের সঙ্গে খেলাধুলা আর দুষ্টুমিতে ভালোই দিন কাটছিল ছোট্ট ফার্দিনান্দের। হঠাৎই এক রাতে ফার্দির বাবাকে কোথায় যেন নিয়ে যায় ফার্মের মালিকরা। ফার্দি অপেক্ষায় থাকে, রাত পোহালেই বুঝি ফিরবে বাবা। কিন্তু সে অপেক্ষা আর শেষ হয় না। দ্রুতই ফার্দি বুঝতে পারে, তার বাবা আর কখনোই ফিরবে না। তাঁকে শহরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বুলফাইট লড়তে। বড় হওয়ার পর ফার্মের সব ষাঁড়েরই এক পরিণতি। কিন্তু এমন জীবন তো সে চায় না। প্রকৃতির মধ্যে ঘুরে বেড়াতে, প্রজাপতির সঙ্গে ছোটাছুটি করাতেই তার আনন্দ। মারপিট একেবারেই পছন্দ নয়। কী করা, ভাবতে ভাবতে এক রাতে মওকা বুঝে পালায় ফার্দি। কিন্তু পলায়ন পর্ব গোপন থাকে না, পিছু নেয় ফার্মের রক্ষীরা। ভাগ্য ভালোই বলতে হবে, কায়দা করে লাফ দিয়ে এক চলন্ত ট্রেনে উঠে যায় ফার্দি। এর পরই শুরু নতুন জীবন। ট্রেন থেকে নেমে আশ্রয় পায় ছোট্ট বালিকা নিনির কাছে। নিনি আর তার বাবা প্রাণীদের ভীষণ ভালোবাসে। বিশাল জায়গা নিয়ে তাদের বাড়িটা। কুকুর, মোরগ—কী নেই। খোলা জায়গা, সবুজ গাছপালা আর অনেক প্রাণীর সান্নিধ্যে মন ভালো হয়ে যায় ফার্দির। দ্রুতই বন্ধুত্ব হয় নিনির সঙ্গে। আলো-হাওয়ার পরিবেশ আর ভালো খাওয়া পেয়ে দ্রুতই বড় হতে থাকে ফার্দি। ক্রমেই হয়ে ওঠে বিশাল আকৃতির। এতে অবশ্য কোনো ঝামেলা হয় না। মুশকিলটা হয় শহরের ফুল উৎসবের সময়। নিনিদের নিষেধ সত্ত্বেও সেখানে হাজির হয় ফার্দি। একজনের গায়ে লাল কাপড় দেখে হঠাৎই রেগে গিয়ে তছনছ করে পুরো উৎসব। পুলিশ নিয়ে যায় ফার্দিকে। সেখান থেকে ফের জায়গা হয় পুরনো ফার্ম হাউসে। সেখানকার কর্তারা তাকে নিয়ে যায় বুলফাইটের জন্য। কী হবে এবার? ফার্দি কি বাঁচতে পারবে? প্রিয় নিনির সঙ্গে কি দেখা হবে? এসব জানতে দেখতে পারো দারুণ এই সিনেমাটা। ছবিতে অনেক মজার ঘটনা আছে, সংলাপগুলো খুবই চমত্কার। আর নিনি-ফার্দির বন্ধুত্ব দেখতে দেখতে তোমাদেরও নিজেদের বন্ধুর কথা মনে পড়ে যাবে। ২০১৭ সালের অন্যতম সেরা এনিমেশন ছবি ছিল এই ‘ফার্দিনান্দ’। মনোনয়ন পেয়েছিল অস্কার আর গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কারেরও। যদিও পুরস্কার পাওয়া হয়নি। ছবিটি তৈরি হয়েছে মুনরো লিফ ও রবার্ট লসনের বই ‘দ্য স্টোরি অব ফার্দিনান্দ’ অবলম্বনে। সিনেমার সঙ্গে ‘ফার্দিনান্দ’-এর গানগুলোও দারুণ জনপ্রিয় হয়েছিল। শুনলে তোমাদেরও খারাপ লাগবে না।

 

বার্নিয়ার্ড [২০০৬]

কমেডি ঘরানার এই এনিমেশন ছবিটি টিভি সিরিজ ‘দি অ্যাডভেঞ্চার অব জিমি নিউট্রন : বয় জিনিয়াস’-এর একটি চরিত্র নিয়ে। গল্পের কেন্দ্রে ওটিস, দানবাকৃতির এক গরু। সে একটু অগোছালো টাইপের। নিজের খেয়াল রাখাটাই মুশকিল ওর জন্য। ঝামেলায় পড়ে হঠাৎ বাবার মৃত্যুর পর। ওটিসের জীবন বদলে যায়। আলাভোলা ওটিসকেই বানানো হয় ফার্ম হাউসের একদল প্রাণীর নেতা! ওটিসের দায়িত্বশীলতা শেখার গল্প নিয়েই ছবি।

 

হোম অন দ্য র‌্যাঞ্চ [২০০৪]

তিন গাভি ম্যাগি, কালোওয়ে আর গ্রেসের গল্প। ফার্মে তাদের দিন মন্দ কাটছিল না। কিন্তু হঠাৎই উৎপাত। ফার্মের শান্ত জীবন বিষিয়ে তোলে শত্রুর আক্রমণ। মালিক দেনা শোধ করতে না পারায় ফার্ম অধিগ্রহণ করা হবে। বলা যায়, খামারের সবার জীবন বিপন্ন। নিজেদের বাসস্থান রক্ষায় মাঠে নামে ম্যাগি, কালোওয়ে আর গ্রেস। সবাইকে নিয়ে একজোট হয়ে ঠিক করে কিভাবে কী করা যায়। শুনতে অনেকটা সিরিয়াস মনে হলেও ছবিটা আসলে খুবই মজার। ম্যাগি, কালোওয়ে আর গ্রেসের কাণ্ডকীর্তি দেখতে দেখতে নিশ্চিতভাবেই হাসতে হাসতে পেটে খিল ধরে যাবে তোমাদের।

মন্তব্য