kalerkantho

হুল ফোটালে সর্বনাশ!

গোলমেলে এক প্রাণী মশা। গায়ে হুল ফুটিয়ে আমাদের যন্ত্রণা দেয়। এখন আবার শুরু হয়েছে ভয়ানক এডিস মশার উত্পাত। চলো এই সময়ে মশার নানা কিছু জেনে নিই। আর তোমাদের এই প্রাণীটির নাড়িনক্ষত্র জানাচ্ছেন ইশতিয়াক হাসান

২ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে




হুল ফোটালে সর্বনাশ!

আছে বহু প্রজাতি

মশার প্রজাতি সংখ্যা কত শুনে চমকে উঠবে। তিন হাজারের বেশি। তাই বলে ভেবো না এদের সবাই আবার রক্ত খায়। এদের কয়েক শ প্রজাতি রক্ত খায়। শুধু যুক্তরাষ্ট্রে পাওয়া যায় ১৭৫ প্রজাতির মশা। আবার মশাদের মধ্যে রক্ত খায় শুধু স্ত্রী মশারা। ডিম ফোটার জন্য রক্ত প্রয়োজন হয়। একবারে তিন শর মতো ডিম পাড়ে একেকটা স্ত্রী মশা। এখন প্রশ্ন জাগতেই পারে, মশাদের আসল খাবার কী তাহলে। মূলত ফল আর বিভিন্ন উদ্ভিদের রস খেয়ে বাঁচে মশারা। আবার রক্ত খাওয়ার দিক থেকেও মানুষ যে তাদের প্রথম পছন্দ তা নয়। গবাদি পশু, ঘোড়া, পাখির রক্ত খেতেও ভারি আনন্দ এদের।

 

দাঁত নেই মশাদের

মশাদের কিন্তু দাঁত নেই। স্ত্রী মশারা কামড় দেয় মুখের লম্বা, সুচালো এক ধরনের শুঁড়ের মাধ্যমে। এই সুচালো শুঁড় তারা ব্যবহার করে চামড়া ছিদ্র করতে ও রক্তনালি খুঁজে বের করতে। তারপর তারা রক্ত টেনে নেয়।

 

ছোট্ট মাছি

মশার ইংরেজি প্রতিশব্দ মসকুইটো। এটা একটা স্প্যানিশ শব্দ। ১৬ শতকের দিকে এই নামটি পরিচিতি পায়। এর অর্থ ছোট্ট মাছি বা লিটল ফ্লাই। আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড আর অস্ট্রেলিয়ায় মশাদের মজি নামেও ডাকে কেউ কেউ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার এক ধরনের উড়োজাহাজের নাম ছিল মজি।

 

উড়তে পটু নয়

এক থেকে তিন মাইলের বেশি উড়তে পারে না সাধারণত। অনেক সময়ই দেখা যায়, ডিম ফুটে যেখান থেকে বের হয়েছে, এর কয়েক শ গজের মধ্যেই ছোট্ট জীবনটা কাটিয়ে দেয়। আর এদের গতিবেগ ঘণ্টায় মোটে দেড় মাইল। বেশির ভাগ প্রজাতিই ২৫ ফুটের বেশি উচ্চতায় ওঠে না। তবে আট হাজার ফুট উচ্চতায়ও এদের পাওয়া গিয়েছে।

 

ভয়ানক প্রাণী মশা!

পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ানক প্রাণী কোনটা—এটা জিজ্ঞেস করলে তুমি হয়তো হাঙর, বাঘ, সিংহ, সাপ কিংবা কুমিরের কথা ভাবতে পারো। কিন্তু উত্তরটা মশা। এর কারণ আর কিছু নয়, এদের ছড়ানো ভয়ানক সব রোগ। ম্যালেরিয়া, জিকা, ডেঙ্গু। বিশেষ করে বাংলাদেশের মানুষ এডিস মশার ছড়ানো ডেঙ্গু নিয়ে খুবই আতঙ্কে আছে এখন। ধারণা করা হয়, মশার কারণে সৃষ্ট নানা ধরনের রোগে বছরে প্রায় ১০ লাখ মানুষ মারা যায়।

 

কার্বন ডাই-অক্সাইডপ্রেমী

পরবর্তী শিকার ধরার জন্য মশারা সাহায্য নেয় কার্বন ডাই-অক্সাইডের। আমরা যে কার্বন ডাই-অক্সাইড ত্যাগ করি, এর গন্ধ অনুসরণ করে মশারা। আবার আমাদের শরীরের নানা ধরনের গন্ধও আকৃষ্ট করে মশাদের।

 

বহু আগ থেকেই আছে

যত দূর জানা যায়, সেই ডাইনোসরদের যুগ থেকেই আছে মশারা। জুরাসিক পার্ক ছবিটা দেখা থাকলে তুমি অবাক হবে না। কারণ ফসিল হওয়া মশার শরীরে পাওয়া ডাইনোসরের রক্ত থেকে ডিএনএ সংগ্রহ করা হয়েছে প্রাগৈতিহাসিক দানবদের ফিরিয়ে আনতে।

 

মশার মতো

মশার মতো দেখতে বেশ কিছু প্রাণী। প্রথম দেখায় এদের মশা বলে ভাবলেও এরা কিন্তু মোটেই মশা নয়। এদের কোনোটা হুলও ফোটায় না, এমনকি কোনো রোগের বাহকও না। এদের অনেকগুলোই ইচ্ছামতো ডিম পাড়ে। আর আলোর উেসর চারপাশে ঘুরে বেড়িয়ে বেশ ঝামেলা তৈরি করে। এ ধরনের প্রাণীর মধ্যে আছে—মিজ, কোনো কোনো ধরনের ডাঁশ।

 

মশারা বাতাস পছন্দ করে না

মশার ওজন আড়াই মিলিগ্রামের মতো। তাই স্বাভাবিকভাবেই এরা বাতাস পছন্দ করে না। কাজেই হালকা বাতাসই এদের উড়িয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। তাই ফ্যানের জোর বাতাসে মশাদের আশপাশে পাবে না খুব একটা। তা ছাড়া পাখার বাতাস শরীরের ঘাম শুকিয়ে ফেলে। এ কারণেও মশারা তোমার প্রতি কম আকৃষ্ট হবে।

 

পূর্ণিমায় পোয়াবারো

মায়ানেকড়ে, জোম্বি আর মশার মধ্যে একটি ব্যাপারে ভারি মিল। গবেষকরা কখনো সত্যিকারের জোম্বি দেখেননি, তবে তাঁরা দেখেছেন, একেকটা মশার কার্যকারিতা পূর্ণিমার সময় কয়েক গুণ বেড়ে যায়।

 

মশার মূর্তি

কানাডার মেনিটোবার কোমরনোর রাস্তার ধারে পাবে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মশা ভাস্কর্য। কোমরনো অর্থও কিন্তু মশা। ১৯৮৪ সালে বানানো এই স্থাপত্যকর্মটির ছড়ানো ডানা দুটির দৈর্ঘ্য ১৫ ফুট। বাতাসে এটা বেশ দোলেও।

 

বিশাল মশারি

নাইজেরিয়ার আবুজাতে পাতা হয়েছিল বিশাল এক মশা ধরার জাল। ম্যালেরিয়া ও অন্যান্য কীটবাহী রোগের ব্যাপারে সচেতনতা তৈরিতে এটি পাতা হয় ২০০০ সালে। এটার ভেতরে জায়গা হতো প্রায় ২০০ ছেলে-মেয়ের।

 

মশারা তাহলে বেশ বিপজ্জনক। তাই খুব সাবধান! মা-বাবার কথামতো সতর্ক থাকবে। নিজেরাও চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখবে। পানি জমে কি না খেয়াল রাখবে। তাহলে আশা করা যায়, এডিস মশা খুব একটা সুবিধা করতে পারবে না তোমার সঙ্গে।

মন্তব্য