kalerkantho

শনিবার । ২৫ জানুয়ারি ২০২০। ১১ মাঘ ১৪২৬। ২৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

অসাম্প্রদায়িক আবহের এক মানবিক বন্ধন

৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অসাম্প্রদায়িক আবহের এক মানবিক বন্ধন

আপনার স্কুলের শুরুর গল্প বলুন?

বাংলাদেশের তিন পার্বত্য জেলা এবং সারা দেশে বসবাসরত আদিবাসী বৌদ্ধদের মাঙ্গলিক আশা-আকাঙ্ক্ষা বুকে ধারণ করে ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘পার্বত্য বৌদ্ধসংঘ’। এই পার্বত্য বৌদ্ধসংঘ কর্তৃক আদিবাসী বৌদ্ধদের মিলন তীর্থ হিসেবে রাজধানীর মিরপুরে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘শাক্যমুনি বৌদ্ধ বিহার’। ১৯৯০ সালে এই বিহার কমপ্লেক্সে প্রতিষ্ঠিত হয় দুটি শিশু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—বনফুল শিশু সদন ও বনফুল প্রাথমিক বিদ্যালয়। মূলত এই দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বর্ধিতরূপ হিসেবে সবার সার্বিক সহযোগিতা ও আমার সর্বাত্মক প্রচেষ্টায় বনফুল আদিবাসী ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট কর্তৃক ২০০৪ সালের ৯ জুলাই প্রতিষ্ঠিত হয় ‘বনফুল আদিবাসী গ্রীনহার্ট কলেজ’।

 

শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সম্পর্কে কিছু বলুন।

বর্তমানে বনফুল আদিবাসী গ্রীনহার্ট কলেজে রয়েছে নিবেদিতপ্রাণ ১১৪ জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অভিজ্ঞ শিক্ষক-শিক্ষিকা। বর্তমানে কলেজটির স্কুল ও কলেজ শাখা মিলিয়ে প্রায় দুই হাজার ২৩৭ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। বলে রাখা ভালো, বনফুল আদিবাসী গ্রীনহার্ট কলেজের কোথাও কোনো শাখা বা ক্যাম্পাস নেই। এখানে প্লে-নার্সারি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত জাতীয় শিক্ষাক্রম অনুযায়ী বাংলা ও ইংরেজি ভার্সনে প্রভাতি ও দিবা শাখায় পড়াশোনা করা যায়।

 

অন্য স্কুলগুলোর তুলনায় আপনার স্কুলের বিশেষত্ব কোথায়?

এ প্রতিষ্ঠান আদিবাসী, বাঙালিসহ বহু বর্ণ ও ধর্মের ছাত্র-ছাত্রী ও মানুষের এক অনন্য মিলন তীর্থ। বনফুল আদিবাসী কলেজের রয়েছে ছায়া-সুনিবিড় বিশাল ক্যাম্পাস। যেখানে শিক্ষা ও শিক্ষা-সহায়ক কার্যক্রম ব্যতীত ধূমপান এবং রাজনীতি একেবারেই নিষিদ্ধ। সমগ্র ক্যাম্পাস সার্বক্ষণিক সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকছে। এ ছাড়া কলেজের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় রয়েছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ব্যবহারের নিশ্চয়তা।

 

কেন একজন অভিভাবক তাঁর সন্তানকে আপনার প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করাবেন?

স্কুলজীবনের প্রথম দিন থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত একজন অভিভাবক তাঁর প্রিয় সন্তানের জন্য যে ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিবেচনা করেন, তার সব বৈশিষ্ট্য রয়েছে বনফুল আদিবাসী গ্রীনহার্ট কলেজে। সম্মানিত অভিভাবকদের আমরা একটা বিষয় নিশ্চিত করতে চাই যে আপনার আদরের সন্তানের জন্য সময়োপযোগী ও মানসম্মত আনন্দময় শিক্ষার সব উপাদান রয়েছে এখানে।

 

উচ্চহারে টিউশন ফি আদায় নিয়ে অনেকে অভিযোগ করে থাকেন। এ বিষয়ে আপনাদের অবস্থান কী?

এই কলেজ বনফুল আদিবাসী ফাউন্ডেশন কর্তৃক পরিচালিত একটি অলাভজনক শিক্ষাসেবামূলক প্রতিষ্ঠান। আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের সব নিয়ম মেনে চলি। ফলে এখানে উচ্চহারে টিউশন ফি আদায় বা নিয়মবহির্ভূত অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের কোনো সুযোগ নেই।

 

একাডেমিক পড়াশোনার বাইরে আর কোনো সুযোগ-সুবিধা প্রদান করেন?

আনন্দময় পাঠদানের জন্য সুন্দর শ্রেণিশিক্ষার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রম গুরুত্ববহ। এরূপ বিবেচনায় বনফুল আদিবাসী গ্রীনহার্ট কলেজের খোলামেলা সবুজ চত্বরে শিক্ষার্থীদের ক্লাসপূর্ব প্রাত্যহিক অ্যাসেম্বলি হয়ে থাকে। আদিবাসী কলেজে রয়েছে বিষয়ভিত্তিক বিভিন্ন ক্লাব, যাতে শিক্ষার্থীরা নানাভাবে মেধা যাচাইয়ের সুযোগ পায়। বার্ষিক খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পুরস্কার বিতরণ, বিভিন্ন মেলার আয়োজন এবং প্রতিটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদ্যাপনকালীন নানা আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সহশিক্ষা কার্যক্রমের সুযোগ পায়। শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা প্রসারের জন্য প্রতিবছর শিক্ষণীয় স্টাডি ট্যুরের আয়োজন করা হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা