kalerkantho

শনিবার । ২৫ জানুয়ারি ২০২০। ১১ মাঘ ১৪২৬। ২৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

আমরা শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধ গঠনে বেশি প্রাধান্য দিই

৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আমরা শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধ গঠনে বেশি প্রাধান্য দিই

স্কুলের শুরুর দিকে অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

বাংলাদেশের শিক্ষাঙ্গনে মো. সবুর খান একটি প্রতিষ্ঠিত এবং অতি পরিচিত নাম। তিনি একটি আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার লক্ষ্যে ২০০৯ সালে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। আমাদের উদ্যোক্তা সব সময় ‘চেইন স্কুল প্রগ্রাম’-এর স্বপ্ন দেখে আসছেন। সেই পদক্ষেপের ধারাবাহিকতায় এই প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হয়। নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রথম বছর আমাদের শিক্ষার্থী অনেক কম ছিল। কিন্তু পরের বছরই আমাদের শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে গেল। সে বছরই উত্তরায় আমাদের দ্বিতীয় শাখা খোলা হয়। ২০১৪ সালে আমাদের আরেকটি ইংলিশ ভার্সন স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হয়। তিনটি ভবন নিয়ে এটি স্বতন্ত্রভাবে ধানমণ্ডিতেই এখনো পরিচালিত হচ্ছে।

 

স্কুলের বিশেষত্ব কী?

বর্তমানে তীব্র প্রতিযোগিতার যুগে অভিভাবকরা শুধু ভালো রেজাল্ট চান না, এর পাশাপাশি একজন ভালো মানুষ চান। এ জন্য আমরা শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধ গঠনে বেশি প্রাধান্য দিই। আমরা প্রতিদিন অ্যাসেম্বলি করি শিক্ষার্থীদের নিয়ে। অ্যাসেম্বলির পর প্রতিদিন আলাদা আলাদা বিষয় নিয়ে স্পিচ সেশন থাকে। কোনো একটি বিষয়ে শিক্ষার্থীরা তাদের বক্তব্য পেশ করে। এর মাধ্যমে সামাজিক মূল্যবোধ বিকাশের পাশাপাশি এটি নেতৃত্ব বিকাশেও সহায়ক হয়। আমাদের পাঠদানের ক্ষেত্রে বলাই থাকে শতভাগ সমাধান ক্লাসরুমে দেওয়ার জন্য। তাই আমাদের শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়তে হয় না।

 

আইটি-সংক্রান্ত পড়াশোনায় ড্যাফোডিল অন্যতম। স্কুলের এসংক্রান্ত কার্যক্রম নিয়ে কিছু বলুন।

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল একটি পরিপূর্ণ আইটি বেইসড স্কুল। এ স্কুল তথ্য-প্রযুক্তিতে যতটা অ্যাডভান্স, দেশে খুব বেশি প্রতিষ্ঠান এমন নেই। সরকারিভাবে বা আন্তর্জাতিক উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে দেশে আইটি বিষয়ে যত ধরনের প্রতিযোগিতা হয়, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল সব প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় এবং কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে চলেছে। সর্বশেষ চলতি বছর যে রোবটিকস কম্পিটিশন হলো, সেখানেও আমরা পুরস্কার পেয়েছি। গার্লস গাইড কম্পিটিশনে জাতীয় পর্যায়ে আমাদের স্কুল চ্যাম্পিয়ন। তথ্য-প্রযুক্তির শিক্ষার ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত এবং নামকরা একটি পদ্ধতি হচ্ছে স্টেম ল্যাব। আমরাই প্রথম দেশে স্বয়ংসম্পূর্ণ স্টেম ল্যাব প্রতিষ্ঠা করেছি। স্টেম মানে হচ্ছে এসটিইএম—অর্থাৎ সায়েন্স, টেকনোলজি, ইঞ্জিনিয়ারিং ও ম্যাথমেটিকস। এ চারটি বিষয়ের সমন্বয়ে আমরাই শুধু স্বয়ংসম্পূর্ণ স্টেম ল্যাব প্রতিষ্ঠা করেছি।

 

কো-কারিকুলাম কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাই।

কো-কারিকুলাম (ইসিএ) কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক বিষয় যেমন—নাচ, গান, আবৃত্তি, নাটক ইত্যাদি শিক্ষা প্রদানের জন্য রয়েছে কালচারাল ক্লাব। ভাষা দক্ষতা ও চৌকস শিক্ষার্থী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য রয়েছে ডিবেটিং ক্লাব। এ ছাড়া নানা সাংস্কৃতিক বিষয় জানা ও বিনোদনের জন্য রয়েছে আর্ট অ্যান্ড ক্রাফট ক্লাব। শিক্ষার্থীদের সহায়ক সেবাগুলোর মধ্যে রয়েছে—কাউন্সেলিং, পিয়ার, ওরিয়েন্টেশন, ফলো-আপ ও পেশাগত তথ্যসেবা।

আইটি বিষয়ক শিক্ষার ওপর জোর দিলেও আমরা শিক্ষার্থীদের মধ্যে পড়াশোনার অভ্যাস তৈরি করার প্রতিও জোর দিই। এ লক্ষ্যে আমরা দুটি পাঠাগার স্থাপন করেছি—জুনিয়র ও সিনিয়র পাঠাগার। আমরা ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে ছোটবেলা থেকেই পড়ার অভ্যাস চালু করার চেষ্টা করি। এ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে আগ্রহ বাড়াতে বছর শেষে সেরা পাঠক পুরস্কার দিই।

 

আপনাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

সর্বশেষ জাতিসংঘ শিক্ষা সামিট যেটি হলো মিসরে, সেখানে বাংলাদেশ থেকে যে মাত্র একটি মেয়ে নির্বাচিত হয়, সে আমাদের স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির একজন ছাত্রী। আমরা বৈশ্বিক কোলাবরেশনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করি। এটিকে তারই একটি অংশ বলা যায়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আমরা শিক্ষার্থীদের পাঠাই বিভিন্ন সেমিনার-সিম্পোজিয়ামে অংশ নেওয়ার জন্য। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশকে তারা তুলে ধরছে প্রতিনিয়ত। আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মধ্যে অন্যতম হিসেবে রয়েছে এই বৈশ্বিক কোলাবরেশন কার্যক্রমকে আরো প্রসারিত করা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা