kalerkantho

রবিবার । ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯। ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৭ রবিউস সানি                    

কক্সবাজার সৈকতের কটেজপল্লী মধ্যবিত্ত ভ্রমণকারীদের স্বপ্নপূরণের স্থান

তোফায়েল আহমদ, কক্সবাজার   

১২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কক্সবাজার সৈকতের কটেজপল্লী মধ্যবিত্ত ভ্রমণকারীদের  স্বপ্নপূরণের স্থান

দিনবদলের সঙ্গে মানুষের চাহিদারও ক্রমশ পরিবর্তন হচ্ছে কক্সবাজার সাগরপারে। সৈকতের পর্যটনে এখন বিলাসবহুল হোটেলের পাশাপাশি চাহিদা বাড়ছে পরিবেশবান্ধব কটেজগুলোরও। মধ্যবিত্ত আর নিম্নমধ্যবিত্তদের থাকা-খাওয়ার নিশ্চয়তা দিচ্ছে এসব কটেজ। এখানে স্বল্প ভাড়ায় থাকার যেমন ব্যবস্থা রয়েছে, তেমনি রয়েছে ভ্রমণকারী পর্যটকদের নিজেদের ইচ্ছামতো রান্না করে খাওয়ার সুযোগ-সুবিধাও।

কক্সবাজার সাগরপারের চার শতাধিক হোটেল-মোটেলের মধ্যে কটেজপল্লীতে রয়েছে শতাধিক আবাসন। পাহাড়ছোঁয়া পরিবেশে অধিকাংশই বাংলো টাইপের ঘর এগুলো। কিছুসংখ্যক কটেজ রয়েছে দোতলা।

সাগরপারের লাইট হাউস পাহাড়ের সঙ্গে শরণ গৃহায়ণ ও সৈকত গৃহায়ণ এবং সৈকতপল্লী এলাকায় এই কটেজগুলোর অবস্থান। অনেক কটেজ আবার ব্যবহৃত হয়ে আসছে বাসাবাড়ি হিসেবেও।

এলাকার দু বা তিন কাঠার প্লটে গড়ে তোলা এসব বাংলো টাইপের কটেজ দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্রে নিম্নমধ্যবিত্তদের ভ্রমণের স্বপ্নপূরণে বড় সহায়ক ভূমিকা পালন করে আসছে। প্রতিটি কটেজে এক রাতে ৩০-৪০ জন ভ্রমণকারীর থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। এতে পর্যটনের ভর মৌসুমে শতাধিক কটেজে প্রতি রাতে তিন-চার হাজার ভ্রমণকারী অবস্থান নিতে পারে।

এই কটেজগুলো জমজমাট হয়ে ওঠে শীতের সময়। যখন দেশের দূর-দূরান্তের পাড়া-মহল্লা, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা করপোরেট হাউসের লোকজন একসঙ্গে পিকনিক করতে সৈকতে আসে, তখন তাদের জন্য বড় আশ্রয়স্থল হিসেবে এগুলোই নিয়ামক হয়ে দাঁড়ায়। কেননা কটেজের পাশে গাড়ি পার্ক করে একটি বা একাধিক কটেজ ভাড়া নিয়ে নিজেরাই রান্না করে খাওয়ার ব্যবস্থা করতে পারেন। এতে একদিকে স্বল্প টাকায় থাকা-খাওয়া যেমন করা যায়, তেমনি সৈকত দর্শনেরও শখ মেটানো সম্ভব হয়।

স্থানীয় হোটেল ডায়মন্ড প্যালেসের মালিক আবুল কাসেম সিকদার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সাগরপারে আবাসিক হোটেলসহ রেস্তোরাঁ ব্যবসায় দীর্ঘ চার দশকের বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতা রয়েছে আমার। এমন ভ্রমণকারীও পেয়েছি, যিনি এক দিনের হোটেল ভাড়ায় যেকোনোভাবে দুই দিন কাটিয়ে হলেও সাগরের ফেনিল ঢেউ উপভোগ করে ঘরে ফিরতে চান।’

কাসেম সিকদার আরো বলেন, ‘বিলাসবহুল হোটেলে এক রাতে সাত হাজার টাকা ব্যয়ের চেয়ে অনেকেই চান থাকা-খাওয়াসহ দৈনিক এক হাজার টাকা খরচে সাত রাত কাটিয়ে দিতে। আবার এ রকমও রয়েছে, পুরো পরিবারের স্বজনরা চান একটি আবাসন ঘর ভাড়া নিয়ে কয়েকটা দিন ভিন্ন পরিবেশে কাটিয়ে যেতে। এ রকম বিনোদনপ্রেমী পর্যটকদের জন্য হোটেলের চেয়ে স্বল্প টাকার কটেজগুলোই সবচেয়ে ভালো এবং সাশ্রয়ী। আবার এ ক্ষেত্রে সরকারের রাজস্বও বৃদ্ধি পাচ্ছে।’

শরণ বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম এসব বিষয়ে বলেন, সমিতির আড়াই কাঠা প্লটে সদস্যরা নিজেদের আবাসন ব্যবস্থার জন্য পরিবেশবান্ধব বাংলো টাইপের কটেজ করে অনেকেই বসবাস করেন। আবার অনেকেই পর্যটনের ভর মৌসুমে অন্যত্র বসবাসের জন্য সরে গিয়ে ভ্রমণকারীদের স্বল্প টাকার ভাড়ায় থাকা-খাওয়ার সুবিধার্থে বাংলোটি ছেড়ে দেন। এতে মৌসুমি পর্যটকদের যেমন স্বল্প টাকায় বেড়ানোর সুযোগ হয়, তেমনি আবার বাংলো বা কটেজ মালিকও আর্থিকভাবে লাভবান হন।

তাঁরা আরো জানান, কক্সবাজার সৈকতে বিলাসবহুল ও মধ্যম মানের হোটেলের পাশাপাশি স্বল্প খরচে পর্যটকদের আবাসনযোগ্য আরো সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর দিকে দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন রয়েছে। কেননা দেশের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র এবং বিশ্বের দীর্ঘতম সৈকতের শহর কক্সবাজারে ধনী-দরিদ্র সব শ্রেণির ভ্রমণকারীই বেড়াতে আসেন। তাঁদের সবার জন্য সুযোগ-সুবিধা দেওয়া দরকার।

এসব বিষয় নিয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আশরাফুল আফসার বলেন, ‘বর্তমান সরকার কক্সবাজারের পর্যটনকে ঘিরে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করেছে। পর্যটনশিল্পের প্রসারের জন্যই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে দোহাজারী থেকে রেললাইন চালুর কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। কক্সবাজার বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপ নিচ্ছে। সৈকতে স্থাপন করা হয়েছে শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম। সেই সঙ্গে পর্যটকদের আবাসন সংকট নিরসনেও বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সরকার সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা