kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

মজার বিজ্ঞান

প্রজাপতির জাদু

নাবীল অনুসূর্য

১৯ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রজাপতির জাদু

অঙ্কন : বিপ্লব

তোমাদের নিশ্চয়ই প্রজাপতি ভারি পছন্দ। প্রজাপতি দেখলেই পিছে পিছে ছুটতে ইচ্ছা করে। আর দেখতে কী ভীষণ সুন্দর! কিন্তু সমস্যা হলো, প্রজাপতি ধরাই যায় না। ধরতে গিয়ে একটু চাপ দিলেই ডানা ভেঙেচুরে এক বিতিকিচ্ছি অবস্থা হয়ে যায়। কিন্তু কাগজ দিয়ে যদি এমন একটা প্রজাপতি বানানো যায়, যেটা চাইলেই হাতে নিয়ে ঘুরে বেড়ানো যাবে, যেটা হাতে একেবারে ডানা ছড়িয়ে বসে থাকবে, তাহলে কী মজাই না হবে! আর সেই প্রজাপতি নিয়ে ঘোরাঘুরি করলে, তা দেখে সবাই তো রীতিমতো তাজ্জব বনে যাবে।

হ্যাঁ, বিজ্ঞানের জাদুর সাহায্যে সেটিও করা সম্ভব। তার জন্য খুব বেশি জিনিসপত্রও লাগবে না। লাগবে খানিকটা পাতলা কার্ডবোর্ডের কাগজ, দুটি কয়েন, অ্যাডহেসিভ টেপ বা স্বচ্ছ টেপ, আর একটা খড়ের কাঠি। সঙ্গে অবশ্য খানিকটা কারুকাজের কারিকুরিও দেখাতে হবে। কারণ প্রথমেই কার্ডবোর্ডের কাগজটা প্রজাপতির মতো করে কেটে নিতে হবে। শুধু প্রজাপতির মতো করে কাটলেই তো আর ওটা দেখতে প্রজাপতির মতো লাগবে না। সে জন্য খানিকটা আঁকিবুঁকিও করে নিতে হবে। কার্ডবোর্ডের কাগজের ওপর সাদা কাগজ লাগাতে হবে। তার ওপর ইচ্ছামতো রং করে মনমতো একটা প্রজাপতি বানাতে হবে।

এর পরই বিজ্ঞানের জাদুর শুরু। প্রথমে প্রজাপতির দুই ডানায় দুটি কয়েন টেপ দিয়ে আটকে নিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, কয়েন দুটি যেন প্রজাপতির দুই ডানার একেবারে একই জায়গায় লাগানো হয়। এবার খড়ের কাঠিটা টেপ দিয়ে একেবারে মাঝ বরাবর লাগাতে হবে। খড়ের কাঠিটা লম্বায় এমন হবে, যেন শেষ মাথা প্রজাপতির শেষ মাথায় গিয়ে শেষ হয়, তবে শুরুর মাথা কাগজের প্রজাপতির মাথা থেকে খানিকটা বের হয়ে থাকে। ব্যস, জাদুর প্রজাপতি বানানো শেষ। এবার প্রজাপতিটাকে আঙুলের ডগায় নিলে দেখা যাবে, সেটি এমনি এমনিই আঙুলের ডগায় দাঁড়িয়ে আছে। দেখলে মনে হবে, যেন সত্যিকারের একটা প্রজাপতি আঙুলে বসে আছে।

জাদুর প্রজাপতির পেছনের বিজ্ঞানটা খুবই সাধারণ। যেকোনো বস্তুর একটা ভরকেন্দ্র থাকে। বস্তুর পুরোটা ভর ওই বিন্দুকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে থাকে। তাই ওই বিন্দুতে যদি ধাক্কা দেওয়া যায়, তখন বস্তুটা যেদিকে ধাক্কা দেওয়া হয়েছে, ঠিক সেদিকেই সরে যায়। মানে যেকোনো বস্তুর ভরকেন্দ্র যদি হিসাব করে বের করা যায়, সেটিকে ধরে রাখতে বা ব্যালান্স করতে কোনো ঝামেলাই হয় না। তেমনটাই হয় কাগজের প্রজাপতির বেলায়ও।

কাগজের প্রজাপতির পাখায় যদি সেভাবে ঠিকঠাকমতো দুটি কয়েন লাগিয়ে দেওয়া যায়, তাহলে কাগজের প্রজাপতির ভরকেন্দ্রটা হবে ঠিক খড়ের কাঠির মাথায়। আর তাই খড়ের কাঠির মাথা ধরে রাখলে পুরো প্রজাপতিটাই ব্যালান্স হয়ে যাবে। তখন প্রজাপতিটাও একেবারে চুপচাপ হাতের ওপর বসে থাকবে। বাজারে যেসব খেলনা পাখি কিনতে পাওয়া যায়, যেগুলোর স্রেফ ঠোঁটটা কোনো কিছুর ওপর রাখলেই ব্যালান্স করে দাঁড়িয়ে থাকে, সেগুলোও এই একই বিজ্ঞানের কৌশলে বানানো হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা