kalerkantho

সোমবার । ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১১ রবিউস সানি ১৪৪১     

সম্ভাবনাময় পর্যটনশিল্পের দ্রুত বিকাশে শুল্ক হ্রাস এবং ইনসেনটিভ ব্যবস্থা চালুর দাবি

মুস্তফা নঈম, চট্টগ্রাম   

১২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



সম্ভাবনাময় পর্যটনশিল্পের দ্রুত বিকাশে শুল্ক হ্রাস এবং ইনসেনটিভ ব্যবস্থা চালুর দাবি

‘আমরা ভাগ্যবান, কারণ পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত রয়েছে আমাদের দেশে। কিন্তু দীর্ঘ সৈকত-পাহাড়-ঝরনা আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে অফুরান কক্সবাজারে এত সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও পর্যটন খাতে আমরা পিছিয়ে রয়েছি।

কক্সবাজার পর্যটনশিল্পের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন এই শিল্প নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করা এবং পাঁচ তারা হোটেল ‘ওশান প্যারাডাইজ’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চেয়ারম্যান এম এন করিম।

তিনি বলেন, ‘নানা সমস্যার পরও কিছু উদ্যোক্তা নিজেদের প্রচেষ্টায় সম্ভাবনাময় এই শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সরকার পর্যটন শহর হিসেবে কক্সবাজারের উন্নয়নে নানা উদ্যোগের কথা বললেও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। বর্তমান সরকার এই খাতের উন্নয়নে বেশ আন্তরিক। কক্সবাজারকে ঘিরে বর্তমান সরকার বেশ কিছু কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কক্সবাজার পর্যন্ত রেললাইন স্থাপন, বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীতকরণ, সোনাদিয়া দ্বীপে ইকো ট্যুরিজম পার্ক স্থাপন, মেরিন ড্রাইভ নির্মাণ, মহেশখালীতে বেশ কিছু মেগাপ্রকল্প গ্রহণ, কক্সবাজার শহরের উন্নয়নে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া ট্যুরিস্ট পুলিশ বিভাগ গঠন এবং তাদের তৎপরতার কারণে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন অনেকটা নিরাপদ কক্সবাজারে পর্যটকরা। তবে এই নিরাপত্তাব্যবস্থা আরো জোরদার করতে হবে।’

এম এন করিম বলেন, ‘পর্যটন এলাকায় মানুষ সময় কাটাতে আসে নিজের মতো করে। পর্যটনশিল্পের বিকাশ ঘটাতে হলে বিদেশি পর্যটকদের আগমন বাড়াতে হবে। বিদেশি পর্যটকদের আন্তর্জাতিক মানের তারকা হোটেলে সেই রকম সুযোগ-সুবিধা প্রদান করতে হবে। স্থানীয় পর্যটক দিয়ে পর্যটনশিল্পের কাঙ্ক্ষিত চাহিদা পূরণ সম্ভব নয়। বিদেশি পর্যটক এলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ হয়।’

কক্সবাজারে যে কয়েকটি হোটেলে বার লাইসেন্স আছে তাদের অ্যালকোহল সংগ্রহ করতে হয় অধিক মূল্য দিয়ে পর্যটন থেকে। তা-ও সময়মতো পাওয়া যায় না। কখনো কোনো আবেদন করলে তার সুরাহা করতে সাত থেকে আট মাস পর্যন্ত সময় লেগে যায়। আবার নিজস্ব লাইসেন্স দিয়ে আমদানি করলে অতিরিক্ত শুল্কের কারণে অ্যালকোহলের দাম অনেক বেশি হয়ে যায়। তাই বিদেশিদের চাহিদা মোতাবেক অ্যালকোহল সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘যেসব তারকা হোটেল ও মোটেল আছে, বিশেষত পর্যটন এলাকার তারকা হোটেলগুলোর ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত অথবা শুল্ক কিছুটা শিথিল করা যেতে পারে। আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারত, শ্রীলঙ্কা, সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক, এমনকি মালয়েশিয়ায় বিপুলসংখ্যক পর্যটকের আগমন ঘটে। খবর নিলে দেখতে পাবেন, ওই সব দেশে পর্যটন খাতে শুল্কের পরিমাণ অনেক কম। এমনকি ভ্যাটের অনুপাতও অনেক কম। এসব বিষয় নিয়ে সরকারকে ভাবতে হবে।’

কক্সবাজারে প্রায় ৩০০টি হোটেল-মোটেল ও গেস্টহাউস রয়েছে। এর মধ্যে চার-পাঁচটি তারকা হোটেল রয়েছে। পর্যটনশিল্পের বিকাশে গড়ে ওঠা এসব বড় হোটেল-মোটেল কোনোটিই লাভে নেই; বরং ব্যাংকের ঋণগ্রস্ত। অধিক হারে বিদেশি পর্যটকের সমাগম না ঘটা পর্যন্ত এসব প্রতিষ্ঠান লাভের মুখ দেখবে না। কক্সবাজারে বছরে গড়ে মাত্র ৩০ থেকে ৩৫টি দিন ব্যবসা ভালো হয়। বাকি সময়টাতে তাদের লোকসানের বোঝা বয়ে যেতে হয়।

পর্যটনশিল্পের বিশিষ্ট এই উদ্যোক্তা বলেন, ‘একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে আমরা যদি এখনো ঊনবিংশ শতকের গোঁড়া সামাজিকতার হিসাব করি, তাহলে আমাদের পর্যটন খাত অগ্রসর হবে না। সব নাগরিককে আরো উদার মানসিকতার পরিচয় দিতে হবে। ওশান প্যারাডাইজের উদাহরণ টেনেই যদি বলি, সমমানের ঢাকার হোটেলগুলোর রুম ট্যারিফ ন্যূনতম ২০০ থেকে ২৫০ ডলার। অথচ আমাদের এখানে ৮০ ডলারও রুম ট্যারিফ রাখা সম্ভব হয় না। আমাদের হোটেলের সুযোগ-সুবিধা, সৌন্দর্য, সার্ভিস—কোনোটিরই অভাব নেই। আমার এই হোটেলে রয়েছে হেলিপ্যাড, রুফটফ রেস্টুরেন্ট, যেখানে চাঁদের আলো আর সমুদ্রের গর্জন দুটোই একসঙ্গে এক রোমাঞ্চকর অনুভূতি সৃষ্টি করে।’

সাউথ এশিয়ান ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম অ্যাওয়ার্ড ২০১৯ প্রাপ্ত ওশান প্যারাডাইজ লিমিটেডের (হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট) চেয়ারম্যান এম এন করিম এ পর্যায়ে কক্সবাজারসহ দেশের পর্যটনশিল্পের উন্নয়ন ও বিকাশে সহায়ক বেশ কিছু প্রস্তাব তুলে ধরেন—

** বিদেশিদের জন্য সমুদ্রসৈকতে এক্সক্লুসিভ একটি জোন নির্ধারণ করা অতীব প্রয়োজন। পর্যটকরা যাতে সেখানে সূর্যস্নান, সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত উপভোগ করতে পারে সেই ব্যবস্থা রাখতে হবে। ওই এলাকাকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনাসহ কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে।

** পর্যটনশিল্পের বিকাশের জন্য গার্মেন্টশিল্পের মতো নামমাত্র হারে শুল্ক ও ইনসেনটিভ/ভর্তুকি প্রদান করতে হবে। এ ধরনের সুযোগে কক্সবাজারে অবস্থিত তারকা মানের হোটেলগুলোর পর্যটকদের অধিক সেবা প্রদান করা সম্ভব হবে। এসব হোটেলে গড়ে ৩০০ থেকে ৩৫০ জন লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। কক্সবাজার যেহেতু কোনো ব্যাবসায়িক কেন্দ্র নয়, তাই পর্যটনশিল্পের কথা চিন্তা করে এটি বিবেচনায় আনা যায়।

** ‘সবুজ পরিবেশ’ বিষয়টিকে কক্সবাজারে প্রাধান্য দিতে হবে। পরিবেশের কথা চিন্তা করে কক্সবাজারে একটি কেন্দ্রীয় ইটিপি প্রয়োজন। এখানে যেসব হোটেল-মোটেল রয়েছে তার কোনোটিতেই ইটিপি সংযোজন করে অনুমোদন করা হয়নি। শতকরা ৯৮ ভাগেরই ইটিপি নেই। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন, একটি সুন্দর পরিবেশসম্মত কক্সবাজারের জন্য হোটেল-মোটেল জোনে জরুরি ভিত্তিতে সেন্ট্রাল ইটিপি স্থাপন করা হোক।

** পর্যটন এলাকার রাস্তার প্রশস্ততা বৃদ্ধি করতে হবে, রোড লাইট, ড্রেনেজ সিস্টেম এবং সড়ক বিভাজকগুলো দৃষ্টিনন্দন করতে হবে।

** বিদেশি দূতাবাসগুলোতে ট্যুরিস্ট হেল্প ডেস্ক

চালুর পাশাপাশি কক্সবাজার, সুন্দরবনসহ দেশের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানের বিবরণ সে দেশের ভাষায় বিভিন্ন পোস্টার বা লিফলেটের মাধ্যমে তুলে ধরতে হবে।

ওশান প্যারাডাইজ লিমিটেডের ঠিকানা- ২৮-২৯, হোটেল মোটেল জোন, কক্সবাজার। ফোন : ০১৯৩৮-৮৪৬৭৭৭

ওয়েবসাইট www.oceanparadisehotel.com

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা