kalerkantho

শনিবার । ২৫ জানুয়ারি ২০২০। ১১ মাঘ ১৪২৬। ২৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

আমরা শুধু ভালো ফলের জন্য শিক্ষাদান করছি না

৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আমরা শুধু ভালো ফলের জন্য শিক্ষাদান করছি না

স্কুলের শুরু কিভাবে?

ভাষানটেক এলাকা রাজধানীর মধ্যে হওয়া সত্ত্বেও কিছুদিন আগেও নিকট দূরত্বে বেসামরিক মাধ্যমিক স্কুলও ছিল না। এ পরিস্থিতিতে ১৯৮০ সালের ২৭ জানুয়ারি ‘ভাষানটেক জুনিয়র হাই স্কুল’ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

 

এখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে কেমন সম্পর্ক বিদ্যমান?

শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্পর্ক সব সময় বন্ধুসুলভ। শিক্ষকরা শুরুর দিকে খুব বেশি ইফোর্ট দিয়েছেন। বেতনের জন্য নয়, বিদ্যালয়কে প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করতেন। শিক্ষার্থীরাও শুরু থেকেই খুব সুশৃঙ্খল। এককথায় বিদ্যালয়কে সুন্দরভাবে গড়ার জন্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সব সময় প্রাণবন্ত ছিল, আছেও। এ কারণে অল্প সময়ে আমরা একটি স্থানে আসতে পেরেছি। দিন দিন চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থী বেড়েছে, সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষকও বেড়েছে। বর্তমানে স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষকসংখ্যা ৬০ জন। শিক্ষার্থীসংখ্যা দুই হাজার ৩৬২ জন।

 

স্কুল সম্পর্কে কিছু বলুন।

ভাষানটেক স্কুল এন্ড কলেজে দুই শিফটে পড়ানো হয়। প্রভাতি শাখায় মেয়েরা এবং দিবা শাখায় ছেলেরা পড়ালেখা করে।

এরই মধ্যে কলেজের নিজস্ব অর্থে ৪০.৭৪ শতাংশ জায়গা ক্রয় করে বাউন্ডারি করে দ্বিতীয় শাখা খোলা হয়েছে। দ্বিতীয় শাখায় ছয়তলাবিশিষ্ট একটি একাডেমিক ভবন সরকারিভাবে নির্মাণের জন্য টেন্ডার হয়েছে। আরো একটি একতলা ভবন পাঁচতলা পর্যন্ত করার জন্য সরকারিভাবে অনুমোদন হয়েছে। তখনো শিফট হয়তো বাড়ানো হবে না, তবে আরো বেশি শিক্ষার্থীকে আমরা স্থান দিতে পারব। যদিও এখনো আমাদের জায়গার অভাব নেই। বিশাল আয়তনের প্রতিষ্ঠান আমাদের। কিন্তু তখন আমরা আরো কিছু সহশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারব, আরো বৃহৎ পরিসরে।

 

ভাষানটেক স্কুল এন্ড কলেজের স্বকীয় বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানতে চাই।

আমাদের প্রধান স্বকীয়তা বলতে মনে করি, শুধু ভালো ফলের জন্য আমরা শিক্ষাদান করছি না। আমরা মনে করি, একজন শিক্ষার্থীকে হতে হবে মানবিক গুণসম্পন্ন। তাই আমরা নৈতিক শিক্ষা, সহশিক্ষা কার্যক্রম, খেলাধুলা, কাউন্সেলিং—এসবের ওপরও জোর দিয়ে থাকি। স্কুল এন্ড কলেজটি নিরিবিলি পরিবেশ, প্রচুর গাছপালাসমৃদ্ধ এবং কোলাহলমুক্ত, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশে অবস্থিত। বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের বেতন ও বিভিন্ন ফি অন্যান্য বিদ্যালয়ের চেয়ে খুবই কম। কেজি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্র-ছাত্রীদের মাসিক বেতন ৩৬০ থেকে ৪০৫ টাকা। একাদশ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্র-ছাত্রীদের মাসিক বেতন ১০০০ টাকা। সরকার নির্ধারিত টিউশন ফি সাড়ে আট হাজার টাকা। এ বিদ্যালয়ে টিউশন ফি সরকার নির্ধারিত ফির অর্ধেকের কম। ১২টি মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ ও একটি আকর্ষণীয় কম্পিউটার ল্যাব, বিজ্ঞানাগার ও লাইব্রেরি রয়েছে। মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ পরিচালনায় এ বিদ্যালয় উপজেলায় প্রথম স্থানে রয়েছে। প্রতিটি বোর্ড পরীক্ষা—পিএসসি, জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার ফল খুবই সন্তোষজনক।

একাডেমিক পড়াশোনার বাইরে নিয়মিত খেলাধুলা, শিক্ষা সফর, বিভিন্ন দিবস পালন, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, দেয়ালপত্রিকা ও কো-কারিকুলাম কার্যক্রম হয়ে থাকে।

 

আপনাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা?

ভাষানটেক স্কুল এন্ড কলেজটি  নিরিবিলি পরিবেশ, প্রচুর গাছপালাসমৃদ্ধ এবং কোলাহলমুক্ত, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশে অবস্থিত। এর পূর্ব পাশে একটি ডোবা রয়েছে, সেটি ভরাট করে একটি বাগান করার পরিকল্পনা রয়েছে। দ্বিতীয় শাখায় ছয়তলাবিশিষ্ট একাডেমিক ভবন নির্মাণের কাজ শেষ হলে ছেলে ও মেয়েদের আলাদা করা হবে। বর্তমানে অবস্থিত ভবনে মেয়েরা পড়ালেখা করবে। দ্বিতীয় শাখায়  ছেলেদের স্থানান্তরিত করা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা