kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

পাঁচ চরিত্র

হুমায়ূন আহমেদ ছোটদের জন্য অনেক লিখেছেন। সেসব থেকে কয়েকটি চরিত্রের পরিচয় উদ্ধার করতে হবে আজ। বই ঘেঁটে লেখাটি তৈরি করেছেন ইশতিয়াক হাসান

১৯ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ছোট্ট মেয়ে

ছোট্ট এক মেয়ে আমি। পড়ি হলিক্রস কলেজে ক্লাস ফোরে। আমি অসুস্থ। জ্বর আসে কয়দিন পর পরই। মাঝেমধ্যে স্কুল কামাই হয় তাই। আমার মা বেশ কড়া টাইপের। তবে বাবা একেবারেই ছেলেমানুষ। মা রেগে গেলেও হাসেন। এতে মা আরো রাগেন। তবে বাবার এই বিষয়গুলো আমার কিন্তু ভালোই লাগে। নানা ধরনের মজার মজার কাণ্ড করেন বাবা। আমাকে নিয়ে অদ্ভুত একটা কবিতাও লিখেছিলেন। কিন্তু বাবার সঙ্গে রাগ করে মা আমাকে নিয়ে চলে এলেন নতুন এক বাসায়। আমার মন ভীষণ খারাপ। ও, একটা কথা তো বলাই হয়নি! মামা আমার জন্য বিদেশ থেকে এনেছিলেন একটা খেলনা আলাদিনের চেরাগ। একরাতে ওটা ঘষা দিতেই সত্যি সত্যি হাজির চেরাগের দৈত্য। তবে মোটেই বিশালদেহী নয়। টিংটিংয়ে। আমার তো বিশ্বাসই হচ্ছিল না। সে-ই বুদ্ধি বের করল বাবা আর মাকে এক করার। বলো তো আমার নাম কী?

নতুন রানি

মানুষদের হিসাবে আমার বয়স বারো-তেরো। এবার স্কুলে আমি খুব খারাপ রেজাল্ট করেছি। এ নিয়ে ম্যাডাম অনেক কথা বলেছেন। আমি এক কামরার একটা বাড়িতে মা আর দাদিমার সঙ্গে থাকি। রাতে দাদিমার গল্প শুনতে শুনতে আমার কান ঝালাপালা। আমার বাবা বন্দি শত্রুদের হাতে। আমাদের রানি খুব নির্দয়। এবার শ্রমিকদের যুদ্ধে পাঠাচ্ছেন। বাড়িতে বাড়িতে তাই কান্নার রোল। তার পরই রানির প্রাসাদে ডাক পড়ল আমার। আমার কথায় অসন্তুষ্ট হয়ে তিনি আমাকে অন্ধকূপে নির্বাসনে পাঠালেন। সেখানেই জানতে পারলাম এক রহস্য। তারপর নানা ঘটনার মাধ্যমে আমি হলাম আমাদের সম্প্রদায়ের রানি। বলো তো আমার নাম কী? আর আমি কী?

অদৃশ্য প্রাণী

আমার কথায় কেউ গুরুত্ব দেয় না। মা-বাবা কেউ-ই না। কারণ তাঁরা বিশ্বাসই করতে চান না, একটা কাকের সঙ্গে আমি কথা বলি। মানুষ হয়ে কাকের কথা বুঝব—এটা কি হয়? আর কাক কথাই বা বলে কিভাবে? তার পরই এলো আমার জন্মদিন। কাক আমাকে উপহার দিল একটা ঝেং-এর বাচ্চা। ঝেং-এর বাচ্চারা হয় অদৃশ্য। দেখতে ভারি সুন্দর। তবে আমি ওকে ঠিকই দেখতে পেলাম। ঝেং-এর বাচ্চা কাগজ খায়। ঝেং-এর বাচ্চার কথা বলায় পরিস্থিতি আরো খারাপ হলো। আমাকে একজন শিশু মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যাওয়া হলো। কিন্তু ওখান থেকে ডাক্তারের একটা পাঁচ শ টাকার নোট গায়েব। তবে কী ঝেং-এর বাচ্চা ওটা খেয়ে ফেলেছে? তার পরও কেউ আমাকে বিশ্বাস করল না। এমনকি আমার অতিপ্রিয় ফুপুও আমার কথা বিশ্বাস করল না। তার পরই ঘটনা নিল নাটকীয় মোড়। আমার নাম বলতে পারবে?

ভূত

আমাদের ক্লাসে মুনির নামে একটা ছেলে পড়ে। ও এমনিতে একেবারে চুপচাপ। কারো সঙ্গে কথা বলে না। একদিন হঠাত্ সে-ই কিনা আমাদের নিয়ে গেল রবি ঠাকুরের মতো দেখতে এক লোকের কাছে। তিনি আমাদের আবার দিয়ে দিলেন ছোট্ট শিশিতে ভরা একটা ভূত। আর এই ভূত নিয়ে ফেরার পরই ঘটতে শুরু করল আজব সব কাণ্ড। অঙ্ক স্যার বিশ্বাস না করে এটা খেয়ে ফেললেন। তারপর শুরু হলো তাঁর ঢেকুর তোলা। বাধ্য হয়ে তাঁকে আবার নিয়ে যেতে হলো সেই বুড়ো লোকটার কাছে। তারপর কঠিন এক প্রতিপক্ষকে ফুটবল খেলায় হারিয়ে দিল আমাদের রয়েল বেঙ্গল ক্লাব। এটাও কী বোতল ভূতের কেরামতি? বোতলটাকে কুয়ায় ফেলে দেওয়া হলো। আবার এটা হাজির। আসলেই কী বোতলের মধ্যে ভূত আছে? আমার নাম বলতে পারবে?

অদ্ভুত এক মেয়ে

আমি অন্যদের মতো নই। আমার মা মারা গেছেন। বাবা আছেন। বাবার আমাকে নিয়ে খুব টেনশন। কারণ আমি মোটেই সুস্থ নই। হঠাত্ খুব রাগ হয়। আর আমার যখন রাগ হয়, তখন যার ওপর রাগ হলো তার মারাত্মক কষ্ট হয়। আবার আমি আশ্চর্য সব গাছের ছবি আঁকি। একদিন আমাদের বাসায় এলেন মিসির আলি নামের এক ভদ্রলোক। তাঁকে আমার ভালোই লাগল। আমার সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করলেন তিনি। কিন্তু এটা তো তাঁর সাধ্যের বাইরে। আচ্ছা আমি কী আস্তে আস্তে গাছ হয়ে যাচ্ছি। আমার নাম বলো তো?

 

উত্তর

নুহাশ। নুহাশ এবং আলাদিনের আশ্চর্য চেরাগ।

পিপলী বেগম। পিঁপড়া।

টুকুন। একি কাণ্ড!

হুমায়ূন। বোতল ভূত।

তিন্নি। অন্যভুবন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা