kalerkantho

সোমবার। ২৭ জানুয়ারি ২০২০। ১৩ মাঘ ১৪২৬। ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

আমরা শিক্ষাকে সেবা হিসেবেই দেখি

৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আমরা শিক্ষাকে সেবা হিসেবেই দেখি

স্কুলটি কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?

১৯৫০ সালে স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এখনকার স্থানীয় কিছু শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি এগিয়ে এসেছিলেন স্কুল প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে। এটি স্বীকৃতি পায় ১৯৫৮ সালে। ১৯৬১ সালে স্কুলের শিক্ষার্থীরা প্রথমবার এসএসসি বা তৎকালীন এন্ট্রান্স পরীক্ষায় অংশ নেয়। পাকিস্তান আমলে প্রতিষ্ঠিত অধিকাংশ স্কুলই উর্দু মাধ্যমের ছিল। তবে আমি যত দূর জানি, এই স্কুল বাংলা মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় ও অনুমোদন পায়। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত এই স্কুল বাংলা মাধ্যমেই চলছে।

 

নির্ধারিত পাঠ্যসূচির বাইরে কী কী সুযোগ পায় শিক্ষার্থীরা?

আমরা সব সময় মনে করি, শিক্ষার্থীরা যেন পুঁথিগত বিদ্যার বাইরেও জ্ঞান লাভ করে, মানসিক বিকাশ হয়। এ জন্য আমরা অংশগ্রহণমূলক মনোবৃত্তি তৈরির প্রতি জোর দিই। বড় পরিসরে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করি। আন্ত স্কুল এবং আন্ত ক্লাস প্রতিযোগিতা হয়। একই ক্লাসের আলাদা আলাদা সেকশনের সঙ্গে খেলার আয়োজন করা হয়। আমাদের কালচারাল প্রগ্রামগুলোও বড় পরিসরে হয়। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে আমাদের এখানে বিশেষ নিয়ম আছে। নিয়মটি হলো—ক্লাসের সব ছাত্রীকে অংশ নিতে হবে। আমরা সব শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করি। কেউ প্রত্যক্ষ, কেউ হয়তো পরোক্ষ ভূমিকা রাখে, কিন্তু সবাইকেই অংশ নিতে হয়।

 

কো-কারিকুলাম অ্যাকটিভিটিস সম্পর্কে একটু বলুন।

কো-কারিকুলাম অ্যাকটিভিটিস, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন, ইভেন্ট—এসব বিষয়ে লালমাটিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সুনাম রয়েছে। যেমন থানা পর্যায়ে লোকসংগীতে আমাদের স্কুল বরাবরই ভালো ফল করে। নৃত্য প্রতিযোগিতার দুটি শাখায়ই আমাদের স্কুল সর্বশেষ থানা পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।

আমাদের এখানে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত মিউজিক ক্লাস বাধ্যতামূলক। আগামী বছর থেকে এর পাশাপাশি আমরা টেন্স ক্লাসকেও বাধ্যতামূলক করব। সপ্তাহে একটি করে ক্লাস থাকবে।

 

শিক্ষাক্ষেত্রে প্রায়ই বাণিজ্যিকীকরণের অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে আপনার মূল্যায়ন।

কিছু কিছু ক্ষেত্রে অভিযোগটি সত্য যে গুটিকয়েক স্কুলে শিক্ষার নামে বাণিজ্যিকীকরণ হচ্ছে। যেমন—আমাদের কাছেরই একটি স্কুল ভর্তি ফি নেয় ২৮ হাজার টাকার মতো। পাশ্চাত্য কারিকুলামের স্কুলগুলোর প্রসঙ্গ বাদ রেখেই বলছি। মাসে বেতন নেয় প্রায় চার হাজার টাকার মতো। আরো কিছু স্কুল আছে, যেগুলোতে টিউশন ফি ও বেতন হিসেবে অনেক টাকা নিচ্ছে। এটি বন্ধ করতে সরকারের নীতিমালা রয়েছে, নির্দেশনা রয়েছে। তবু বন্ধ হচ্ছে না, কারণ জনসচেতনতার অভাব রয়েছে, আবার অনেকে এসব প্রতিষ্ঠান থেকে অনৈতিক সুবিধা নিচ্ছে।

আমরা শিক্ষাকে সেবা হিসেবেই দেখি। আমাদের এখানে টিউশন ফি অভিভাবকদের সাধ্যের মধ্যেই। আমাদের বেতন ৯০০ থেকে এক হাজার টাকা। তবে শিশু শ্রেণিগুলোতে একটু বেশি।

 

স্কুলটিতে গোছানো একটি ভাব পরিলক্ষিত হয়। এর কারণ কী?

আমরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ওপর বিশেষ জোর দিই। নিয়মিত ঝাড়ু দেওয়া থেকে শুরু করে অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালিত হয়। আমরা আরেকটি জিনিসের ওপর জোর দিই। সেটি হচ্ছে শিক্ষার্থীদের জন্য পরিচ্ছন্ন ওয়াশরুম সুবিধা। আমাদের এখানে বাথরুম রয়েছে ৩০টি। আমাদের স্কুলটি একটি অভিজাত এলাকায় অবস্থিত। আমরা চেষ্টা করি, শিক্ষার্থীরা বাসায় যে যে রকম মানের বাথরুম দেখে অভ্যস্ত, সে রকম কিংবা তার থেকে ভালো মানের ওয়াশরুম সুবিধা দিতে।

আমাদের স্কুলে তিনটি পাবলিক পরীক্ষার সেন্টার পড়ে। জেএসসি, পিইসি এবং এসএসসি। বাড়তি শিক্ষার্থীরা এসেও আমাদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা দেখে মুগ্ধ হয়।

 

অন্যান্য স্কুল এমন পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে আপনার পরামর্শ কী?

সবার আগে এ বিষয়ে পরিচ্ছন্নতা কমিটি গঠন করে দিতে হবে। কমিটির জন্য বার্ষিক বাজেট নির্ধারণ করতে হবে। নিয়মিত বৈঠকের ব্যবস্থা করতে হবে। আমাদের এখানে সাত সদস্যের কমিটি রয়েছে। কমিটি প্রতিদিন পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি তদারক করে। কোনো শিক্ষার্থী কোনো বিষয়ে পরামর্শ দিলে বা অভিযোগ করলে কমিটি ভিজিট করে সমাধানের ব্যবস্থা করে। অধিকাংশ স্কুলে পরিচ্ছন্নতা কমিটি রয়েছে বোর্ডের নির্দেশনার কারণে। কিন্তু সেগুলো কার্যকর না। এসব কমিটি কার্যকর করতে হবে। কমিটির সঙ্গে একজন স্টাফ থাকবে এবং একজন ক্লিনার সংযুক্ত করতে হবে কমিটিতে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা