kalerkantho

রবিবার । ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯। ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৭ রবিউস সানি                    

কক্সবাজারই হবে দেশের পর্যটন অর্থনীতির প্রধানতম কেন্দ্রবিন্দু

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কক্সবাজারই হবে দেশের পর্যটন অর্থনীতির প্রধানতম কেন্দ্রবিন্দু

‘বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পের মূল উপাদান হচ্ছে প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পদ। পাহাড়-নদী-সমুদ্রসহ  প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের অপার সম্ভাবনা ও সম্পদগুলো নিয়ে সঠিকভাবে পরিকল্পনা করা গেলে আমরা পর্যটনশিল্প খাতে অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারব। গত এক দশকে বাংলাদেশের পর্যটন খাতের উন্নয়নে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণে সরকারের ভূমিকা প্রশংসনীয়। বিশেষ করে দেশে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের লক্ষ্যে ট্যুরিস্ট পুলিশ এ ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করে আসছে।

বাংলাদেশের পর্যটনের মূলকেন্দ্র হচ্ছে কক্সবাজার। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত, কক্সবাজারের প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে গুরুত্ব দিয়ে বর্তমান সরকার বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এসবের মধ্যে রয়েছে পর্যটননগর কক্সবাজারকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করতে রেললাইন স্থাপন, বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীতকরণ, কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত সাগরের পার ঘেঁষে ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেরিন ড্রাইভ নির্মাণ। সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক, নাফ ট্যুরিজম পার্ক ও সোনাদিয়া ইকো ট্যুরিজম পার্ক—এই তিনটি ট্যুরিজম পার্ক নির্মাণ শেষ হলে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে পর্যটননগর কক্সবাজারের আকর্ষণ আরো বেড়ে যাবে।’

এক দশক ধরে দেশের পর্যটনশিল্পের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত এবং কক্সবাজরের অন্যতম তারকা হোটেল দ্য কক্স টুডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরুণ উদ্যোক্তা আবদুল কৈয়ুম চৌধুরী কালের কণ্ঠ’র সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘অতীতে নিরাপত্তা সম্পর্কিত বিষয়গুলো বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছিল। সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পর্যটনের গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে দেশের পর্যটনশিল্পে উল্লেখযোগ্য উন্নতির আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তবে সরকারের উদ্যোগকে আরো গতিশীল করতে এবং বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য আমাদের ভিসা প্রক্রিয়া আরো সহজ করতে হবে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতাও কমাতে হবে। এ ছাড়া পর্যটন খাতে দক্ষ মানবসম্পদের অভাব রয়েছে। তবে আশার কথা যে বেশ কয়েক বছর ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যটন বা ট্যুরিজমকে পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বিগত কয়েক বছরের রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তাব্যবস্থার উন্নয়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কারণে পর্যটনশিল্পে দারুণ অগ্রগতি হয়েছে। এই অগ্রযাত্রাকে আমাদের ধরে রাখতে হবে।’ তা ছাড়া ২০১৮ সালের ওআইসির আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ঢাকাকে ওআইসি পর্যটন শহর ২০১৯ হিসেবে ঘোষণা করে। এতে মুসলিম দেশগুলোর অনেক পর্যটকের কাছে বাংলাদেশ নতুনভাবে পরিচিতি লাভ করবে। এটা আমাদের পর্যটনশিল্পের জন্য একটি ইতিবাচক দিক, দেশের ইমেজ বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত সহায়ক একটি ঘোষণা বলে তিনি উল্লেখ করেন।

পর্যটনশিল্পের বিকাশে কক্সবাজারকে ঘিরে সরকার যে পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে এতে প্রতিবছর পর্যটন খাতেই দেড় শ থেকে দুই শ কোটি মার্কিন ডলারের অর্থনৈতিক কার্যক্রমের সুযোগ সৃষ্টি হবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে প্রায় কয়েক হাজার মানুষের।

পর্যটনশিল্পের তরুণ এই উদ্যোক্তা বলেন, ‘পর্যটনশিল্পের বিকাশে বিদেশে অবস্থিত দূতাবাসগুলোকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। দূতাবাসগুলো আমাদের দেশের পর্যটন অঞ্চলগুলোর পরিচিতি তুলে ধরা, ভিসা সহজীকরণের ব্যবস্থা, পর্যটন অঞ্চলের হোটেলগুলোতে থাকা-খাওয়া, যোগাযোগব্যবস্থা উন্নতকরণের বিষয়াদি বিভিন্ন প্রচারমাধ্যমে তুলে ধরতে পারলে বিদেশি পর্যটক আকর্ষণের পাশাপাশি এই খাতে আমরা বিদেশি বিনিয়োগও আনতে সক্ষম হব।’

হোটেল দ্য কক্স টুডের ঠিকানা প্লট-০৭, রোড-০২, হোটেল মোটেল জোন, কলাতলী রোড, কক্সবাজার।

ফোন : ০১৭৫৫-৫৯৮৪৪৬

ওয়েবসাইট www.hotelthecoxtoday.com

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা