kalerkantho

শনিবার । ২৫ জানুয়ারি ২০২০। ১১ মাঘ ১৪২৬। ২৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

শিক্ষানীতিতেও আমাদের কনসেপ্টের প্রতিফলন আছে

৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শিক্ষানীতিতেও আমাদের কনসেপ্টের প্রতিফলন আছে

স্কুল অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ (সোডা), কলেজ অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ (কোডা), ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ (ইউডা)’—আপনাদের প্রতিষ্ঠানের এমন নামকরণের কারণ কী?

 

আমি ১৯৭৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স পাস করি। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছেলেদের নিয়ে একটা ছোট সংগঠন করি—ছাত্রকল্যাণ সংস্থা। আমাদের লক্ষ্য ছিল গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সাপোর্ট দেওয়া, যাতে একটা শিক্ষিত জনগোষ্ঠী তৈরি হয়। শুরুতে আমাদের খুব একটা পুঁজি ছিল না। নিজের সামর্থ্যে যতটুকু কুলিয়েছে ততটুকু করেছি। পেশাজীবনে প্রবেশের পর ভাবলাম, এভাবে নয়, কনসেপচুয়াল ওয়েতে এগোতে হবে। তখন কমপ্লিট এডুকেশন ফর অল্টারনেটিভ ডেভেলপমেন্ট (সেফাড) কনসেপ্ট শুরু করলাম। আমরা চেয়েছি শিক্ষার্থীদের আগে মানবিক গুণসম্পন্ন মানুষ হিসেবে তৈরি করতে, পরে তাকে পেশাভিত্তিক জ্ঞান দিতে। এটা হলো সেফাড কনসেপ্ট। এটার প্রক্রিয়া হলো, শিক্ষাব্যবস্থাকে তিন ভাগে ভাগ করে ফেলতে হবে। একটা প্রাইমারি লেভেল ১৪ বছর বয়স পর্যন্ত, এরপর এইচএসসি লেভেল, তারপর উচ্চশিক্ষা। তখন নাম দেওয়া হলো সোডা, কোডা, ইউডা।

 

 

একজন অভিভাবক কেন তাঁর বাচ্চাকে আপনার স্কুলে ভর্তি করাবে?

অভিভাবকরা চান বাচ্চাটা আগে মানুষ হোক, তারপর একটা ভালো রেজাল্ট করুক। আমাদের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা বাচ্চাদের পরম মমতায় শিক্ষা দেন। তাতে দেখা যায়, ওই বাচ্চার আত্মীয়-স্বজনরা পর্যন্ত মুগ্ধ হয়। এভাবে এক অভিভাবকের দেখাদেখি পরে তাঁর আত্মীয়-স্বজনরা তাঁদের বাচ্চাদের এখানে ভর্তি করান। এভাবেই সোডা এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলা-ইংরেজি পৃথক ভার্সনে ছেলে-মেয়েদের আলাদা ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ঢাকা শহরের শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুলের নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থাও আছে। ঢাকার বাইরের শিক্ষার্থীদের জন্য হোস্টেল সুবিধা আছে। আরেকটা বিষয়, ভালো শিক্ষার্থী তৈরির কারিগরদের দক্ষ হতে হয়। মানে আমাদের শিক্ষকরাও দারুণ দক্ষ। এখানে শিক্ষক হিসেবে আবেদন করতে হলে দুটোতে ফার্স্ট ক্লাস থাকতে হবে। দেশপ্রেম, সৃষ্টিশীল, সৃজনশীল এবং লিডারশিপ কোয়ালিটি আছে এমন শিক্ষকদের আমরা নিয়োগের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকি।

 

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে উচ্চহারে টিউশন ফি আদায় নিয়ে অনেকে অভিযোগ করে থাকেন। এ বিষয়ে আপনাদের অবস্থান কী?

শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে সরকারের দেওয়া বিধান আমরা শতভাগ মেনে চলি। ধানমণ্ডির অনেক স্কুলের তুলনায় আমাদের ফি কম। তার ওপর অভিভাবকের আয়ের ভিত্তিতে আমরা বেতন নির্ধারণ করি। স্কলারশিপের সুবিধা তো আছেই। এ ছাড়া কোনো শিক্ষার্থীর অভিভাবকের যদি হঠাৎ আয় কমে যায়, তখন আমরা তাঁর আয় অনুযায়ী ফি নির্ধারণ করে দিই। আমাদের ‘সমতা’ নামে একটা প্রগ্রাম আছে, যেখানে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বিনা খরচে পড়ানো হয়।

 

ভবিষ্যতে আপনাদের লক্ষ্য কী?

আমাদের কারিকুলামটাকে বাস্তবভিত্তিক করতে চাই। সনদপত্রনির্ভর শিক্ষা, ভাষা শিক্ষায় দুর্বলতা, ব্যবহারিক শিক্ষায় ঘাটতির ফলে আমাদের শিক্ষিত যুবকরা অনেকেই বেকার এবং বিশ্ববাজারে পিছিয়ে পড়েছে। তাই বিকল্প হিসেবে আমরা একটি বাস্তবভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলেছি। এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য ও আদর্শ হলো, শৈশব ও কৈশোরকালকে আনন্দময় ও উপভোগ্য করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে শিক্ষার্থীর অভয়ারণ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা, কর্মমুখী মানসিকতা সৃষ্টি করার লক্ষ্যে যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা গ্রহণ করা, একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার উদ্দেশ্যে যোগ্য মানবসম্পদ হিসেবে তৈরি করা, সৎ, পরিশ্রমী, সচেতন, যোগ্য মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য মৌলিক শিক্ষা প্রদান, বয়স এবং মানসিক অবস্থার সঙ্গে ভারসাম্যযুক্ত শিক্ষা প্রদান করা। মূলত পুঁথিগত শিক্ষার পাশাপাশি সামাজিক ও নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে একজন আদর্শ মানুষ তৈরি করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।

ঠিকানা : বাড়ি-২৩, সড়ক-১৪/এ (পুরাতন ২৫), ধানমণ্ডি, ঢাকা।

শ্রুতলিখন :  জুবায়ের আহম্মেদ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা